ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:২১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৬২ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র পাল্টা জবাব হিসেবে এবার বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে একযোগে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে চালানো এই বিশেষ প্রতিশোধমূলক অপারেশনের এটি ছিল পঞ্চম ধাপ (ফিফথ ফেজ)।

সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি এই দাবি করেছে। এই হামলার পর ওমানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সে দেশে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের জন্য জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।

মার্কিন অবকাঠামো ও রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি:

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে জানায়, বাহরাইনের জুফাইর এলাকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ “স্থাপনা ও অবকাঠামো” লক্ষ্য করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই সাথে ওমানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহাআরাধীন ‘এফপিএস দূরপাল্লার আকাশ নজরদারি রাডার’ এবং ‘জাহাজ শনাক্তকারী রাডার’ লক্ষ্য করে বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়েছে। ইরান জোরালো দাবি করেছে যে, ওমানে আঘাত হানা সেই মার্কিন রাডারগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে তাদের বাহিনী।

জ্বালানি সংকটের হুঁশিয়ারি:

হামলার পাশাপাশি ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আইআরজিসি বলেছে, ‘কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার একমাত্র উপায় হলো—এই জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের আগ্রাসী সামরিক হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিজস্ব সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা।’ তারা আরও সতর্ক করে বলে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অঞ্চলে নিজেদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তবে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের তেল ও গ্যাস খাতে আরও বড় এবং নজিরবিহীন সংকট তৈরি হবে।’

ওমানে মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কতা:

এদিকে ওমানের মার্কিন রাডার ধ্বংসের দাবির পরপরই ওমানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটিতে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সুরক্ষায় জরুরি বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে ওমানের দুকম (Duqm) শহর বা মুসানদাম (Musandam) গভর্নরেটে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আপাতত যে যেখানে আছেন, সেখানেই নিরাপদে (শেল্টার-ইন-প্লেস) অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন দূতাবাস জানায়:

“আপনি যদি বর্তমানে দুকম বা মুসানদামে অবস্থান করে থাকেন, তবে সম্ভব হলে নিজের বাসা, হোটেল বা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনের ভেতরেই থাকুন এবং সমস্ত জানালা থেকে দূরে অবস্থান করুন।”

দূতাবাস আরও স্পষ্ট করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি তারা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে প্রয়োজনীয় হালনাগাদ তথ্য মার্কিন নাগরিকদের নিয়মিত জানানো হবে। এছাড়া, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যারা এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে চান, তাদের জন্য সম্ভাব্য বিমান বা বিকল্প যাত্রা নিশ্চিত করতে মার্কিন সরকার সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

বার্তায় আরও পুনর্ব্যক্ত করা হয় যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ এবং প্রধান অগ্রাধিকার হলো বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা ও জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আপডেট সময় ০১:২১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র পাল্টা জবাব হিসেবে এবার বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে একযোগে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে চালানো এই বিশেষ প্রতিশোধমূলক অপারেশনের এটি ছিল পঞ্চম ধাপ (ফিফথ ফেজ)।

সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি এই দাবি করেছে। এই হামলার পর ওমানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সে দেশে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের জন্য জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।

মার্কিন অবকাঠামো ও রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি:

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে জানায়, বাহরাইনের জুফাইর এলাকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ “স্থাপনা ও অবকাঠামো” লক্ষ্য করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই সাথে ওমানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহাআরাধীন ‘এফপিএস দূরপাল্লার আকাশ নজরদারি রাডার’ এবং ‘জাহাজ শনাক্তকারী রাডার’ লক্ষ্য করে বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়েছে। ইরান জোরালো দাবি করেছে যে, ওমানে আঘাত হানা সেই মার্কিন রাডারগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে তাদের বাহিনী।

জ্বালানি সংকটের হুঁশিয়ারি:

হামলার পাশাপাশি ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আইআরজিসি বলেছে, ‘কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার একমাত্র উপায় হলো—এই জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের আগ্রাসী সামরিক হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিজস্ব সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা।’ তারা আরও সতর্ক করে বলে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অঞ্চলে নিজেদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তবে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের তেল ও গ্যাস খাতে আরও বড় এবং নজিরবিহীন সংকট তৈরি হবে।’

ওমানে মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কতা:

এদিকে ওমানের মার্কিন রাডার ধ্বংসের দাবির পরপরই ওমানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটিতে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সুরক্ষায় জরুরি বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে ওমানের দুকম (Duqm) শহর বা মুসানদাম (Musandam) গভর্নরেটে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আপাতত যে যেখানে আছেন, সেখানেই নিরাপদে (শেল্টার-ইন-প্লেস) অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন দূতাবাস জানায়:

“আপনি যদি বর্তমানে দুকম বা মুসানদামে অবস্থান করে থাকেন, তবে সম্ভব হলে নিজের বাসা, হোটেল বা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনের ভেতরেই থাকুন এবং সমস্ত জানালা থেকে দূরে অবস্থান করুন।”

দূতাবাস আরও স্পষ্ট করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি তারা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে প্রয়োজনীয় হালনাগাদ তথ্য মার্কিন নাগরিকদের নিয়মিত জানানো হবে। এছাড়া, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যারা এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে চান, তাদের জন্য সম্ভাব্য বিমান বা বিকল্প যাত্রা নিশ্চিত করতে মার্কিন সরকার সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

বার্তায় আরও পুনর্ব্যক্ত করা হয় যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ এবং প্রধান অগ্রাধিকার হলো বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা ও জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।