ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস-সংকটে ২০ কারখানার শ্রমিকদের ছুটি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের ২০টি শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলে তাদের ধাপে ধাপে ছুটি দেয়া হয়।বিকেলে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভালুকা পৌর এলাকা বা গ্যাস অফিসের আশপাশের কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কিছুটা থাকলেও দূরবর্তী কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ একেবারে নেই।

শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের অভাবে আজ সকালে শ্রমিকেরা কারখানায় এলেও ২০টি কারখানার শ্রমিকদের দুপুরের খাবারের সময় (লাঞ্চ টাইম) পর্যন্ত ধাপে ধাপে ছুটি দিয়ে দিতে হয়েছে। বাকি কারখানাগুলোতেও উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে ক্রমশই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এই গ্যাস সংকট। চাহিদামতো গ্যাসের চাপ (প্রেসার) না থাকায় একের পর এক কারখানার উৎপাদন থমকে যেতে বসেছে। কোনো কোনো কারখানায় অর্ধেকেরও বেশি মেশিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকেরা। সার্বিকভাবে এ অঞ্চলের প্রধান শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৫ (ময়মনসিংহ ইউনিট)-এর নথিপত্র অনুযায়ী, এ অঞ্চলে মোট ২৯৩টি শিল্পকারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসে পরিচালিত। বর্তমানে এসব কারখানার প্রায় প্রতিটিই গ্যাসের তীব্র সংকটে ভুগছে। জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল, ফলে সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

শিল্প পুলিশের তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্যাস সংকটে সবচেয়ে করুণ অবস্থায় পড়েছে টেক্সটাইল ও সুতা তৈরির স্পিনিং মিলগুলো। গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে মোট ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ রাখতে হয়েছে; কারখানা কর্তৃপক্ষ মাত্র ৭টি মেশিন পিডিবি বিদ্যুতের মাধ্যমে সচল রাখতে পেরেছেন।

ভালুকায় সীমা স্পিনিং মিলসে। গ্যাসের সংকট থাকায় তাদের ৩০টি মেশিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে সার্বিক উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমে গেছে। এ ছাড়া বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেল্টা স্পিনার্সে উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি হ্রাস পেয়েছে। এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ না থাকায় ৪০ শতাংশ মেশিন অচল হয়ে পড়েছে। সিরামিক খাতের এক্সিলেন্ট সিরামিকসে ফার্নেস বন্ধ থাকায় উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকের নিচে।

এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলের শ্রমিকরা বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে কাজ অনেক কমে গেছে। সব মেশিন এক সাথে চলছে না। আমাদের বাসা বাড়িতেও গ্যাস সংকট রয়েছে। যার কারণে রান্না-বান্না ব্যাহত হচ্ছে।

শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল বলেন, সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। কারখানাগুলো সাধারণত বিকেল ৫ থেকে ৬টা পর্যন্ত চলে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুপুরের খাবারের সময়ে মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল, বিএসপি স্পিনিং মিলসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে। তবে তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিকেল ৫টার পর গ্যাসের চাপ বাড়বে, সে সময় অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হয়তো উৎপাদন চালাতে পারবে।

গ্যাস সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও কর্মী ছুটি দেওয়া প্রসঙ্গে ভালুকা এলাকার গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ইউটিলিটি বিভাগের ব্যবস্থাপক সোহেল আহাম্মেদ বলেন, প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে গ্যাসের চাপ কম। কারখানায় গ্যাসের ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে ১১ থেকে ১২ পিএসআই। এতে আমাদের উৎপাদন প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমেছে।

গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ময়মনসিংহের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন বলেন, ভালুকা এলাকার জন্য ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস। সরবরাহ কম পাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে, এভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

গ্যাস-সংকটে ২০ কারখানার শ্রমিকদের ছুটি

আপডেট সময় ০৭:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

সিএনএমঃ

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের ২০টি শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলে তাদের ধাপে ধাপে ছুটি দেয়া হয়।বিকেলে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভালুকা পৌর এলাকা বা গ্যাস অফিসের আশপাশের কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কিছুটা থাকলেও দূরবর্তী কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ একেবারে নেই।

শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের অভাবে আজ সকালে শ্রমিকেরা কারখানায় এলেও ২০টি কারখানার শ্রমিকদের দুপুরের খাবারের সময় (লাঞ্চ টাইম) পর্যন্ত ধাপে ধাপে ছুটি দিয়ে দিতে হয়েছে। বাকি কারখানাগুলোতেও উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে ক্রমশই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এই গ্যাস সংকট। চাহিদামতো গ্যাসের চাপ (প্রেসার) না থাকায় একের পর এক কারখানার উৎপাদন থমকে যেতে বসেছে। কোনো কোনো কারখানায় অর্ধেকেরও বেশি মেশিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকেরা। সার্বিকভাবে এ অঞ্চলের প্রধান শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৫ (ময়মনসিংহ ইউনিট)-এর নথিপত্র অনুযায়ী, এ অঞ্চলে মোট ২৯৩টি শিল্পকারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসে পরিচালিত। বর্তমানে এসব কারখানার প্রায় প্রতিটিই গ্যাসের তীব্র সংকটে ভুগছে। জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল, ফলে সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

শিল্প পুলিশের তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্যাস সংকটে সবচেয়ে করুণ অবস্থায় পড়েছে টেক্সটাইল ও সুতা তৈরির স্পিনিং মিলগুলো। গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে মোট ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ রাখতে হয়েছে; কারখানা কর্তৃপক্ষ মাত্র ৭টি মেশিন পিডিবি বিদ্যুতের মাধ্যমে সচল রাখতে পেরেছেন।

ভালুকায় সীমা স্পিনিং মিলসে। গ্যাসের সংকট থাকায় তাদের ৩০টি মেশিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে সার্বিক উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমে গেছে। এ ছাড়া বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেল্টা স্পিনার্সে উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি হ্রাস পেয়েছে। এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ না থাকায় ৪০ শতাংশ মেশিন অচল হয়ে পড়েছে। সিরামিক খাতের এক্সিলেন্ট সিরামিকসে ফার্নেস বন্ধ থাকায় উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকের নিচে।

এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলের শ্রমিকরা বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে কাজ অনেক কমে গেছে। সব মেশিন এক সাথে চলছে না। আমাদের বাসা বাড়িতেও গ্যাস সংকট রয়েছে। যার কারণে রান্না-বান্না ব্যাহত হচ্ছে।

শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল বলেন, সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। কারখানাগুলো সাধারণত বিকেল ৫ থেকে ৬টা পর্যন্ত চলে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুপুরের খাবারের সময়ে মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল, বিএসপি স্পিনিং মিলসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে। তবে তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিকেল ৫টার পর গ্যাসের চাপ বাড়বে, সে সময় অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হয়তো উৎপাদন চালাতে পারবে।

গ্যাস সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও কর্মী ছুটি দেওয়া প্রসঙ্গে ভালুকা এলাকার গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ইউটিলিটি বিভাগের ব্যবস্থাপক সোহেল আহাম্মেদ বলেন, প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে গ্যাসের চাপ কম। কারখানায় গ্যাসের ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে ১১ থেকে ১২ পিএসআই। এতে আমাদের উৎপাদন প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমেছে।

গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ময়মনসিংহের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন বলেন, ভালুকা এলাকার জন্য ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস। সরবরাহ কম পাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে, এভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।