ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠিকাদারদের পাওনা ৩৫০ কোটি টাকা দ্রুত পরিশোধের সুপারিশ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৮:২৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ এপ্রিল ২০২২
  • ২২৯ বার পড়া হয়েছে

করোনাভাইরাস মহামারির সময় জরুরিভিত্তিতে কেনা ৩৫০ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুরক্ষা সামগ্রীর টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে বলেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রোববার জাতীয় সংসদে কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, করোনার শুরুতে জরুরিভিত্তিতে কেনাকাটা হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারদের টাকা পরিশোধ হয়নি। এখন বলা হচ্ছে, ওই সময় নিয়ম না মেনে কেনাকাটা হয়েছে। কিন্তু যারা সরবরাহকারী তারা তো মালপত্র দিয়েছে। তাদের তো দোষ নেই। আমরা বলেছি আমলাতান্ত্রিকতা না করে টাকা দিয়ে দিতে হবে।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রথম তিন মাসে (২০২০ সালের মার্চ-মে) সরকারের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের জন্য (সিএমএসডি) ৩৫৪ কোটি টাকার সুরক্ষাসামগ্রী কেনা হয়। সে সময় ৫৭ প্যাকেজে এসব সুরক্ষা, করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনা হয়।

এর মধ্যে ৩৪৩ কোটি টাকা প্রায় এক বছর পর গত বছরের ১২ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় সিএমএসডির সরবরাহকারীদের জন্য বরাদ্দ দেয়। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সঠিক কোনো নির্দেশনা না দেওয়ায় সিএমএসডি সেই অর্থ সরবরাহকারীদের দিতে পারছে না।

সিএমএসডির সাবেক পরিচালক প্রয়াত মোহম্মদ শহীদুল্লাহর সময় হওয়া এসব কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ এনে সে সময়ের সব ধরনের সরবরাহের বিল আটকে দেন পরের পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান। তার মূল অভিযোগ, এসব কেনাকাটায় বিধিবিধান ঠিকমতো অনুসরণ করা হয়নি।

পরে এ নিয়ে তদন্তও শুরু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসব ঠিকাদাররা সংসদীয় কমিটির কাছেও তাদের দাবির কথা জানান। এর আগে সংসদীয় কমিটি বিষয়টি একবার আলোচনাও করে। তবে তা নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বৈঠক শেষে শেখ সেলিম বলেন, ওই সময় যদি অনিয়ম হয়, তাহলে সেটাতো সরবরাহকারীরা করেনি। তাহলে তাদের টাকা কেন আটকে রাখবে? আমরা সেটাই বলেছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীও এ টাকা দিয়ে দিতে চান। অনিয়ম যদি হয়ে থাকে সেটা সিএমএসডি করেছে। সরবরাহকারীরা তো করেনি। তাহলে তাদের টাকা আটকে রাখবে কেন?

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বৈঠকে জানায়, তদন্ত কাজ শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে গোপালগঞ্জে এসেনশিয়াল ড্রাগসের প্ল্যান্টে টিকা উৎপাদন ও বোতলজাত করার প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়নে আগ্রহী বলে জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, এডিবি পরিদর্শন করে এসেছে। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যা মিটে গেছে। আমরা বলেছি দ্রুত যাতে বোতলজাত শুরু করতে পারি সে ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন যদি কনসালটেন্ট নিয়োগ করে, টেন্ডার করে শুরু করে তাহলে আরও দেরি হবে। আমরা বলেছি দ্রুত করার জন্য কোনো প্রক্রিয়া থাকলে সেটা অনুসরণ করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠিকাদারদের পাওনা ৩৫০ কোটি টাকা দ্রুত পরিশোধের সুপারিশ

আপডেট সময় ০৮:২৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ এপ্রিল ২০২২

করোনাভাইরাস মহামারির সময় জরুরিভিত্তিতে কেনা ৩৫০ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুরক্ষা সামগ্রীর টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে বলেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রোববার জাতীয় সংসদে কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, করোনার শুরুতে জরুরিভিত্তিতে কেনাকাটা হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারদের টাকা পরিশোধ হয়নি। এখন বলা হচ্ছে, ওই সময় নিয়ম না মেনে কেনাকাটা হয়েছে। কিন্তু যারা সরবরাহকারী তারা তো মালপত্র দিয়েছে। তাদের তো দোষ নেই। আমরা বলেছি আমলাতান্ত্রিকতা না করে টাকা দিয়ে দিতে হবে।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রথম তিন মাসে (২০২০ সালের মার্চ-মে) সরকারের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের জন্য (সিএমএসডি) ৩৫৪ কোটি টাকার সুরক্ষাসামগ্রী কেনা হয়। সে সময় ৫৭ প্যাকেজে এসব সুরক্ষা, করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনা হয়।

এর মধ্যে ৩৪৩ কোটি টাকা প্রায় এক বছর পর গত বছরের ১২ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় সিএমএসডির সরবরাহকারীদের জন্য বরাদ্দ দেয়। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সঠিক কোনো নির্দেশনা না দেওয়ায় সিএমএসডি সেই অর্থ সরবরাহকারীদের দিতে পারছে না।

সিএমএসডির সাবেক পরিচালক প্রয়াত মোহম্মদ শহীদুল্লাহর সময় হওয়া এসব কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ এনে সে সময়ের সব ধরনের সরবরাহের বিল আটকে দেন পরের পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান। তার মূল অভিযোগ, এসব কেনাকাটায় বিধিবিধান ঠিকমতো অনুসরণ করা হয়নি।

পরে এ নিয়ে তদন্তও শুরু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসব ঠিকাদাররা সংসদীয় কমিটির কাছেও তাদের দাবির কথা জানান। এর আগে সংসদীয় কমিটি বিষয়টি একবার আলোচনাও করে। তবে তা নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বৈঠক শেষে শেখ সেলিম বলেন, ওই সময় যদি অনিয়ম হয়, তাহলে সেটাতো সরবরাহকারীরা করেনি। তাহলে তাদের টাকা কেন আটকে রাখবে? আমরা সেটাই বলেছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীও এ টাকা দিয়ে দিতে চান। অনিয়ম যদি হয়ে থাকে সেটা সিএমএসডি করেছে। সরবরাহকারীরা তো করেনি। তাহলে তাদের টাকা আটকে রাখবে কেন?

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বৈঠকে জানায়, তদন্ত কাজ শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে গোপালগঞ্জে এসেনশিয়াল ড্রাগসের প্ল্যান্টে টিকা উৎপাদন ও বোতলজাত করার প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়নে আগ্রহী বলে জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, এডিবি পরিদর্শন করে এসেছে। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যা মিটে গেছে। আমরা বলেছি দ্রুত যাতে বোতলজাত শুরু করতে পারি সে ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন যদি কনসালটেন্ট নিয়োগ করে, টেন্ডার করে শুরু করে তাহলে আরও দেরি হবে। আমরা বলেছি দ্রুত করার জন্য কোনো প্রক্রিয়া থাকলে সেটা অনুসরণ করতে হবে।