হিউম্যান এন্ড হেল্থ ফাউন্ডেশন নামক মানবাধিকার সংস্থার অনুসন্ধানে এমনি তথ্য উঠে এসেছে। তারা পুংখানুপূংখ ভাবে অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন আকারে অভিযোগ দায়ের করেন। যাত্রাবাড়ি থানার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও যাত্রাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপ-পুলিশ কমিশনার ওয়ারী বিভাগ, ডিএমপি কমিশনার, আইজিপি সহ আরো অনেকের কাছে। আবেদন করার পরেও হোটেলের নানাবিধ অপকর্ম বন্ধ হয় নি।
বেপরোয়া হয়ে পরেছে মাদক ব্যবসায়ীরা হোটেলগুলোতে যে কেউ গিয়ে হাত বাড়ালেই মাদক মিলে। এছাড়া ঐ হোটেলে নারী পাচারকারী চক্র গ্রাম-গঞ্জ হতে বিভিন্ন মেয়েদের নানাবিধ প্রলোভন দেখিয়ে হোটেলে এনে প্রথমে তাদের পাচারকারীরা গণধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে হোটেলের হল রুম নামক বাজারে নবাগত মেয়েদের চড়া দাম হাকিয়ে বাজারে তুলে দেন। ঐ বাজারে খদ্দের সংগ্রহ করতে নারী পাচারকারীরা ভিজিটিং কার্ড বানিয়ে তাতে মোবাইল নাম্বার বসিয়ে রং বে-রং এর কথা লিখে ঐ ভিজিটিং কার্ড পাড়া মহল্লার রাস্তাঘাটে বিলি করে থাকে। ঐ ভিজিটিং কার্ডের সূত্র ধরে স্কুল কলেজে পড়–য়া কিশোর, যুব সমাজ, প্রাপ্ত বয়স্ক খদ্দের ফোন করে হোটেলে ছুটে আসে।
যাত্রাবাবাড়ি থানা এলাকার সায়েদাবাদ রেলগেইট ঘেষে গড়ে ওঠেছে পাঁচটি আবাসিক হোটেল যাহার নাম-গোল্ডেন আবাসিক হোটেল, মিজান আবাসিক হোটেল, সানমুন আবাসিক হোটেল, ছায়ানীড় আবাসিক হোটেল, ডিএমডি আবাসিক হোটেল। সায়েদাবাদ জনপদ মোড়ে জাকির টাওয়ারে বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে এর মধ্যে চরম অপরাধে জড়িয়ে পরেছে রোজ ভিউ আবাসিক হোটেল এর পূর্ব পাশেই রাস্তা পার হলেই চোখে পরে আল হায়াত আবাসিক হোটেল। যাত্রাবাড়ি থানার উল্টো পাশেই তাকালেই চোখে পড়ে ঢাকা টাইমস আবাসিক হোটেল। এছাড়া এই চক্রের ঢাকা সহ বাংলাদেশের বহু জায়গায় নামে বে-নামে নারী ব্যবসার জন্য আবাসিক হোটেল রয়েছে । ফার্মগেটে রয়েছে লাব্বাইক আবাসিক হোটেল।
এই হোটেলগুলোতে দালালরা বিভিন্ন বয়সের শিশু কিশোরী, যুবতী মেয়েদের প্রেম, বিয়ে, চাকুরী দেওয়ার ছলনায় নিয়ে এসে রুমগুলোতে আটক করে এরপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন পূর্বক তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করায়। এ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তার আর রক্ষা থাকে না। হোটেলগুলোতে অনৈতিক অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত ভবন মালিকদেরও আস্কারা আছে বলে ক্রাইম নিউজ মিডিয়ার অনুসন্ধানকালে জানা যায়। আর স্থানীয় যাত্রাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্সেপেক্টর তদন্, ইন্সেপেক্টর অপারেশন, যাত্রাবাড়ি ফাঁড়ির ইনচার্জ এর গোপন সহায়তায় উক্ত হোটেলগুলোতে নারী ব্যবসার পাশা পাশি মাদক কারবার ও জমে উঠেছে। এ বিষয়ে মানবাধিকার পক্ষের ঢাকা জেলা পরিচালক মাকসুদা বেগম, আজ বিজ্ঞ মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা একটি মামলা দায়ের করেছেন। পিটিশন মামলা নং-১৯০/২০২৫, ধারা-মানব পাচার অপরাধ দমন আইনের ৬/৭/১০(১)/১১/১২(১)(২) এর (ক)(খ) এই ধারায় মামলা দায়ের করলে আদালত যাত্রাবাড়ি থানাকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। বাদিনী পিটিশন মামলায় তিনি বেশ কিছু ভিকটিম নারী পাচারকারী হোটেল দালালদের কাছে হোটেলগুলোতে আটক রয়েছে। এর আগে ঐ ভিকটিমের মেয়ে তাকেও এই দালালরা প্রেমের প্রলোভনে নিয়ে পাচার করে হোটেলগুলোর বাজারে তার মেয়েকেও উঠিয়েছিলেন। ঐ ঘটনায় মতিঝিল থানার পুলিশ তার মেয়েকে উদ্ধার করলেও বহু মেয়ে এখনও হোটেলগুলোর বন্দি শালার টর্চার সেলে নারী পাচারকারীদের কাছে জিম্মি রয়েছে। মাকসুদা মামলায় সায়েদাবাদ মিজান, অজ্ঞাতনামা সহ প্রায় ৫১ জন পাচারকারীর নামে মামলা দায়ের করেছেন। বাদীনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার মেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।
আমার মেয়ে উদ্ধার হলেও, এখন দালালদের কাছে প্রায় অর্ধ-শত নারী বন্দি রয়েছে। ঐ মেয়েরা পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চাইলেও দালালদের হাত শক্তিশালী হওয়ায় ফিরে যেতে পারে না। আমি আজকে মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষে মামলা দায়ের করেছি।
আমি চাই ঐ মেয়েদের পরিবারের কাছে ফিরে যাক। আর পাচারকারীদের বিচারের আওতায় আনা হউক। তবে হোটেলগুলোর হোল্ডিং মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় থানা পাচারকারীদের নিয়ন্ত্রনে ম্যানেজ থাকায় নির্ভয়ে, নিদ্বিধায় আবাসিক হোটেল প্রতিষ্ঠা করিয়া ভাড়াটিয়া মালিক দাললরা এ সকল অপকর্ম করে যাচ্ছে। কোন ভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না।
এ সকল অপকর্মের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় আইন শৃঙ্খলাবাহিনী জড়িত বলে জানান।
আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা যদি সৎ ও তাদের কর্ম দায়িত্ব নিয়ে সঠিক ভাবে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনের এবং জনসাধারণের শান্তি, শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করত তাহলে এ ধরনের অপকর্ম তো দূরের কথা কেউ সাহস করত না। এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ইন্সেপেক্টর তদন্ত, ইন্সেপেক্টর অপারেশন, যাত্রাবাড়ি ফাঁড়ির ইনচার্জ তাদের ফোন করলে পাওয়া না যাওয়ায় তাদের বক্তব্য জানা যায় নি।
Reporter Name 






















