মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
"ফটো সাংবাদিক আবশ্যক" দেশের প্রতিটি থানা পর্যায়ে "ক্রাইম নিউজ মিডিয়া" সংবাদ সংস্থায় ১জন রিপোর্টার ও ১জন ফটো সাংবাদিক আবশ্যক। আগ্রহী প্রার্থীরা  যোগাযোগ করুন। ইমেইলঃ cnm24bd@gmail.com ০১৯১১৪০০০৯৫

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় আসছেন কাল, যা থাকতে পারে আলোচনায়

  • আপডেট সময় বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২, ২.০৮ পিএম
  • ১৯৯ বার পড়া হয়েছে
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রানিয়াম জয়শঙ্কর আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে ভারতের নতুন পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কাত্রাও আসছেন।
এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রানিয়াম জয়শঙ্কর। বৈঠকে দুপক্ষের সব ইস্যুতে আলোচনার পাশাপাশি দুদেশের মধ্যে নৌপথে সংযোগ বাড়ানো, সীমান্ত হাট এবং চলমান ইউক্রেন ইস্যু গুরুত্ব পাবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন গতকাল তার দফতরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রানিয়াম জয়শঙ্কর সুখবর নিয়ে আসছেন।’
কী সুখবর, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা এখনও জানি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সামনে আমাদের জেসিসি (জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন) বৈঠক আছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে ওই বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ হতে পারে। দুপক্ষের সব ইস্যুতেই আমরা আলাপ করব। যেখানে সবসময়ের মতোই তিস্তার পানি বণ্টন এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধের ইস্যু আমাদের পক্ষ থেকে তুলব। জেসিসি বৈঠকের আগে জেআরসি (যৌথ নদী কমিশন) বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। জেসিসি বৈঠকটি আগামী মে মাসের শেষদিকে হতে পারে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুপক্ষের সম্পর্কে যেসব অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে সেসব বিষয়ে আমরা কথা বলব। আমরা দুপক্ষের মধ্যে আরও সীমান্ত হাট বাড়াতে চাই। এটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে খুবই কার্যকর।’
ইউক্রেন উত্তেজনা ইস্যু নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রানিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে আলাপ হবে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘এই ইস্যুতে আলাপ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত আমরা দুদেশই নিজ নিজ দেশের স্বাধীন নীতিতে বিশ্বাসী। আমরা কোনো যুদ্ধ চাই না। কেননা যুদ্ধে অস্থিতিশীলতা বাড়ে, জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, মানুষের জন্য কল্যাণ আনে না। আমরা শান্তি চাই।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত-থাইল্যান্ড এই তিন দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে আমরা মাল্টিমোডাল সংযোগ স্থাপন করতে চাই। এ বিষয়ে ভারত রাজি আছে। থাইল্যান্ডের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তারাও রাজি আছে। নীতিগত পর্যায়ে এটা অনুমোদন হয়েছে। এখন ব্যুরোক্র্যাট প্রসেসিং চালু হবে। এ বিষয়েও জয়শঙ্করের সঙ্গে আলাপ হতে পারে।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন গতকাল বলেন, সংক্ষিপ্ত সফরে (কম-বেশি ১৬ ঘণ্টা) ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর, সঙ্গে দেশটির নতুন সচিব বিনয় মোহন কাত্রাও আসছেন। জয়শঙ্করের এ সফরে দুদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনায় থাকবে। এসব বিষয়ে আমরা টাইম টু টাইম মিটিং করি, আপডেট দেই এবং নেই। সামনে আমাদের বেশ কিছু হাই লেভেল মিটিং আছে। জেসিসি আছে। প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়ার ব্যাপার আছে, সেটার তারিখ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। অত বড় ফরমেটওয়াইজ না হলেও সবকিছুই আলোচনায় আসতে পারে।’
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রানিয়াম জয়শঙ্করের আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা সফরের পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে, আগামী জুনের শেষ প্রান্তে দুই নিকটতম প্রতিবেশীর শীর্ষ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই সফরের আনুষ্ঠানিক দাওয়াতপত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষে ঢাকায় আসছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জয়শঙ্করের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের দিন-ক্ষণ নিয়েও আলাপ হবে। সফরের দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, দুপক্ষের মধ্যে কানেক্টিভিটি আরও শক্তিশালী করতে আগামীর পথচলা ঠিক করতে আলাপ করা। যার মধ্যে নৌপথে যোগাযোগ এবং সীমান্ত হাট গুরুত্ব পাবে। ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের জন্য দেশটি বাংলাদেশের সঙ্গে নৌপথে শক্তিশালী সংযোগ আরও বাড়াতে চায়। এজন্য তারা বাংলাদেশের নদী খননে যথেষ্ট বিনিয়োগ করতেও রাজি হয়েছে।
অন্যদিকে সীমান্ত হাট নিয়ে ঢাকায় অবস্থিত ভারতের হাইকমিশন গতকাল জানিয়েছে, বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাতটি বর্ডার হাট রয়েছে এবং আরও নয়টি নতুন সীমান্ত হাট পরিকল্পনাধীন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরও বলছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রানিয়াম জয়শঙ্করের ঢাকা সফরের আরেকটি কারণ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক ইস্যুতে আলোচনা করা। বিশেষ করে চলমান ইউক্রেন ইস্যু আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ঢাকা সফরের আগেই ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বৈঠক হলে সমস্যা কী? উভয়েই আমাদের বন্ধুদেশ।’

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
প্রকাশনায় : ২৪ ক্রাইম নিউজ মিডিয়া লিমিটেড
Theme Developed BY ThemesBazar.Com