ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গহীন পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:৫৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর শীলখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুইজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা মারা যান।

নিহতরা হলেন, রুহুল আমিনের ছেলে রবি আলম, নুরুল কবিরের ছেলে মুজিব উল্লাহ এবং নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর প্রকাশ হালানি। তিন জনই বাহারছড়া শীলখালী গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, এরা ৩ জন চিহ্নিত ডাকাত ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানব পাচারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে নিহতদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানব পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার সাথে কারা জড়িত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ‘

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, পাহাড়ি এলাকা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মাথায় জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানব পাচার সংশ্লিষ্ট বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

নিহত রবিউল আউয়ালের পিতা রুহুল আমিন জানান, “রাতে মুজিব আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। সকালে পাহাড়ে লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাই। কী কারণে এমন হয়েছে, বুঝতে পারছি না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় কাঠুরিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটছে। মাঝে মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দও শোনা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে জিম্মিদের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, টেকনাফের বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপহরণ ও মানব পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের ভয়ে ওই এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

গহীন পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় ০১:৫৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

সিএনএমঃ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর শীলখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুইজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা মারা যান।

নিহতরা হলেন, রুহুল আমিনের ছেলে রবি আলম, নুরুল কবিরের ছেলে মুজিব উল্লাহ এবং নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর প্রকাশ হালানি। তিন জনই বাহারছড়া শীলখালী গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, এরা ৩ জন চিহ্নিত ডাকাত ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানব পাচারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে নিহতদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানব পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার সাথে কারা জড়িত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ‘

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, পাহাড়ি এলাকা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মাথায় জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানব পাচার সংশ্লিষ্ট বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

নিহত রবিউল আউয়ালের পিতা রুহুল আমিন জানান, “রাতে মুজিব আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। সকালে পাহাড়ে লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাই। কী কারণে এমন হয়েছে, বুঝতে পারছি না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় কাঠুরিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে লোকজনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটছে। মাঝে মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দও শোনা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে জিম্মিদের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, টেকনাফের বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপহরণ ও মানব পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের ভয়ে ওই এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।