ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই: ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ৬

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৬:২২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর্মীদের মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের তিন কর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ৬ থেকে ৮ অক্টোবর নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বিশিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে স্বপন (২৮), একই গ্রামের ওয়াজেদের ছেলে হাসান আলী (২৫), অলংকার দিঘি গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে ও ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর্মকর্তা সুজন (২৭), সিমলাদার গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে ও একই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবু তালেব (২২), অলংকার দিঘি গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে ও অফিস সহায়ক রাসেল বাবু (২২) এবং মোটরসাইকেলের মালিক রাব্বি আলী।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দুই কর্মী ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল বাবু আদমদীঘি রেলগেট থেকে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে এজেন্ট ব্যাংকের মালিক ফিরোজ হোসেনের আবাদপুকুর বাজার শাখার উদ্দেশে মোটরসাইকেলে রওনা হন। বেলা ১টার দিকে রানীনগর থানার পারইল বাজার পার হয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেল তাঁদের পথরোধ করে। এ সময় লোহার রড দিয়ে তাঁদের মারধর করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রানীনগর থানা পুলিশের একাধিক দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ঘটনার প্রাথমিক সূত্র উদ্‌ঘাটন করা হয়। ওই দিন রাতেই ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেলটি জব্দ এবং এর মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ৭ অক্টোবর তার তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও দিনাজপুরে অভিযান চালায়। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বপন ও হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর রানীনগর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর্মকর্তা সুজন ও আবু তালেব এবং অফিস সহায়ক রাসেল বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অফিস সহায়ক রাসেল বাবু এবং কর্মকর্তা সুজন ও আবু তালেব কয়েক মাস ধরে অনলাইন জুয়ায় অংশ নিয়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হারান। পরে তাঁরা বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে ওই টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে তাঁরা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক ফিরোজ হোসেনের টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে স্বপন, হাসানসহ আরও কয়েকজনকে যুক্ত করা হয়। প্রায় এক মাস ধরে তাঁরা এ পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ক্যাশিয়ার নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে টাকা আনতে যান। ফেরার পথে রাসেল বাবু স্বপন, হাসানসহ পলাতক সহযোগীদের তাদের অবস্থান জানাতে থাকেন। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালে স্বপন, হাসান ও তাদের সহযোগীরা মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে দুজনকে মারধর করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।

পুলিশ সুপার বলেন, ক্যাশিয়ার নাজমুল ছিলেন প্রকৃত ভুক্তভোগী। তাকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। অন্যদিকে, অফিস সহায়ক রাসেল বাবু এ ঘটনায় নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করলেও পুলিশের দাবি, তিনি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন।

তিনি আরও জানান, ছিনতাই হওয়া ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের তিন কর্মীর ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। বাকি টাকা অন্য ছিনতাইকারীদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এর মধ্যে স্বপন ও হাসানকে প্রাথমিকভাবে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয় এবং নওগাঁ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বলা হয়। পরে তাঁরা জয়পুরহাট হয়ে দিনাজপুরে চলে যান।

পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক হাসিবুল্লাহ হাসিব, নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান, রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডলসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই: ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ৬

আপডেট সময় ০৬:২২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

সিএনএমঃ

নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর্মীদের মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের তিন কর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ৬ থেকে ৮ অক্টোবর নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বিশিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে স্বপন (২৮), একই গ্রামের ওয়াজেদের ছেলে হাসান আলী (২৫), অলংকার দিঘি গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে ও ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর্মকর্তা সুজন (২৭), সিমলাদার গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে ও একই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবু তালেব (২২), অলংকার দিঘি গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে ও অফিস সহায়ক রাসেল বাবু (২২) এবং মোটরসাইকেলের মালিক রাব্বি আলী।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দুই কর্মী ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল বাবু আদমদীঘি রেলগেট থেকে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে এজেন্ট ব্যাংকের মালিক ফিরোজ হোসেনের আবাদপুকুর বাজার শাখার উদ্দেশে মোটরসাইকেলে রওনা হন। বেলা ১টার দিকে রানীনগর থানার পারইল বাজার পার হয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেল তাঁদের পথরোধ করে। এ সময় লোহার রড দিয়ে তাঁদের মারধর করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রানীনগর থানা পুলিশের একাধিক দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ঘটনার প্রাথমিক সূত্র উদ্‌ঘাটন করা হয়। ওই দিন রাতেই ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেলটি জব্দ এবং এর মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ৭ অক্টোবর তার তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও দিনাজপুরে অভিযান চালায়। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বপন ও হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর রানীনগর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর্মকর্তা সুজন ও আবু তালেব এবং অফিস সহায়ক রাসেল বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অফিস সহায়ক রাসেল বাবু এবং কর্মকর্তা সুজন ও আবু তালেব কয়েক মাস ধরে অনলাইন জুয়ায় অংশ নিয়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হারান। পরে তাঁরা বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে ওই টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে তাঁরা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক ফিরোজ হোসেনের টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে স্বপন, হাসানসহ আরও কয়েকজনকে যুক্ত করা হয়। প্রায় এক মাস ধরে তাঁরা এ পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ক্যাশিয়ার নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে টাকা আনতে যান। ফেরার পথে রাসেল বাবু স্বপন, হাসানসহ পলাতক সহযোগীদের তাদের অবস্থান জানাতে থাকেন। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালে স্বপন, হাসান ও তাদের সহযোগীরা মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে দুজনকে মারধর করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।

পুলিশ সুপার বলেন, ক্যাশিয়ার নাজমুল ছিলেন প্রকৃত ভুক্তভোগী। তাকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। অন্যদিকে, অফিস সহায়ক রাসেল বাবু এ ঘটনায় নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করলেও পুলিশের দাবি, তিনি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন।

তিনি আরও জানান, ছিনতাই হওয়া ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের তিন কর্মীর ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। বাকি টাকা অন্য ছিনতাইকারীদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এর মধ্যে স্বপন ও হাসানকে প্রাথমিকভাবে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয় এবং নওগাঁ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বলা হয়। পরে তাঁরা জয়পুরহাট হয়ে দিনাজপুরে চলে যান।

পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক হাসিবুল্লাহ হাসিব, নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান, রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডলসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।