বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
"ফটো সাংবাদিক আবশ্যক" দেশের প্রতিটি থানা পর্যায়ে "ক্রাইম নিউজ মিডিয়া" সংবাদ সংস্থায় ১জন রিপোর্টার ও ১জন ফটো সাংবাদিক আবশ্যক। আগ্রহী প্রার্থীরা  যোগাযোগ করুন। ইমেইলঃ cnm24bd@gmail.com ০১৯১১৪০০০৯৫

খানজাহান আলী দিঘির কুমির ফেরত দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

  • আপডেট সময় রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৩.৩০ পিএম
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া কুমিরটি আবারো দিঘিতে অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন মাজারের খাদেমরা।

রবিবার (৭ জুন) দুপুরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।

লিখিত বক্তব্যে মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, “মাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা অনুমতি ছাড়াই দিঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।” এর মাধ্যমে বাগেরহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, “এর আগেও চিকিৎসার জন্য দিঘি থেকে দুটি কুমির নিয়ে যাওয়া হলেও সেগুলো আর ফেরত দেওয়া হয়নি।” বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও ঘোষণা দেন প্রধান খাদেম।

খাদেমদের দাবি, প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগে উলুঘ খান জাহান আলী দিঘিটি খননের সময় পানির নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের জন্য সেখানে কুমির অবমুক্ত করেছিলেন। এরপর থেকেই মাজারের দিঘিতে কুমিরের উপস্থিতি ছিল। দীর্ঘদিন প্রজনন না হওয়া, বিভিন্ন দুর্ঘটনা এবং মানবসৃষ্ট কারণে একে একে কুমিরগুলো মারা যেতে থাকে। সর্বশেষ স্থানীয় বংশধারার কুমিরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- খাদেম ফকির পেয়ার আলী, সৈয়দ খালিদ আহম্মেদ, শেখ রবিউল ইসলাম, শেখ আব্দুল জলিল, কাজী শাকিল, শেখ শামিম হাসান প্রমুখ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কুমিরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটি কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়। তবে, সেগুলোরও কয়েকটি পরে মারা যায়। সর্বশেষ দুটি কুমিরের মধ্যে একটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যাওয়ার পর দিঘিতে মাত্র একটি কুমির অবশিষ্ট ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে ওই কুমিরটি মানুষ ও প্রাণীর ওপর আক্রমণ চালায়। চলতি বছরের এপ্রিলে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুর মারা যাওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

গত ১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারসংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের নারী ঘাটে গোসল করতে নামলে ফাতেমা আক্তার (৭) নামে এক শিশুকে কুমিরটি পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরদিন ২ জুন ভোরে দিঘি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনার পর দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ৩ জুন দিঘি থেকে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্য দিয়ে খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরের সাড়ে ৬০০ বছরের ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
প্রকাশনায় : ২৪ ক্রাইম নিউজ মিডিয়া লিমিটেড
Theme Developed BY ThemesBazar.Com