ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার জার্সিতে ‘ভোজিনহা’ নামেই খেলবেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ৬ হাজার ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার এক বছরেই ৩০ পারা মুখস্থ, হাফেজ হলো ৮ বছরের আব্দুর রহমান লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে টোল নেবে না হুথিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ র‍্যাবের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম চারদিক বন্যার পানিতে ডুবলেও ডুবে না ক্লাস্টার বসতভিটা

কনস্টেবল মাইনুলের বিরুদ্ধে মামলা, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ মার্চ ২০২২
  • ৩৩৬ বার পড়া হয়েছে

বিসিএস পরীক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার সাথীর মৃত্যুর ঘটনায় জেলা ডিবির কনস্টেবল মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছে পুলিশ। রোববার (১৩ মার্চ) বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন নিহতের পিতা সিরাজুল হক মৃধা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুল করিম। 

তিনি জানান, সাদিয়া আক্তার সাথীর পিতা আজ থানায় লিখিত এজাহার দিলে তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মামলায় মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে রোববার (১৩ মার্চ) সকালে বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কোনো সহযোগিতা করছে না উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতের পিতা সিরাজুল হক। তিনি ন্যায় বিচার পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সিরাজুর হক অভিযোগ করে বলেন, সাত দিনেও মাইনুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনেনি পুলিশ। আমরা জানতে পেরেছি পুলিশ হাসপাতালে মাইনুলকে আত্মগোপনে রাখা হয়েছে। ঘটনার এতদিনেও পুলিশের কোনো লোক আমাদের খবর নেয়নি। অথচ আমি মেয়ে হারিয়েছি।

তিনি বলেন, প্রতারক মাইনুল ইসলাম আমার মেয়ে নিহত হওয়ার দিন থেকেই পলাতক। পরিবারের কারো সাথে সে যোগাযোগ করেনি। সাদিয়ার ডায়েরিতেও লেখা আছে, মাইনুল একজন প্রতারক। সে কনস্টেবল হয়েও এসআই পরিচয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছে। আগেও তার বিয়ে ছিল। দুটি সন্তানও রয়েছে। যখন তার প্রতারণার কথা সাদিয়া জানতে পারে তখন থেকেই মাইনুল অগ্নিরুপ ধারণ করে। দিনের পর দিন অত্যাচার করে আমার মেয়েকে। এ ছাড়াও সে আমার মেয়েকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে স্বর্ণালংকার ও ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। যার ৮ লাখ টাকা ফেরত দিলেও বাকি ৫ লাখ টাকা ফেরত দেয়নি।

নিহত সাদিয়ার পিতা বলেন, মেয়ের এ ধরনের মৃত্যু কতটা কষ্টের তা আপনাদের বোঝাতে পারব না। আমি পুলিশ-প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। খুনি মাইনুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। আমার মেয়ে হত্যার বিচার যেন পেতে পারি এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে কেদারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারীসহ নিহত সাদিয়ার স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার (৭ মার্চ) বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ড বৈদ্যপাড়ায় একটি ভবনের ৫ তলা থেকে সাদিয়া আক্তার সাথী নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সাদিয়া আক্তার সাথী ও বরিশাল জেলা ডিবির কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম এক বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করে বরিশালে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।##

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

কনস্টেবল মাইনুলের বিরুদ্ধে মামলা, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

আপডেট সময় ১০:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ মার্চ ২০২২

বিসিএস পরীক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার সাথীর মৃত্যুর ঘটনায় জেলা ডিবির কনস্টেবল মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছে পুলিশ। রোববার (১৩ মার্চ) বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন নিহতের পিতা সিরাজুল হক মৃধা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুল করিম। 

তিনি জানান, সাদিয়া আক্তার সাথীর পিতা আজ থানায় লিখিত এজাহার দিলে তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মামলায় মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে রোববার (১৩ মার্চ) সকালে বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কোনো সহযোগিতা করছে না উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতের পিতা সিরাজুল হক। তিনি ন্যায় বিচার পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সিরাজুর হক অভিযোগ করে বলেন, সাত দিনেও মাইনুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনেনি পুলিশ। আমরা জানতে পেরেছি পুলিশ হাসপাতালে মাইনুলকে আত্মগোপনে রাখা হয়েছে। ঘটনার এতদিনেও পুলিশের কোনো লোক আমাদের খবর নেয়নি। অথচ আমি মেয়ে হারিয়েছি।

তিনি বলেন, প্রতারক মাইনুল ইসলাম আমার মেয়ে নিহত হওয়ার দিন থেকেই পলাতক। পরিবারের কারো সাথে সে যোগাযোগ করেনি। সাদিয়ার ডায়েরিতেও লেখা আছে, মাইনুল একজন প্রতারক। সে কনস্টেবল হয়েও এসআই পরিচয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছে। আগেও তার বিয়ে ছিল। দুটি সন্তানও রয়েছে। যখন তার প্রতারণার কথা সাদিয়া জানতে পারে তখন থেকেই মাইনুল অগ্নিরুপ ধারণ করে। দিনের পর দিন অত্যাচার করে আমার মেয়েকে। এ ছাড়াও সে আমার মেয়েকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে স্বর্ণালংকার ও ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। যার ৮ লাখ টাকা ফেরত দিলেও বাকি ৫ লাখ টাকা ফেরত দেয়নি।

নিহত সাদিয়ার পিতা বলেন, মেয়ের এ ধরনের মৃত্যু কতটা কষ্টের তা আপনাদের বোঝাতে পারব না। আমি পুলিশ-প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। খুনি মাইনুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। আমার মেয়ে হত্যার বিচার যেন পেতে পারি এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে কেদারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারীসহ নিহত সাদিয়ার স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার (৭ মার্চ) বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ড বৈদ্যপাড়ায় একটি ভবনের ৫ তলা থেকে সাদিয়া আক্তার সাথী নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সাদিয়া আক্তার সাথী ও বরিশাল জেলা ডিবির কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম এক বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করে বরিশালে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।##