ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার জার্সিতে ‘ভোজিনহা’ নামেই খেলবেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ৬ হাজার ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার এক বছরেই ৩০ পারা মুখস্থ, হাফেজ হলো ৮ বছরের আব্দুর রহমান লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে টোল নেবে না হুথিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ র‍্যাবের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম চারদিক বন্যার পানিতে ডুবলেও ডুবে না ক্লাস্টার বসতভিটা

মসজিদে আজান শুরু হলে আশপাশে সাপের উপস্থিতি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:২১:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • ১২৮ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পালশা থান্দারপাড়ায় অবস্থিত প্রায় ২৭০ বছর পুরোনো এক গম্বুজ মসজিদকে ঘিরে নানা রহস্যের গল্প প্রচলিত।

স্থানীয়দের দাবি, এই মসজিদটি মোঘল আমলের স্থাপত্যশৈলী বহন করে এবং প্রায়শই এখানে অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হন তারা।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, মসজিদে আজান শুরু হলে আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়। আরও অবাক করার বিষয় হলো, গভীর রাতে বা ফজরের আগে মসজিদের ওজুখানার দিক থেকে পানির শব্দ শোনা যায়—যেন কেউ ওজু করছেন। কাছে গেলে কাউকে দেখা যায় না।
সাবেক মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান বহুবার এই ঘটনাগুলো প্রত্যক্ষ করেছেন। এই তথ্য স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত হলেও বাইরের মানুষের কাছে তা বিস্ময়ের কারণ।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ছোট্ট এই এক গম্বুজ মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলী বহন করে আজও দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের পরিক্রমায় আশপাশের পরিবেশ ও বসতবাড়িতে অনেক পরিবর্তন এলেও মসজিদটির প্রাচীন কাঠামো অনেকটাই আগের মতোই রয়েছে।
মসজিদের দীর্ঘদিনের খাদেম আনসার আলী মৃধা কালবেলাকে বলেন, বহু বছর ধরে তিনি মসজিদটির দেখভাল করছেন এবং মাঝেমধ্যেই এমন অদ্ভুত ঘটনার কথা শুনেছেন ও কিছুটা অনুভবও করেছেন।
তিনি বলেন, শুধু সাপের উপস্থিতিই নয়, মাঝে মাঝে গভীর রাতে বা ফজরের আগে মসজিদের ওজুখানার দিক থেকে পানির শব্দ শোনা যায়। মনে হয় যেন কেউ ওজু করছেন। তবে কাছে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না।
এলাকার বাসিন্দা রুহুল কুদ্দুস মাস্টার, ইমরান ও কাবেদ আলী জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা এই মসজিদকে ঘিরে নানা গল্প শুনে আসছেন। কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করেন, আবার কেউ মনে করেন এটি প্রাচীন মসজিদের রহস্যময় পরিবেশেরই অংশ।
স্থানীয়দের মতে, এই মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; বরং এটি এলাকাবাসীর বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। একসময় ছোট্ট এই মসজিদে একসঙ্গে মাত্র সাতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে পাশেই নতুন একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে, তবে পুরোনো মসজিদটি এখনো ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।
এলাকার অনেক মানুষের বিশ্বাস, এই মসজিদে মান্নত করলে মনের আশা পূরণ হয়। তাই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এখানে আসেন নামাজ আদায় করতে কিংবা প্রাচীন এই স্থাপনাটি এক নজর দেখতে।
সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন মসজিদটি আজও বহন করছে ইতিহাস, বিশ্বাস ও রহস্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে মসজিদটি কিছুটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। তারা প্রাচীন কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যথাযথ সংস্কার করলে এটি শুধু ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে না, বরং দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

মসজিদে আজান শুরু হলে আশপাশে সাপের উপস্থিতি

আপডেট সময় ০১:২১:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পালশা থান্দারপাড়ায় অবস্থিত প্রায় ২৭০ বছর পুরোনো এক গম্বুজ মসজিদকে ঘিরে নানা রহস্যের গল্প প্রচলিত।

স্থানীয়দের দাবি, এই মসজিদটি মোঘল আমলের স্থাপত্যশৈলী বহন করে এবং প্রায়শই এখানে অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হন তারা।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, মসজিদে আজান শুরু হলে আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়। আরও অবাক করার বিষয় হলো, গভীর রাতে বা ফজরের আগে মসজিদের ওজুখানার দিক থেকে পানির শব্দ শোনা যায়—যেন কেউ ওজু করছেন। কাছে গেলে কাউকে দেখা যায় না।
সাবেক মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান বহুবার এই ঘটনাগুলো প্রত্যক্ষ করেছেন। এই তথ্য স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত হলেও বাইরের মানুষের কাছে তা বিস্ময়ের কারণ।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ছোট্ট এই এক গম্বুজ মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলী বহন করে আজও দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের পরিক্রমায় আশপাশের পরিবেশ ও বসতবাড়িতে অনেক পরিবর্তন এলেও মসজিদটির প্রাচীন কাঠামো অনেকটাই আগের মতোই রয়েছে।
মসজিদের দীর্ঘদিনের খাদেম আনসার আলী মৃধা কালবেলাকে বলেন, বহু বছর ধরে তিনি মসজিদটির দেখভাল করছেন এবং মাঝেমধ্যেই এমন অদ্ভুত ঘটনার কথা শুনেছেন ও কিছুটা অনুভবও করেছেন।
তিনি বলেন, শুধু সাপের উপস্থিতিই নয়, মাঝে মাঝে গভীর রাতে বা ফজরের আগে মসজিদের ওজুখানার দিক থেকে পানির শব্দ শোনা যায়। মনে হয় যেন কেউ ওজু করছেন। তবে কাছে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না।
এলাকার বাসিন্দা রুহুল কুদ্দুস মাস্টার, ইমরান ও কাবেদ আলী জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা এই মসজিদকে ঘিরে নানা গল্প শুনে আসছেন। কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করেন, আবার কেউ মনে করেন এটি প্রাচীন মসজিদের রহস্যময় পরিবেশেরই অংশ।
স্থানীয়দের মতে, এই মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; বরং এটি এলাকাবাসীর বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। একসময় ছোট্ট এই মসজিদে একসঙ্গে মাত্র সাতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে পাশেই নতুন একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে, তবে পুরোনো মসজিদটি এখনো ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।
এলাকার অনেক মানুষের বিশ্বাস, এই মসজিদে মান্নত করলে মনের আশা পূরণ হয়। তাই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এখানে আসেন নামাজ আদায় করতে কিংবা প্রাচীন এই স্থাপনাটি এক নজর দেখতে।
সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন মসজিদটি আজও বহন করছে ইতিহাস, বিশ্বাস ও রহস্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে মসজিদটি কিছুটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। তারা প্রাচীন কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যথাযথ সংস্কার করলে এটি শুধু ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে না, বরং দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।