ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার জার্সিতে ‘ভোজিনহা’ নামেই খেলবেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ৬ হাজার ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার এক বছরেই ৩০ পারা মুখস্থ, হাফেজ হলো ৮ বছরের আব্দুর রহমান লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে টোল নেবে না হুথিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ র‍্যাবের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম চারদিক বন্যার পানিতে ডুবলেও ডুবে না ক্লাস্টার বসতভিটা

আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়াতে গিয়ে থানায় বিএনপি নেতাদের হাতাহাতি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:২২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫
  • ২৭৪ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ( রাজশাহী):

রাজশাহীতে গত বছরের ৫ আগস্ট আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালামকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তাকে ছাড়ানোর জন্য বিএনপি নেতাদের একটি অংশ থানায় তদবির করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভেতরে এসব ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি আবুল কালাম নিজেই বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন সরকার টিটুকে লাথি মারেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

গ্রেপ্তারকৃত আবুল কালাম গত বছরের ৫ আগস্টে আন্দোলনকারিদের উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার ৬৫ নম্বর আসামি। একসময় তিনি পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি দল পরিবর্তন করে রাজশাহী ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি এবং সার ডিলার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব নেন।

কৃষকদলের নেতা আলামিন সরকার টিটু অভিযোগ করেন, আবুল কালাম আওয়ামী সরকারের দোসর, তা জানা সত্ত্বেও বিএনপির কিছু নামধারী নেতা তাকে ছাড়াতে থানায় গিয়েছিলেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, আমরা যখন প্রতিবাদ করি, তখন থানার ভেতরে ওসিসহ উপস্থিত সবার সামনে আবুল কালাম আমাকে লাথি মারেন। এছাড়া বিএনপির কিছু নেতাকর্মীও আমাদের লাঞ্ছিত করে।

রাজশাহীর শাহমখদুম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান জানান, আবুল কালাম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই ছিলেন। ব্যবসায়িক স্বার্থে তাকে বিভিন্ন আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হয়েছে। তাকে মূলত ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান সমিতি দখল নিতেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

বোয়ালিয়া থানার ওসি মোস্তাক আহমেদ বলেন, বিএনপির কিছু নেতা আবুল কালামের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন; তবে কেউ আসামিকে ছাড়াতে তদবির করেননি। যেহেতু তিনি এজাহারভুক্ত আসামি, তাই তাকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আবুল কালামের গ্রেপ্তারের পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা নিজেদের মধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে তাদের থানা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানান ওসি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়াতে গিয়ে থানায় বিএনপি নেতাদের হাতাহাতি

আপডেট সময় ০৯:২২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫

সিএনএম ( রাজশাহী):

রাজশাহীতে গত বছরের ৫ আগস্ট আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালামকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তাকে ছাড়ানোর জন্য বিএনপি নেতাদের একটি অংশ থানায় তদবির করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভেতরে এসব ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি আবুল কালাম নিজেই বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন সরকার টিটুকে লাথি মারেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

গ্রেপ্তারকৃত আবুল কালাম গত বছরের ৫ আগস্টে আন্দোলনকারিদের উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার ৬৫ নম্বর আসামি। একসময় তিনি পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি দল পরিবর্তন করে রাজশাহী ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি এবং সার ডিলার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব নেন।

কৃষকদলের নেতা আলামিন সরকার টিটু অভিযোগ করেন, আবুল কালাম আওয়ামী সরকারের দোসর, তা জানা সত্ত্বেও বিএনপির কিছু নামধারী নেতা তাকে ছাড়াতে থানায় গিয়েছিলেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, আমরা যখন প্রতিবাদ করি, তখন থানার ভেতরে ওসিসহ উপস্থিত সবার সামনে আবুল কালাম আমাকে লাথি মারেন। এছাড়া বিএনপির কিছু নেতাকর্মীও আমাদের লাঞ্ছিত করে।

রাজশাহীর শাহমখদুম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান জানান, আবুল কালাম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই ছিলেন। ব্যবসায়িক স্বার্থে তাকে বিভিন্ন আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হয়েছে। তাকে মূলত ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান সমিতি দখল নিতেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

বোয়ালিয়া থানার ওসি মোস্তাক আহমেদ বলেন, বিএনপির কিছু নেতা আবুল কালামের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন; তবে কেউ আসামিকে ছাড়াতে তদবির করেননি। যেহেতু তিনি এজাহারভুক্ত আসামি, তাই তাকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আবুল কালামের গ্রেপ্তারের পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা নিজেদের মধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে তাদের থানা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানান ওসি।