কুমিল্লার তিতাস উপজেলার চার নং কড়িকান্দি ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের বিশেষ ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বরাদ্দ অনুযায়ী কার্ডপ্রতি ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও সুবিধাভোগীদের অনেককে অর্ধেক চাল দিয়ে বিদায় করার অভিযোগে পরিষদ প্রাঙ্গণে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।
সোমবার ( ১৭ মার্চ) সকালে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চাল বিতরণের সময় শত শত নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডিজিটাল স্কেলের পরিবর্তে বালতি দিয়ে মেপে তাদের চাল দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বন্দারামপুরসহ কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত চাল না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিতরণ চলাকালে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী আলী হোসেনের উপস্থিতিও স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে কড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোসামৎ নার্গিস আক্তার জানান, আমি যখন চাল বিতরন শুরু করি ১০ কেজি করেই দেই, পরে মোহর মুন্সির লিষ্টের যেগুলো দিছে ঐগুলো নাকি কম হইছে তখন আমি ছিলাম না, ওনার লিষ্টের লোক গুলোকে ওনি দিয়েছে।
বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে কড়িকান্দি ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মোহর মুন্সি বলেন, অসহায় মানুষের চাল আত্মসাৎ করার কোনো প্রশ্নই আসে না। মূলত কার্ডধারীর চেয়ে অতিরিক্ত মানুষ উপস্থিত হওয়ায় সবার অনুরোধে চাল কিছুটা কমিয়ে সবাইকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বালতি দিয়ে মেপে দ্রুত বিতরণ করার সময় ওজনে সামান্য কম-বেশি হতে পারে।
উপজেলা দরিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার মোহাম্মদ সোহানুর রহমান জানান, তিনি উপস্থিত থেকে আটশো ষাট জন সুবিধাভোগীর মাঝে চাল বিতরণ করেছেন। ওজনে কারচুপির বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু বালতি দিয়ে মেপে চাল দেওয়া হয়েছে, তাই কিছুটা তারতম্য হতে পারে। তবে অর্ধেক কম হওয়ার কথা নয়।
সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি, মানবিকতার দোহাই দিয়ে দশ কেজির চাল পাচ কেজি করে দেওয়া সরকারি নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। স্থানীয়রা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আগামীতে ডিজিটাল পরিমাপ নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের চাল নিয়ে এই অব্যবস্থাপনা প্রান্তিক মানুষের ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।