ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্মপাশায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২
  • ৩৩৯ বার পড়া হয়েছে
সুনাগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের ধুবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দানিছুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৫ মে) বিকেল সাড়ে তিনটায় ওই ছাত্রীর মা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে জানা যায়, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে ৩ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। টিফিন চলাকালীন সময় দুই জন শিক্ষার্থী দুুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে চলে যায়। ওই সময় ভুক্তভোগী ছাত্রী একাই শ্রেণিকক্ষে ছিল। ওই ছাত্রী যখন শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হতে চায়, তখন ওই শিক্ষক দানিছুর রহমান শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়ে তাকে পড়ানোর অজুহাতে একটি বই চায়। ছাত্রী বই নিয়ে শিক্ষকের কাছে গেলে শিক্ষক ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। এসময় ওই ছাত্রী কৌশলে শিক্ষকের কাছ থেকে ছুটে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়।
পরে ছাত্রীর মা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানালে তিনি আবার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে জানাতে বলেন। এরপর ছাত্রীর মা বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে অবগত করলেও কোনো প্রতিকার পায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসীকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এদিকে বুধবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষকের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় খোলার সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন অন্য শিক্ষকরা।
অভিযুক্ত শিক্ষক দানিছুর রহমান চৌধুীর বলেন, ‘চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন ক্লাসে ছিল। আর দুজন গোসল করতে চলে যায়। অভিযোগকারী ছাত্রীকে টান দিয়ে এনে থাপা (থাপ্পর ) দিয়ে বলেছি আমি তোদের মারি না শাসনও করি। পরে ছাত্রীকে অন্য শিক্ষার্থীদের আনতে বলি।’
প্রধান শিক্ষক মন্মথ চন্দ্র তালুকদার বলেন, ‘আমার শিক্ষক বলেছেন তিনি ছাত্রীকে শাসন করেছেন আর ছাত্রীর পরিবার বলছে ছাত্রীকে হেনস্তা করা হয়েছে।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, ‘ওই শিক্ষক ছাত্রীর শরীরে স্পর্শ করে থাকলে শিক্ষককে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।’ তিনি বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া বিষয়টি সামাজিকভাবে শেষ করবেন বলে দায়িত্ব নেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

ধর্মপাশায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২
সুনাগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের ধুবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দানিছুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৫ মে) বিকেল সাড়ে তিনটায় ওই ছাত্রীর মা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে জানা যায়, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে ৩ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। টিফিন চলাকালীন সময় দুই জন শিক্ষার্থী দুুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে চলে যায়। ওই সময় ভুক্তভোগী ছাত্রী একাই শ্রেণিকক্ষে ছিল। ওই ছাত্রী যখন শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হতে চায়, তখন ওই শিক্ষক দানিছুর রহমান শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়ে তাকে পড়ানোর অজুহাতে একটি বই চায়। ছাত্রী বই নিয়ে শিক্ষকের কাছে গেলে শিক্ষক ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। এসময় ওই ছাত্রী কৌশলে শিক্ষকের কাছ থেকে ছুটে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়।
পরে ছাত্রীর মা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানালে তিনি আবার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে জানাতে বলেন। এরপর ছাত্রীর মা বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে অবগত করলেও কোনো প্রতিকার পায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসীকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এদিকে বুধবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষকের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় খোলার সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন অন্য শিক্ষকরা।
অভিযুক্ত শিক্ষক দানিছুর রহমান চৌধুীর বলেন, ‘চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন ক্লাসে ছিল। আর দুজন গোসল করতে চলে যায়। অভিযোগকারী ছাত্রীকে টান দিয়ে এনে থাপা (থাপ্পর ) দিয়ে বলেছি আমি তোদের মারি না শাসনও করি। পরে ছাত্রীকে অন্য শিক্ষার্থীদের আনতে বলি।’
প্রধান শিক্ষক মন্মথ চন্দ্র তালুকদার বলেন, ‘আমার শিক্ষক বলেছেন তিনি ছাত্রীকে শাসন করেছেন আর ছাত্রীর পরিবার বলছে ছাত্রীকে হেনস্তা করা হয়েছে।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, ‘ওই শিক্ষক ছাত্রীর শরীরে স্পর্শ করে থাকলে শিক্ষককে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।’ তিনি বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া বিষয়টি সামাজিকভাবে শেষ করবেন বলে দায়িত্ব নেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।