ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের অভিযোগে রেস্টুরেন্টের মালিক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭৬ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার গোপালপুর বাজারের ‘কুটুমবাড়ি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে’ এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন দায়ের করেন। আদালতের বিচারক কাশিয়ানী থানার ওসিকে মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভূক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

আসামীরা হলেন- রেস্টুরেন্ট মালিক ও কাশিয়ানী উপজেলার গোপালপুর গ্রামের সিদ্দিক মোল্যার ছেলে মজনু মোল্যা (৪০) ও পোনা গ্রামর হিরু মোল্যার ছেলে রাকিব মোল্যা (৩৩)।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত রাকিব মোল্লা এবং ভুক্তভোগী নারী উভয়ই ‘কুটুমবাড়ি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে’ কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাকিব বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় সুযোগ খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায় গত ১৪ মার্চ রুম পরিস্কার করার কথা বলে কৌশলে তাকে হোটেলের একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে যান রাকিব। সেখানে হোটেলের মালিক মজনু মোল্যার সহযোগিতায় রাকিব ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। রাকিব হোটেল মালিক মজনুর বোনের দেবর। ঘটনাটি জানাজানি হলে লোকলজ্জা ও সামাজিক অপমানের ভয়ে ওই নারী গুলপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় হোটেলের মালিক মজনু মোল্যা নিজেই তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার ‘পাকস্থলী পরিষ্কার’ (ওয়াশ) করানো হয়। সুস্থ হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সজীব সরদার বুধবার (১ এপ্রিল) মামলা দায়েরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য কাশিয়ানী থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

ঘটনার বিষয় অভিযুক্ত মজনু ও রাকিবের সাথে কথা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, ‘আদালতের নির্দেশের কপি হাতে পেয়েছি। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ষণের অভিযোগে রেস্টুরেন্টের মালিক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ০৩:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

সিএনএমঃ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার গোপালপুর বাজারের ‘কুটুমবাড়ি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে’ এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন দায়ের করেন। আদালতের বিচারক কাশিয়ানী থানার ওসিকে মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভূক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

আসামীরা হলেন- রেস্টুরেন্ট মালিক ও কাশিয়ানী উপজেলার গোপালপুর গ্রামের সিদ্দিক মোল্যার ছেলে মজনু মোল্যা (৪০) ও পোনা গ্রামর হিরু মোল্যার ছেলে রাকিব মোল্যা (৩৩)।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত রাকিব মোল্লা এবং ভুক্তভোগী নারী উভয়ই ‘কুটুমবাড়ি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে’ কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাকিব বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় সুযোগ খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায় গত ১৪ মার্চ রুম পরিস্কার করার কথা বলে কৌশলে তাকে হোটেলের একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে যান রাকিব। সেখানে হোটেলের মালিক মজনু মোল্যার সহযোগিতায় রাকিব ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। রাকিব হোটেল মালিক মজনুর বোনের দেবর। ঘটনাটি জানাজানি হলে লোকলজ্জা ও সামাজিক অপমানের ভয়ে ওই নারী গুলপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় হোটেলের মালিক মজনু মোল্যা নিজেই তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার ‘পাকস্থলী পরিষ্কার’ (ওয়াশ) করানো হয়। সুস্থ হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সজীব সরদার বুধবার (১ এপ্রিল) মামলা দায়েরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য কাশিয়ানী থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

ঘটনার বিষয় অভিযুক্ত মজনু ও রাকিবের সাথে কথা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, ‘আদালতের নির্দেশের কপি হাতে পেয়েছি। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’