সিএনএম প্রতিবেদনঃ
বৃদ্ধা নারীর গণধর্ষণ মামলা না নেওয়ায় দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ। ৫৫ বছর বয়স্ক এক নারী ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানা এলাকায় গণধর্ষণের শিকার হয়ে থানায় গিয়ে এজাহার দিলে ঐ নারীর ঘটনায় কোন আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি প্রধান উপদেষ্টা, আইজিপি সহ পুুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তিনি গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মিডিয়ায় তার অভিযোগ পত্র পাঠিয়েছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন:
আমি একজন বিধবা নারী। ২ কন্যা সন্তানের জননী। বড় মেয়ে জুলিয়া (৩০), ছোট মেয়ে পাপিয়া (২৫)। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর মেয়েদের বিয়ে শাদী হওয়ায় তারা যে যার মতো তাদের শ^শুড় বাড়ি চলে যাওয়ায় আমার ভরণ পোষণ দেওয়ার মতো পরিবারের কোন অভিভাবক না থাকায় আমি বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করিয়া জীবিকা নির্বাহ করিয়া আসিতেছি। এমতাবস্থায় আমার পূর্ব পরিচিত ১, ২ ও ৩ নং বিবাদীরা আমাকে সৌদি আরবে পাঠানোর প্রস্তাব দেয় এবং বলে।
সৌদি আরবে আমার বেতন হবে ১২০০ রিয়াল বাংলাদেশের প্রায় ৪০,০০০/-(চল্লিশ হাজার) টাকা। এক পর্যায় আমি তাদের কথা বিশ^াস করিয়া রাজি হইলে গত ১৩/১২/২০২৫ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ ঘটিকার সময় ১-৯নং বিবাদীরা এক এক করে আমার বসত বাসায় আসে তারা বলে আমার বিদেশের ব্যাপারে তারা আমার সাথে কথাবার্তা বলবে। ১-৩নং বিবাদী অন্যান্য বিবাদীদের দেখিয়ে বলে, আমাকে যে কফিলের বাসায় কাজের জন্য পাঠানো হবে ঐ কফিলের বাসায় ৪-৯নং বিবাদীরা বাংলাদেশ হতে যেয়ে কর্ম করে তারা বাংলাদেশে ছুটিতে এসেছে। আমাকে তাদের ছুটি শেষ হলে, তাদের সাথেই আমাকে পাঠানো হবে। এজন্য আমার সাথে তারা পরিচয় হতে এসেছে এবং আমি কাজ কর্ম পারব কিনা ঐ বিষয়ে তারা কথা বলবে। তখন আমি তাদেরকে বলি আমি গরিব মানুষ আপনাদের কোথায় বসতে দিব।
ঐ মুহুর্তে তারা আমার রুমের মেঝেতে ঢালা বিছানার তোষকের উপরেই তারা বসে। আমাকেও বসতে বলে। কথাবার্তার এক পর্যায় বিবাদীরা আমার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়। তখন আমি বুঝতে পারি বিবাদীদের উদ্দেশ্য খারাপ। ঐ মুহুর্তে আমি তাদের আমার রুম হতে বের হয়ে যেতে বললে ১নং বিবাদী রুমের দরজার ছিটকানি লাগিয়ে দেয়। অন্যান্য সকল বিবাদীরা মিলে আমাকে টানা হেচড়া করে দোষকের বিছানার উপরে শোয়াইয়া আমার পরিহিত জামা কাপড় খুলে ফেলে ঐ মুহুর্তে আমি ডাক চিৎকার দিলে হঠাৎ ১নং বিবাদী আমার বুকের উপর বসে তার পকেট থেকে একখানা রুমাল বের করে আমার মুখ চাপিয়া ধরে। এরিমধ্যে ডাক চিৎকারের চেষ্টা করলেও আর কোন ডাক চিৎকার দিতে পারি নাই।
ঐ রুমাল মুখে চাঁপিয়া ধরার পর হঠাৎ আমি বাক প্রতিবন্ধির মতো হয়ে যাই। শুধু তারা কি করতেছিল তা দেখতে পাই কোন কথাবার্তা বলতে পারিনাই এবং আমার শরীরেও কোন শক্তি পাই নাই। এমতাবস্থায় বিবাদীরা একের পর এক পালাক্রমে আমাকে ধর্ষণ করে এবং তাদের সাথে থাকা মোবাইল ক্যামেরায় একেক জন বিবাদী ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে বিভিন্ন জায়গায় ঐ ভিডিও ফুটেজ তাদের মোবাইল নেটের মাধ্যমে পাঠায়। এভাবে আনুমানিক প্রায় রাত ১২ ঘটিকা পর্যন্ত আমাকে ধর্ষণ শেষে বিবাদীরা রুমের দরজা চাপিয়ে রেখে চলে যায়। এক পর্যায়ে পরের দিন ১৪/১২/২০২৫ইং তারিখ ৭ ঘটিকার সময় আমার শরীরে কোন রকম বোধ শক্তি ফিরে এলে বিষয়টি আমার আত্মীয় স্বজন ও পরিচিত লোকজনদের জানাইয়া আসামীদের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করিয়া আমার ঘটনার বিষয় মহা-পুলিশ পরিদর্শক, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি, ঢাকা জেলা এসপি মহোদয়কে লিখিত আবেদন প্রদান করি।
ঢাকা জেলা এসপি অফিস হতে সু-পরামর্শ দেওয়ার পর
