ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলছাত্রকে গোবর খাইয়ে নির্যাতন : মামলা করে বিপদে পরিবার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মে ২০২২
  • ২৩৭ বার পড়া হয়েছে

ইনসার্টে অভিযুক্ত মাহমুদ আরেফিন চৌধুরী নবাব

নীলফামারীতে টিকিট ছাড়া বিনোদনকেন্দ্রে ঢোকার কারণে স্কুলছাত্রকে গোবর খাইয়ে নির্যাতনের ঘটনায় মামলার ১৩ দিনেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে মামলার পর থেকে নানাভাবে হেয়প্রতিপন্নসহ হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্ত ব্যক্তির লোকজন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার।

তবে পুলিশ বলছে, আসামিকে ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ  বলেন, আসামি পলাতক আছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, মামলার রেকর্ড হওয়ার প্রায় ১৩ দিন হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তার হননি। পুলিশের কোনো তৎপরতাও দেখতে পাননি তিনি। কেন গ্রেপ্তার হচ্ছেন না, এ বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেন আঁখি আক্তার। এ সময় পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আসামি গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের কঠোর শাস্তির দাবি করেন তিনি।

এদিকে সমাজে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সিয়াম। সহপাঠীরা বলছে, কয়েক দিন ধরেই স্কুলে যায়নি সে। কথাও বলছে না কারও সঙ্গে। এর আগে লাঞ্ছিত হওয়ার অপমান ঘোচাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী।

এমন অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সহপাঠীরা।

অভিযোগপত্র থেকে যা জানা যায়
গত ৮ মে (রোববার) বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে শহরের দরবেশ পাড়া এলাকার ওই বাগানবাড়িতে যায় সিয়াম। তার ছয় বন্ধু টিকিট কেটে প্রবেশ করলেও প্রাচীর টপকে ভেতরে লুকিয়ে প্রবেশ করে সিয়াম। অনুমতি ছাড়া পার্কে প্রবেশ করায় তাকে ডেকে নিয়ে প্রথমে মারধর করেন অভিযুক্ত মাহমুদ আরেফিন চৌধুরী নবাব। পরে পার্কের ভেতরে একটি গরু রাখার ঘরে নিয়ে গোবর ও প্রস্রাবমিশ্রিত পানি জোর করে খাওয়ান। পরে বিষয়টি বাইরে কারও কাছে বললে ইলেকট্রিক শক দিয়ে মারার হুমকি দেন।

ভয়ে নির্যাতনের বিষয়টি কাউকে না বলে পরের দিন সিয়াম স্কুলে গেলে বন্ধুরা গোবর ও প্রস্রাব খাওয়ার বিষয়ে হাসাহাসি করলে বাড়িতে এসে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে। এতে অজ্ঞান হয়ে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে তাকে নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রের মা বাদী হয়ে ৯ মে রাতে নীলফামারীর সদরের মুক্তা ফিলিং স্টেশনের মালিক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহমুদ আরেফিন চৌধুরী নবাবকে অভিযুক্ত করে নীলফামারী সদর থানায় অভিযোগ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

স্কুলছাত্রকে গোবর খাইয়ে নির্যাতন : মামলা করে বিপদে পরিবার

আপডেট সময় ০১:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মে ২০২২

ইনসার্টে অভিযুক্ত মাহমুদ আরেফিন চৌধুরী নবাব

নীলফামারীতে টিকিট ছাড়া বিনোদনকেন্দ্রে ঢোকার কারণে স্কুলছাত্রকে গোবর খাইয়ে নির্যাতনের ঘটনায় মামলার ১৩ দিনেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে মামলার পর থেকে নানাভাবে হেয়প্রতিপন্নসহ হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্ত ব্যক্তির লোকজন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার।

তবে পুলিশ বলছে, আসামিকে ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ  বলেন, আসামি পলাতক আছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, মামলার রেকর্ড হওয়ার প্রায় ১৩ দিন হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তার হননি। পুলিশের কোনো তৎপরতাও দেখতে পাননি তিনি। কেন গ্রেপ্তার হচ্ছেন না, এ বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেন আঁখি আক্তার। এ সময় পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আসামি গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের কঠোর শাস্তির দাবি করেন তিনি।

এদিকে সমাজে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সিয়াম। সহপাঠীরা বলছে, কয়েক দিন ধরেই স্কুলে যায়নি সে। কথাও বলছে না কারও সঙ্গে। এর আগে লাঞ্ছিত হওয়ার অপমান ঘোচাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী।

এমন অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সহপাঠীরা।

অভিযোগপত্র থেকে যা জানা যায়
গত ৮ মে (রোববার) বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে শহরের দরবেশ পাড়া এলাকার ওই বাগানবাড়িতে যায় সিয়াম। তার ছয় বন্ধু টিকিট কেটে প্রবেশ করলেও প্রাচীর টপকে ভেতরে লুকিয়ে প্রবেশ করে সিয়াম। অনুমতি ছাড়া পার্কে প্রবেশ করায় তাকে ডেকে নিয়ে প্রথমে মারধর করেন অভিযুক্ত মাহমুদ আরেফিন চৌধুরী নবাব। পরে পার্কের ভেতরে একটি গরু রাখার ঘরে নিয়ে গোবর ও প্রস্রাবমিশ্রিত পানি জোর করে খাওয়ান। পরে বিষয়টি বাইরে কারও কাছে বললে ইলেকট্রিক শক দিয়ে মারার হুমকি দেন।

ভয়ে নির্যাতনের বিষয়টি কাউকে না বলে পরের দিন সিয়াম স্কুলে গেলে বন্ধুরা গোবর ও প্রস্রাব খাওয়ার বিষয়ে হাসাহাসি করলে বাড়িতে এসে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে। এতে অজ্ঞান হয়ে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে তাকে নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রের মা বাদী হয়ে ৯ মে রাতে নীলফামারীর সদরের মুক্তা ফিলিং স্টেশনের মালিক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহমুদ আরেফিন চৌধুরী নবাবকে অভিযুক্ত করে নীলফামারী সদর থানায় অভিযোগ করেন।