ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:৫১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

সিলেটে চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যার ঘটনায় জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১১ মে) রাতে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তার শাস্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। পরে তার বাড়ি ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা।

জাকিরের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে শিশুটিকে হত্যার বর্ণনা দিতে শোনা যায়।

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জাকির বলেন, ‍“সকাল ১০টা-সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েটিকে দিয়ে দুটি সিগারেট আনাই। তখন আমার ঘর খালি ছিল। আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি ইয়াবা খাই। তখন আমার মধ্যে কেনে যে অতো অমানুষ জাগিয়া উঠল, মেয়েটার প্রতি আমার খারার দৃষ্টি চলে যায়।”

তিনি বলেন, “পরে মেয়েটাকে আমি রেপ (ধর্ষণ) করতে চাইছলাম (চাই), কিন্তু তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয় পেয়ে গলাটিপে মেরে ফেলি। পরে ঘরের সুটকেসের ভেতরে রাখি। দুদিন পর দেখি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবারের মানুষ জেনে যাবে, এই চিন্তায় রাতে লাশ নদীতে ফেলে দেই।”

ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে, ধারণা করা হচ্ছে, রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর থানার ভেতরেই এই ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় জাকিরকে আরো কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদ করতে শোনা গেছে।

এই ভিডওর উৎস সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন সিলেটের জালালাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুজাহিদুল ইসলাম।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, “শিশু হতা মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।”

নিহত শিশু মরদেহ গত শুক্রবার বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এর দুদিন আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। সোমবার রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর হত্যার বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করে পুলিশ।

জালালাবাদ থানার ওসি মুজাহিদুল ইসলাম জানান, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে যৌন নির্যাতন চালিয়ে শিশুটিকে পরে হত্যা করা হয়। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শিশুর মরদেহ ব্যাগে রাখেন জাকির। পরে ওড়নাসহ মরদেহ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেন জাকির।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০১:৫১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

সিএনএমঃ

সিলেটে চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যার ঘটনায় জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১১ মে) রাতে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তার শাস্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। পরে তার বাড়ি ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা।

জাকিরের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে শিশুটিকে হত্যার বর্ণনা দিতে শোনা যায়।

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জাকির বলেন, ‍“সকাল ১০টা-সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েটিকে দিয়ে দুটি সিগারেট আনাই। তখন আমার ঘর খালি ছিল। আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি ইয়াবা খাই। তখন আমার মধ্যে কেনে যে অতো অমানুষ জাগিয়া উঠল, মেয়েটার প্রতি আমার খারার দৃষ্টি চলে যায়।”

তিনি বলেন, “পরে মেয়েটাকে আমি রেপ (ধর্ষণ) করতে চাইছলাম (চাই), কিন্তু তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয় পেয়ে গলাটিপে মেরে ফেলি। পরে ঘরের সুটকেসের ভেতরে রাখি। দুদিন পর দেখি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবারের মানুষ জেনে যাবে, এই চিন্তায় রাতে লাশ নদীতে ফেলে দেই।”

ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে, ধারণা করা হচ্ছে, রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর থানার ভেতরেই এই ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় জাকিরকে আরো কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদ করতে শোনা গেছে।

এই ভিডওর উৎস সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন সিলেটের জালালাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুজাহিদুল ইসলাম।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, “শিশু হতা মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।”

নিহত শিশু মরদেহ গত শুক্রবার বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এর দুদিন আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। সোমবার রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর হত্যার বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করে পুলিশ।

জালালাবাদ থানার ওসি মুজাহিদুল ইসলাম জানান, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে যৌন নির্যাতন চালিয়ে শিশুটিকে পরে হত্যা করা হয়। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শিশুর মরদেহ ব্যাগে রাখেন জাকির। পরে ওড়নাসহ মরদেহ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেন জাকির।