পটুয়াখালী জেলার এসপি ও মির্জাগঞ্জ থানার পুলিশ কর্মকর্তারা অভিযোগ পেয়ে সবকিছু জানার পরেও চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। জুলাই আন্দো লনে স্বৈরাচারের হাত হতে দেশ রেহাই পাওয়ার পর আওয়ামী দোসরা গা ঢাকা দিয়ে ছিল। ধীরে ধীরে জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন কর্মীদের সাথে মিশে গিয়ে পিঠ বাঁচাতে বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অনেক স্বৈরাচারী দোসররা বিএনপির লোক বনে গেছে। দেশের স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির বিভিন্ন সহজ সরল নেতাকর্মীদের ভুল বুঝিয়ে তাদের সাথে মিশে যাওয়া নামধারী বিএনপির সদস্যরা এলাকায় লুটতরাজ, ভূমি দখল, মাদক কারবার সহ নানাবিধ অপকর্মে জড়িয়ে পরছে।
অনেক ক্ষেত্রে দখলবাজি করতে গিয়ে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে দলের সুনাম ক্ষুন্ন করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে মোসাঃ মোর্শেদা বেগম (৪৫), স্বামী-মৃত সালাম মল্লিক, সাং-শৈলাবুনিয়া মল্লিক বাড়ি, থানা-মির্জাগঞ্জ, জেলা- পটুয়াখালীর এক নারী নির্যাতনের শিকার ও সর্বস্ব হারিয়ে তিনি মির্জাগঞ্জ থানায় কোন ব্যবস্থা না পেয়ে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি, আইজিপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগে মোসাঃ মোর্শেদা জানান, হানিফ মৃধার ছেলে মামুন মিয়া, মাসুদ আলমের ছেলে রফিক ইসলাম, শামুসুল আলমের ছেলে মাসুদ মিয়া, রহিম মৃধার ছেলে মোঃ বাশার, রশিদ চৌকিদার এর ছেলে মোঃ সিদ্দিকুর রহমান ও অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জন তারা পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার দক্ষিণ গাবুরা গ্রামের বাসিন্দা। এরা দলবল নিয়ে হঠাৎ করে মাসুদার বাড়িতে এসে অর্তকিত হামলা চালায়। বাড়ির ঘর ভাংচুর করে এবং লুটপাট চালায়। মির্জাগঞ্জ থানায় বিচার না পেয়ে ন্যায় বিচার চেয়ে এ অভিযোগ দায়ের করেন। গত ০৫/০৩/২০২৬ইং তারিখে অভিযোগে মোর্শেদা বলেন,
আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সুখে শান্তিতে আমার পিতৃালয়ে বসবাস করিয়া আসিতেছিলাম। আমার বসত ভিটার পিতৃালয়ের পৈত্রিক সম্পত্তির মালিক হইয়া ভোগ দখল করিয়া থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে বিবাদীরা এক সময় বৈষম্য বিরোধী স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগ দলীয় সদস্য ছিল। জুলাই আন্দোলনের স্বাধীনতার পর হতে তারা এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে ছিল। এক পর্যায়ে বর্তমান জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কিছু অসাধু কর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করে নিজেদের গা বাচাতে বিএনপি দলীয় লোক সেজে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি দলের নামে নানা ভাবে চাঁদাবাজি ও লুটতরাজ করে যাচ্ছে।
এমতাবস্থায় আমার কাছে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। আমি তাদের কাছে জানতে চাই তাদেরকে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা কেন দিতে হবে আর আমি কোথা থেকে এত টাকা দিব। তখন তারা বলে, আওয়ামীলীগের থেকে বিএনপিতে যোগ দিতে বহু টাকা খরচ হইছে। তাই আমাদেরকে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। এমতাবস্থায় আমি তাদেরকে চাঁদা দিতে না চাইলে বিবাদীরা আমার মির্জাগঞ্জ থানাধীন মৌজা-গাবুয়া, জে এল নং-৫৭, এস এ খতিয়ান নং-৬২৮, দাগ নং-৩৫৬৪, মোট জমির পরিমাণ ১৮ শতাংশ ও অন্যান্য দাগের প্রায় ২ একর ৬০ শতাংশ জায়গা দখল করিয়া নেয়।
আমরা বাধা দিতে গেলে আমার ভাইকে মারধর করে এবং আমাকেও মারধর করে এমন অবস্থায় গত ০৩/০৩/২০২৬ইং তারিখ আমার বসত ভিটার বাড়িও দখল করতে আসিয়া বাড়ি ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় ও ভাংচুর করে এবং আমরা বাধা দিলে আমাকে সহ অন্যান্য লোকদের মারধর করে। এবং বলে তাদের দাবীকৃত টাকা, আমাদের জমিজমা বিক্রি করিয়া তাদেরকে ৫০ লক্ষ টাকা যদি দেই তাহলে তারা আমাদের জমিজমা ফিরাইয়া দিবে বাড়ি ঘর দখল করবে না।
এমতাবস্থায় আমরা নিরুপায় হইয়া স্থানীয় মির্জাগঞ্জ থানাকে বিষয়টি জানাইলে থানা পুলিশ ও বিবাদীদের ভয়ে এবং তাদের পিছনে বিএনপির সাইনবোর্ড থাকায় আমাদের জমিজমা উদ্ধার সহ কোন আইনগত ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছে না। এদিকে মোর্শেদা ক্রাইম নিউজ মিডিয়াকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, ডিআইজি বরিশাল রেঞ্জ ও মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে অভিযোগ দেওয়ার পর তারা সবকিছু জানার পরেও অদ্য পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এমব অবস্থায় আমরা সবকিছু ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। মোর্শেদা বলেন, বিবাদীরা আমাকে ও আমার সন্তান সহ আমার ভাইকে হত্যা করার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র সহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়া আমাদের খুঁজিয়া বেড়াইতেছে। বিধায় আমরা পলাতক থাকিয়া ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য মহোদয়ের দ্বারস্থ হলাম। বিবাদীরা যে কোন সময় আমাদের হত্যা সহ বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করতে পারে বলিয়া আকুতি জানায়।
পটুয়াখালী জেলার এসপি, মির্জাগঞ্জ থানার ওসির মোবাইল নাম্বারে কল করে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য জানা যায় নি।