এসপি অফিস হতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে লিখিত এজাহার দিতে বললে, এক পর্যায়ে আমি সন্ধ্যা ৬ ঘটিকার সময় আমার ধর্ষণের ঘটনায় একটি এজাহার লিখে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় গিয়ে অফিসার ইনচার্জ সাহেব কে এজাহার পত্রখানা দেই। ওসি সাহেব এজাহার পত্র পাওয়ার পর একটি কাগজে আলাদা নোট করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার এসআই পিযুষ, যার মোবাইল নাম্বার-০১৭১৩৩২১৫০০ কে দেন। এসআই পিযুষ তার সঙ্গীয় একজন মহিলা পুলিশ সদস্য সহ কয়েকজন পুরুষ পুলিশ সদস্যকে সাথে নিয়ে আমার ঘটনাস্থল বসত বাসায় যায়। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বাড়ির বেশ কিছু লোকজন আমার ঘটনায় সাক্ষী দেন। এসআই পিযুষ সাক্ষীদের নাম, ঠিকানা সংগ্রহ করিয়া আমাকে পুলিশের গাড়ীতে তুলিয়া থানায় নিয়া আসেন এবং মামলার এজাহার পত্র হতে আসামীদের মোবাইল নাম্বারে এসআই পিযুষ বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করতে থাকে এমতাবস্থায় রাত প্রায় ১.৩০ মিনিট হতে ২ ঘটিকার সময় এসআই পিযুষ আমাকে বলে আসামীদের মধ্যে কয়েকজন ঢাকা জেলার এসপি সাহেবের বন্ধু-বান্ধব হওয়ায় দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এসআই পিযুষকে নাকি মামলা নিতে নিষেধ করেছেন এছাড়া পুলিশের অপেশাদারিত্ব আচরণ পূর্বক আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি এবং অকথ্য ভাষা ও অশালীন ব্যবহার করে আমাকে আনুমানিক প্রায় রাত ২ ঘটিকার সময় তার সঙ্গী ও মহিলা পুলিশ সদস্যকে দিয়ে আমার ঘটনাস্থলের বাসায় আমাকে পাঠিয়ে দেয়। এসআইকে মামলার কথা বললে, তিনি বলেন, থানায় আসার আগে ঢাকা জেলার এসপি, ডিআইজি, আইজিপির কাছে অভিযোগ দিয়ে আসছেন তাদের কাছে গিয়ে ধন্যা ধরেন তারাই আপনার মামলা নিব। এ ধরনের আজে বাজে কথা বলে আমাকে থানা থেকে বিদায় করে দেন। আমি অসুস্থ থাকায় এসআই পিযুষ সহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের আমার চিকিৎসার ব্যবস্থার জন্য অনুরোধ করলে তারা আমার কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন নাই। এমতাবস্থায় ১৫/১২/২০২৫ইং তারিখ অদ্য বেলা ৩ ঘটিকার দিকে আমি ইকুরিয়া বাজার দিয়ে পায়ে হেটে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ব্রিজের নিচ দিয়ে যাওয়ার পথে হঠাৎ করে আমার ঘটনার অভিযোগে উল্লেখিত ২-৩ জন ধর্ষক তাদের সাথে অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজন লোক আমাকে ঘেরাও করে ধরে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে বলে, আমি যে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের এজাহার দায়ের করেছি এজন্য গভীর রাতে
ধর্ষকদের কাছ হতে পুলিশের চাঁদাবাজি
এসআই পিযুষ সহ আরোও কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিলে তাদেরকে গ্রেফতার করে ধর্ষণ মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে পৃথক ভাবে প্রায় ১৫-২০ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে তাদের নাম, ঠিকানা রেখে ঐ সকল আমার ধর্ষক ব্যক্তিদের গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেয় এবং পিযুষ নাকি আমার অভিযুক্ত ধর্ষকদের বলেছে তাদের বিরুদ্ধে কখনো মামলা হবে না এ নিয়ে আমি যদি বেশি বাড়াবাড়ি করি তাহলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে উল্টো আমাকেই মামলা দিয়ে জেলে পাঠাবে এবং ধর্ষকরা আমাকে নানা ধরনের হুমকি ধমকি দিয়ে বলে, আমি যদি এক সপ্তাহের মধ্যে এসআই পিযুষকে দেওয়া ঘুষের ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরন বাবাদ তাদের ২০ লক্ষ টাকা না দেই তাহলে পরবর্তীতে আমাকে শুধু ধর্ষইনা আমাকে তারা অপহরণ করে নিয়া গণধর্ষণের পরে হত্যা করিয়া লাশ গুম করিয়া ফালাইবে বলিয়া হুমকি দিয়া তারা চলিয়া যায়। এমতাবস্থায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় রহিয়াছি বিধায় আমার হত্যা সহ ভবিষ্যতে যে কোন দুর্ঘটনার জন্য দায়ী থাকবে এসআই পিযুষ ও তার সঙ্গীয় ফোর্স এবং ঘটনাস্থলের পুলিশ কর্মকর্তাগণ ও আমার অভিযোগে উল্লেখিত ধর্ষক বিবাদীগণ।
অভিযোগ যে সকল দপ্তরে প্রেরিত হলো:
অত্র অভিযোগ যেখানে পাঠানো হয়েছে : ১) মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, ২) মাননীয় আইন উপদেষ্টা ৩) মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ৪) মাননীয় স্বরাষ্ট্র সচিব ৫) সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা ৬) মহা-পুলিশ পরিদর্শক ৭) উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ ৮) ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার ৯) সার্কেল এসপি কেরাণীগঞ্জ ১০) বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ১১) মানবাধিকার সংগঠন সহ একাধিক সমাজসেবকদের কাছে ঐ বৃদ্ধা বিচার পাওয়ার আকুল আবেদন করেন। এ বিষয়ে মোবাইলে যোগাযোগ করে এসআই পিযুষ ও অফিসার ইনচার্জের নাম্বারে ফোন করে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য জানা যায় নি।