ঢাকা ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলা হলে রুখে দাঁড়াবে আফগানিস্তান

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:১১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৭ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছে আফগানিস্তান। তালেবান শাসিত দেশটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ড কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় তবে তেহরানকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদানের ইঙ্গিতও দিয়েছে কাবুল।

গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব তাঁর দেশের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “আফগানিস্তান বিশ্বের কোনো দেশের জন্যই হুমকি নয়। আমরা কোনো পক্ষকেই আমাদের দেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সুযোগ দেব না।” তিনি বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে আফগানিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না করার জন্য কঠোর আহ্বান জানান।

তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিবিসি পার্সিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরও জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা কোনো যুদ্ধ চাই না এবং আশা করি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সৃষ্ট এই সামরিক উত্তেজনা আলোচনার মাধ্যমেই মিটে যাবে। তবে যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই হামলা চালায় এবং ইরান আমাদের কাছে কোনো ধরনের সহায়তা চায়, তবে আফগানরা তাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রশংসা করে দাবি করেন যে, ইরান নিজেকে রক্ষা করতে পুরোপুরি সক্ষম। তিনি উদাহরণ হিসেবে ইসরায়েলের সাথে ইরানের গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই সংঘাতে ইরান বিজয়ী হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ঘোষণা আর অন্যদিকে প্রতিবেশীর প্রতি সংহতি প্রকাশের মাধ্যমে তালেবান সরকার ওয়াশিংটনকে এক ধরণের সতর্কবার্তা প্রদান করল। এখন দেখার বিষয়, কাবুলের এই প্রকাশ্য অবস্থান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে কোনো প্রভাব ফেলে কি না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

ইরানে হামলা হলে রুখে দাঁড়াবে আফগানিস্তান

আপডেট সময় ০১:১১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছে আফগানিস্তান। তালেবান শাসিত দেশটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ড কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় তবে তেহরানকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদানের ইঙ্গিতও দিয়েছে কাবুল।

গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব তাঁর দেশের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “আফগানিস্তান বিশ্বের কোনো দেশের জন্যই হুমকি নয়। আমরা কোনো পক্ষকেই আমাদের দেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সুযোগ দেব না।” তিনি বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে আফগানিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না করার জন্য কঠোর আহ্বান জানান।

তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিবিসি পার্সিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরও জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা কোনো যুদ্ধ চাই না এবং আশা করি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সৃষ্ট এই সামরিক উত্তেজনা আলোচনার মাধ্যমেই মিটে যাবে। তবে যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই হামলা চালায় এবং ইরান আমাদের কাছে কোনো ধরনের সহায়তা চায়, তবে আফগানরা তাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রশংসা করে দাবি করেন যে, ইরান নিজেকে রক্ষা করতে পুরোপুরি সক্ষম। তিনি উদাহরণ হিসেবে ইসরায়েলের সাথে ইরানের গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই সংঘাতে ইরান বিজয়ী হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ঘোষণা আর অন্যদিকে প্রতিবেশীর প্রতি সংহতি প্রকাশের মাধ্যমে তালেবান সরকার ওয়াশিংটনকে এক ধরণের সতর্কবার্তা প্রদান করল। এখন দেখার বিষয়, কাবুলের এই প্রকাশ্য অবস্থান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে কোনো প্রভাব ফেলে কি না।