অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘বর্তমানে ডিপেন্ডেন্সি রেশিও হচ্ছে ৭.৭ শতাংশ। যা ২০৫০ সালে বেড়ে হবে ২৪ শতাংশ এবং ২০৭৫ সালে এ ডিপেন্ডেন্সি রেশিওর পরিমাণ দাঁড়াবে ৪৮ শতাংশে। অর্থাৎ দিন দিন কর্মক্ষমতা নেই এমন লোকের সংখ্যা বাড়তে থাকবে। তাহলে যাদের কর্মক্ষমতা থাকবে না তাদের দায়িত্ব কে নেবে। কাউকে না কাউকে নিতে হবে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বজনীন পেনশনের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব নেওয়া হবে।’
বুধাবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পেনশন ব্যবস্থাটির একটি ইতিহাস রয়েছে উল্লেখ করে মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের সংবিধানেই আছে। সংবিধানের ১৫ ও ১৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, বাধ্যক্যজনিত কারণে, অভাবগ্রস্তদের অভাবের কারণে, যাদের সাহায্যের প্রয়োজন তারাসহ সরকারের সাহায্য লাভ প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার বিষয়ে অঙ্গীকার করেছিলেন। এর ধারবাহিকতায় আমিও ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় পেনশনের বিষয়ে বলেছিলাম যে, এটি আমরা বাস্তবায়ন করবো। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা এটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। এটি আমাদের সরকারের জন্য একটি অসাধারণ অর্জন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই কারণ পেনশনের ধারণাটি ছিল সরকার প্রধানের। তিনি আমাদের বার বার পেনশন ব্যবস্থা চালুর তাগিদ দিয়েছিলেন। এটি বাস্তবায়নে প্রত্যেকটা মানুষ উপকৃত হবেন।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের জনগণের আয়ষ্কাল হচ্ছে ৭৩ বছর। ২০৫০ সালে সেটা হবে ৮০ বছর ২০৭৫ সালে হবে ৮৫ বছর। এতে প্রমাণিত হয় যে, একজন কর্মজীবী ব্যক্তি অবসর গ্রহণের পরেও ২০ বছর আয়ু থাকবে। আর অবসরের সময় কিন্তু তাদের আয় থাকবে না। সেজন্য অবসরের পরে তাদের জীবনযাপন কেমন হবে বা কিভাবে চলবে তার জন্য তো কাউকে না কাউকে দায়িত্ব নিতে হবে। আর এ দায়িত্বটাই সরকার নিতে যাচ্ছে।’