ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হানিট্র্যাপে শিক্ষককে জিম্মি, ২ লাখ টাকার চেকসহ গ্রেপ্তার ৪

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:১৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ
নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর এবং ২ লাখ টাকার চেকে সই করিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি এলাকার চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাইয়ের বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছীর নিহনপুর এলাকার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার নাঈম হোসেন (২৫)।

বাসায় ডেকে জিম্মি করার অভিযোগ
পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিক্ষক জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এলাকার একটি স্কুলে কর্মরত। চামেলী আক্তার মিলির সঙ্গে আগে থেকেই তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। এর সূত্র ধরে গত ২৫ আগস্ট বিকেলে জরুরি কথা বলার কথা বলে তাকে নওগাঁ শহরের বাসায় ডেকে নেন মিলি।

শিক্ষক সেখানে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া চক্রটির অন্য সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে তাকে জিম্মি করে ৩০০ টাকার একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর এবং ২ লাখ টাকার একটি চেকে সই করিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফাঁকা স্ট্যাম্প ও চেক উদ্ধার
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। টানা এক সপ্তাহের অভিযানে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে শিক্ষকের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া ফাঁকা স্ট্যাম্প এবং ২ লাখ টাকার চেকটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আন্তঃউপজেলা ব্ল্যাকমেইলার চক্রের দাবি পুলিশের
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলাভিত্তিক একটি সক্রিয় ব্ল্যাকমেইলার চক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের নির্জন স্থানে ডেকে আনতেন। পরে ছবি তোলা, মারধরের হুমকি কিংবা সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো বলে জানান তিনি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

হানিট্র্যাপে শিক্ষককে জিম্মি, ২ লাখ টাকার চেকসহ গ্রেপ্তার ৪

আপডেট সময় ০৩:১৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিএনএমঃ
নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর এবং ২ লাখ টাকার চেকে সই করিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি এলাকার চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাইয়ের বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছীর নিহনপুর এলাকার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার নাঈম হোসেন (২৫)।

বাসায় ডেকে জিম্মি করার অভিযোগ
পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিক্ষক জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এলাকার একটি স্কুলে কর্মরত। চামেলী আক্তার মিলির সঙ্গে আগে থেকেই তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। এর সূত্র ধরে গত ২৫ আগস্ট বিকেলে জরুরি কথা বলার কথা বলে তাকে নওগাঁ শহরের বাসায় ডেকে নেন মিলি।

শিক্ষক সেখানে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া চক্রটির অন্য সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে তাকে জিম্মি করে ৩০০ টাকার একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর এবং ২ লাখ টাকার একটি চেকে সই করিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফাঁকা স্ট্যাম্প ও চেক উদ্ধার
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। টানা এক সপ্তাহের অভিযানে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে শিক্ষকের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া ফাঁকা স্ট্যাম্প এবং ২ লাখ টাকার চেকটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আন্তঃউপজেলা ব্ল্যাকমেইলার চক্রের দাবি পুলিশের
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলাভিত্তিক একটি সক্রিয় ব্ল্যাকমেইলার চক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের নির্জন স্থানে ডেকে আনতেন। পরে ছবি তোলা, মারধরের হুমকি কিংবা সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো বলে জানান তিনি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।