ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রেলের মালামাল নিলামে বিক্রির নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৪

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:২১:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ মার্চ ২০২২
  • ২৭৪ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ে কারখানার রেডিওটারের মালামাল দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বগুড়ার এক ব্যবসায়ীর সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সৈয়দপুর থানা পুলিশ। তবে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন— সৈয়দপুর শহরের কয়াগোলাহাট দক্ষিণপাড়ার মৃত সাখাতউল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ আলম (৫৯) ও সাহেবপাড়ার মৃত আলী আহম্মদের ছেলে মনিরুল ইসলাম (৬০), লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার চর চামিতা মিন্ত্রিপাড়ার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল গফুর (৬৪) ও একই উপজেলার আলাদাতপুর দরবেশবাড়ীর মো. দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে হামিদুর রহমান (৬৯)।

এরপর ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি সৈয়দপুর বাস টার্মিনালে তাদের রিসিভ করে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার এক নম্বর গেটে নিয়ে যান। সেখানে তাদের সঙ্গে আলম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ভেতরে নিয়ে রেডিওটারের মালামাল দেখান। পরবর্তীতে মালামালের দরদাম ঠিক করার জন্য অন্য এক অজ্ঞাত ব্যক্তি কাছে নিয়ে যায় আলম। সেখানে মালামালের ওজন পাঁচ টন এবং মূল্য সাড়ে ৯ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর মালামালের অগ্রীম বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে অজ্ঞাত ব্যক্তি। এ অবস্থায় বগুড়ার ব্যবসায়ী তামজীদ সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে তৎক্ষণাৎ নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। আর ৪০ হাজার টাকা কয়েকটি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে প্রদান করেন।

এরপর বগুড়ার ব্যবসায়ী তামজীদ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে এসে অজ্ঞাত ব্যক্তির কথা মতো তার হাতে তুলে দেন। এ সময় তাদের অজ্ঞাত ব্যক্তিরা একটি সাদা মাইক্রোবাসে তাদের নিয়ে ব্যাংক ড্রাফট ও গেট পাস করার কথা বলে কৌশলে ব্যবসায়ী তামজীদ ও তার সঙ্গীকে পথে নামিয়ে দেয়। এ সময় তাদের সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার স্টোর গেটের সামনে যেতে বলে। পরে তারা ব্যবসায়ী তামজীদের সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে মাইক্রোবাসযোগে সটকে পড়েন। এ অবস্থায় প্রতারণা শিকার বগুড়ার ব্যবসায়ী নিরুপায় হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কোনো খোঁজ-খবর না পেয়ে সৈয়দপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগ পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মোহাম্মদ আলম ও মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেন। আদালত গ্রেপ্তারদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তারা জিজ্ঞাসাবাদে লক্ষ্মীপুরের আব্দুল গফুর ও হামিদুর রহমানের এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনছার আলীর নেতৃত্বে পুলিশ গত বুধবার (১৬ মার্চ) লক্ষ্মীপুর গিয়ে সেখানকার পুলিশের সহযোগিতায় তাদের দুই জনকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার তাদের সৈয়দপুর থানায় নিয়ে এসে আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

রেলের মালামাল নিলামে বিক্রির নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৪

আপডেট সময় ০৩:২১:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ মার্চ ২০২২

নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ে কারখানার রেডিওটারের মালামাল দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বগুড়ার এক ব্যবসায়ীর সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সৈয়দপুর থানা পুলিশ। তবে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন— সৈয়দপুর শহরের কয়াগোলাহাট দক্ষিণপাড়ার মৃত সাখাতউল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ আলম (৫৯) ও সাহেবপাড়ার মৃত আলী আহম্মদের ছেলে মনিরুল ইসলাম (৬০), লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার চর চামিতা মিন্ত্রিপাড়ার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল গফুর (৬৪) ও একই উপজেলার আলাদাতপুর দরবেশবাড়ীর মো. দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে হামিদুর রহমান (৬৯)।

এরপর ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি সৈয়দপুর বাস টার্মিনালে তাদের রিসিভ করে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার এক নম্বর গেটে নিয়ে যান। সেখানে তাদের সঙ্গে আলম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ভেতরে নিয়ে রেডিওটারের মালামাল দেখান। পরবর্তীতে মালামালের দরদাম ঠিক করার জন্য অন্য এক অজ্ঞাত ব্যক্তি কাছে নিয়ে যায় আলম। সেখানে মালামালের ওজন পাঁচ টন এবং মূল্য সাড়ে ৯ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর মালামালের অগ্রীম বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে অজ্ঞাত ব্যক্তি। এ অবস্থায় বগুড়ার ব্যবসায়ী তামজীদ সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে তৎক্ষণাৎ নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। আর ৪০ হাজার টাকা কয়েকটি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে প্রদান করেন।

এরপর বগুড়ার ব্যবসায়ী তামজীদ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে এসে অজ্ঞাত ব্যক্তির কথা মতো তার হাতে তুলে দেন। এ সময় তাদের অজ্ঞাত ব্যক্তিরা একটি সাদা মাইক্রোবাসে তাদের নিয়ে ব্যাংক ড্রাফট ও গেট পাস করার কথা বলে কৌশলে ব্যবসায়ী তামজীদ ও তার সঙ্গীকে পথে নামিয়ে দেয়। এ সময় তাদের সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার স্টোর গেটের সামনে যেতে বলে। পরে তারা ব্যবসায়ী তামজীদের সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে মাইক্রোবাসযোগে সটকে পড়েন। এ অবস্থায় প্রতারণা শিকার বগুড়ার ব্যবসায়ী নিরুপায় হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কোনো খোঁজ-খবর না পেয়ে সৈয়দপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগ পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মোহাম্মদ আলম ও মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেন। আদালত গ্রেপ্তারদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তারা জিজ্ঞাসাবাদে লক্ষ্মীপুরের আব্দুল গফুর ও হামিদুর রহমানের এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনছার আলীর নেতৃত্বে পুলিশ গত বুধবার (১৬ মার্চ) লক্ষ্মীপুর গিয়ে সেখানকার পুলিশের সহযোগিতায় তাদের দুই জনকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার তাদের সৈয়দপুর থানায় নিয়ে এসে আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়।