ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসী ‌‘চুয়া সেলিম’, জয় ও ‘বোমা রতন’ গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

‎রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যসহ তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-২)।

গ্রেফতার তিন সন্ত্রাসী হলেন- জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী চুয়া সেলিম, চাঁদ উদ্যানের শীর্ষ কিশোর গ্যাং লিডার মাহী গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড জয় ও রতন ওরফে বোমা রতন।

‎শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বছিলা র‍্যাব-২ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

র‍্যাব-২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
‎তিনি বলেন, জেনেভা ক্যাম্পের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও শীর্ষ মাদক কারবারি ৩৬ মামলায় অভিযুক্ত এবং হত্যা ও মাদকের ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি চুয়া সেলিম গ্রুপের প্রধান মো. সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিম ওরফে চোরা সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিদেশি অস্ত্র ও মাদকসহ রাজধানীর জেনেভা ক্যাম্প থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি মাহী গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড জয়কে চাঁদ উদ্যান থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও, তালিকাভুক্ত আরেক সন্ত্রাসী মো. রতন ওরফে বোমা রতনকে মোহাম্মদপুরের বিজলী মহল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নয়মুল হাসান বলেন, গত ২০ আগস্ট র‍্যাবের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-২ জানতে পারে, জেনেভা ক্যাম্পের এক গোপন আস্তানায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও শীর্ষ মাদক কারবারি, ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি চুয়া সেলিম অবস্থান করছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-২ এর এক আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে মো. সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিম ওরফে চোরা সেলিমকে একটি ৭.৬৫ বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড তাজা গুলি ও ১১০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেফতার করে।
দীর্ঘদিন রাজধানীর জেনেভা ক্যাম্প ও পার্শবর্তী এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, খুন, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধের প্রধান নিয়ন্ত্রক ও পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছিল এই চুয়া সেলিম। এর আগে গত বছরের ৮ জানুয়ারি ধানমন্ডি থেকে চুয়া সেলিমকে গ্রেফতার করেছিল র‍্যাব-২।

‎এছাড়াও, একই দিনে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং গ্রুপ লমাহি গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড ডাকাতি-ছিনতাই মাদকসহ ১০ মামলায় অভিযুক্ত জয়কে গ্রেফতার করা হয়। জয়সহ মাহি গ্রুপের সদস্যারা দীর্ঘদিন মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান, নবীনগর এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মারপিটে লিপ্ত হয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিলেন। এলাকার ব্যবসায়ী, ভাড়াটিয়া এবং নির্মানকাজ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিয়মিত তাদের চাঁদাবাজির স্বীকার হতেন। এর আগে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জয়কে গ্রেফতার করেছিল।

একই দিনে র‍্যাব-২ এর অপর এক আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানার বিজলী মহল্লায় অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত অপরাধী এবং দস্যুতা, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্রসহ ২০ মামলার আসামি মো. রতন ওরফে বোমা রতনকে গ্রেফতার করে। আলোচিত সন্ত্রাসী বোমা রতন দীর্ঘদিন গজনবী রোড, বছিলা ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই ও অস্ত্রধারী চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। এর আগে বোমা রতন ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি গজনবী রোড থেকে ধারালো অস্ত্রসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাতে আটক হয়।

‎র‍্যাব-২ আরও জানান, জব্দ করা আলামত এবং গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসী ‌‘চুয়া সেলিম’, জয় ও ‘বোমা রতন’ গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৭:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

সিএনএমঃ

‎রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যসহ তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-২)।

গ্রেফতার তিন সন্ত্রাসী হলেন- জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী চুয়া সেলিম, চাঁদ উদ্যানের শীর্ষ কিশোর গ্যাং লিডার মাহী গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড জয় ও রতন ওরফে বোমা রতন।

‎শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বছিলা র‍্যাব-২ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

র‍্যাব-২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
‎তিনি বলেন, জেনেভা ক্যাম্পের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও শীর্ষ মাদক কারবারি ৩৬ মামলায় অভিযুক্ত এবং হত্যা ও মাদকের ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি চুয়া সেলিম গ্রুপের প্রধান মো. সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিম ওরফে চোরা সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিদেশি অস্ত্র ও মাদকসহ রাজধানীর জেনেভা ক্যাম্প থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি মাহী গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড জয়কে চাঁদ উদ্যান থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও, তালিকাভুক্ত আরেক সন্ত্রাসী মো. রতন ওরফে বোমা রতনকে মোহাম্মদপুরের বিজলী মহল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নয়মুল হাসান বলেন, গত ২০ আগস্ট র‍্যাবের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-২ জানতে পারে, জেনেভা ক্যাম্পের এক গোপন আস্তানায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও শীর্ষ মাদক কারবারি, ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি চুয়া সেলিম অবস্থান করছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-২ এর এক আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে মো. সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিম ওরফে চোরা সেলিমকে একটি ৭.৬৫ বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড তাজা গুলি ও ১১০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেফতার করে।
দীর্ঘদিন রাজধানীর জেনেভা ক্যাম্প ও পার্শবর্তী এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, খুন, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধের প্রধান নিয়ন্ত্রক ও পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছিল এই চুয়া সেলিম। এর আগে গত বছরের ৮ জানুয়ারি ধানমন্ডি থেকে চুয়া সেলিমকে গ্রেফতার করেছিল র‍্যাব-২।

‎এছাড়াও, একই দিনে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং গ্রুপ লমাহি গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড ডাকাতি-ছিনতাই মাদকসহ ১০ মামলায় অভিযুক্ত জয়কে গ্রেফতার করা হয়। জয়সহ মাহি গ্রুপের সদস্যারা দীর্ঘদিন মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান, নবীনগর এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মারপিটে লিপ্ত হয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিলেন। এলাকার ব্যবসায়ী, ভাড়াটিয়া এবং নির্মানকাজ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিয়মিত তাদের চাঁদাবাজির স্বীকার হতেন। এর আগে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জয়কে গ্রেফতার করেছিল।

একই দিনে র‍্যাব-২ এর অপর এক আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানার বিজলী মহল্লায় অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত অপরাধী এবং দস্যুতা, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্রসহ ২০ মামলার আসামি মো. রতন ওরফে বোমা রতনকে গ্রেফতার করে। আলোচিত সন্ত্রাসী বোমা রতন দীর্ঘদিন গজনবী রোড, বছিলা ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই ও অস্ত্রধারী চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। এর আগে বোমা রতন ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি গজনবী রোড থেকে ধারালো অস্ত্রসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাতে আটক হয়।

‎র‍্যাব-২ আরও জানান, জব্দ করা আলামত এবং গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।