ঢাকা ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জটিল রোগের অনুদানের চেক আসার আগেই ৩২ রোগীর মৃত্যু

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৫:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুন ২০২২
  • ২৩২ বার পড়া হয়েছে

সরকার প্রতিবছরই ছয়টি জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে। এর মধ্যে ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগীকে চিকিৎসা ব্যয় দেওয়া হয়।

সম্প্রতি নীলফামারীর ছয় উপজেলায় জেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে ২০২ জন রোগীকে ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু এই সহায়তার চেক তাদের হাতে আসার আগেই দুনিয়া থেকে বিদায় নেন ৩২ জন রোগী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীলফামারীর ছয় উপজেলায় চলতি অর্থবছরে দুরারোগ্য রোগীদের আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে ২০২ জনের নামে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তার চেক অনুমোদন করে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এই চেকগুলো গত মে মাসের ১৫ থেকে ২৪ তারিখে জেলার ছয় উপজেলায় রোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। কিন্তু ওই চেক আসার আগেই সদর উপজেলার ৭ জন, সৈয়দপুরে ৮ জন, ডিমলায় ৮ জন, কিশোরগঞ্জে ২ জন, ডোমারে ২ জন ও জলঢাকা উপজেলায় ৫ জন মৃত্যুবরণ করেন।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার পশ্চিম বেলপুকুর এলাকার প্রয়াত ছকি মামুদের স্ত্রী আবেজা খাতুন দীর্ঘদিন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে এক মাস আগে মৃত্যুবরণ করেন।

তার মেয়েজামাই টগর আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার শাশুড়ির চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হইছে। টাকা না থাকায় শেষ সময় সুচিকিৎসা না পেয়ে তিনি মারা যান। উপজেলায় আবেদন করেছিলাম। সেই অনুদানের চেক আসতে আসতে উনি মারা গেলেন। ওনার চিকিৎসার জন্য আমাদের জমি-বাড়ি বিক্রি করাসহ অনেক ধার-দেনা হয়েছে, এখনো শোধ করতে পারি নাই। সরকার থেকে যে টাকাটা বরাদ্দ হয়েছে, সেটা পেলে পরিবারের অনেকটা উপকার হবে।

সৈয়দপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, নীলফামারী সদরে ৭ জন ও সৈয়দপুর উপজেলায় ৮ জন রোগী সরকারি অনুদান পাওয়ার আগেই মারা যায়। যেহেতু চেকগুলো রোগীদের নামে ইস্যু হয়ে থাকে, তাই তাদের পরিবারের কেউ এই চেকের মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবে না। সে জন্য আমরা নতুন করে মৃত্যুবরণকারী রোগীর নমিনিদের নামে চেক ইস্যুর জন্য আবেদন গ্রহণ করছি। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নমিনির নামে চেক প্রদান করা হবে।

এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এমদাদুল হক প্রামাণিক ঢাকা পোস্টকে বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে মারা যাওয়া রোগীর স্বজনদের নমিনি করে নতুন করে চেক ইস্যু করে প্রদান করা হবে। আমরা প্রতিটি উপজেলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মনিটরিং সেল গঠন করব, যাতে এসব রোগীর সার্বিক বিষয়ে জানতে পারি। অধিক অসুস্থ রোগীদের তথ্য পেলে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিতে পারব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জটিল রোগের অনুদানের চেক আসার আগেই ৩২ রোগীর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৫:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুন ২০২২

সরকার প্রতিবছরই ছয়টি জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে। এর মধ্যে ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগীকে চিকিৎসা ব্যয় দেওয়া হয়।

সম্প্রতি নীলফামারীর ছয় উপজেলায় জেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে ২০২ জন রোগীকে ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু এই সহায়তার চেক তাদের হাতে আসার আগেই দুনিয়া থেকে বিদায় নেন ৩২ জন রোগী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীলফামারীর ছয় উপজেলায় চলতি অর্থবছরে দুরারোগ্য রোগীদের আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে ২০২ জনের নামে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তার চেক অনুমোদন করে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এই চেকগুলো গত মে মাসের ১৫ থেকে ২৪ তারিখে জেলার ছয় উপজেলায় রোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। কিন্তু ওই চেক আসার আগেই সদর উপজেলার ৭ জন, সৈয়দপুরে ৮ জন, ডিমলায় ৮ জন, কিশোরগঞ্জে ২ জন, ডোমারে ২ জন ও জলঢাকা উপজেলায় ৫ জন মৃত্যুবরণ করেন।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার পশ্চিম বেলপুকুর এলাকার প্রয়াত ছকি মামুদের স্ত্রী আবেজা খাতুন দীর্ঘদিন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে এক মাস আগে মৃত্যুবরণ করেন।

তার মেয়েজামাই টগর আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার শাশুড়ির চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হইছে। টাকা না থাকায় শেষ সময় সুচিকিৎসা না পেয়ে তিনি মারা যান। উপজেলায় আবেদন করেছিলাম। সেই অনুদানের চেক আসতে আসতে উনি মারা গেলেন। ওনার চিকিৎসার জন্য আমাদের জমি-বাড়ি বিক্রি করাসহ অনেক ধার-দেনা হয়েছে, এখনো শোধ করতে পারি নাই। সরকার থেকে যে টাকাটা বরাদ্দ হয়েছে, সেটা পেলে পরিবারের অনেকটা উপকার হবে।

সৈয়দপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, নীলফামারী সদরে ৭ জন ও সৈয়দপুর উপজেলায় ৮ জন রোগী সরকারি অনুদান পাওয়ার আগেই মারা যায়। যেহেতু চেকগুলো রোগীদের নামে ইস্যু হয়ে থাকে, তাই তাদের পরিবারের কেউ এই চেকের মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবে না। সে জন্য আমরা নতুন করে মৃত্যুবরণকারী রোগীর নমিনিদের নামে চেক ইস্যুর জন্য আবেদন গ্রহণ করছি। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নমিনির নামে চেক প্রদান করা হবে।

এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এমদাদুল হক প্রামাণিক ঢাকা পোস্টকে বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে মারা যাওয়া রোগীর স্বজনদের নমিনি করে নতুন করে চেক ইস্যু করে প্রদান করা হবে। আমরা প্রতিটি উপজেলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মনিটরিং সেল গঠন করব, যাতে এসব রোগীর সার্বিক বিষয়ে জানতে পারি। অধিক অসুস্থ রোগীদের তথ্য পেলে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিতে পারব।