ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুসিক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:২২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুন ২০২২
  • ২২৪ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক), উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ মোট ১৮৯টি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হচ্ছে।

বুধবার (১৫ জুন) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান মঙ্গলবার (১৪ জুন) জানান, বুধবার সকাল ৮টা থেকে ভোট চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। একই দিন একটি উপজেলায় সাধারণ নির্বাচন ও তিনটি উপজেলায় বিভিন্ন পদে উপনির্বাচন, পাঁচ পৌরসভায় সাধারণ ও একটি ওয়ার্ডে উপনির্বাচন, ১৩২টি ইউনিয়নে সাধারণ ও ৪৭টি ইউপিতে বিভিন্ন পদে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে কুসিক, ১৩২ ইউপি ও দুটি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)।

কুসিক নির্বাচনে পুরো ভোটকেন্দ্রই থাকছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এতে ১০৫টি ভোটকেন্দ্রে লাগানো হয়েছে ৮৫০টি সিসি ক্যামেরা।

এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান জানান, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে মোট ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি ভোটকক্ষের প্রতিটিতে বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। এতে মোট ৮৫০টি সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করবে ভোটারসহ সবার গতিবিধি। এক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের প্রবেশ পথ ও ভোটকক্ষের প্রবেশ পথে থাকবে সিসি ক্যামেরা।

এদিকে কুমিল্লা সিটির ভোটে প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনের প্রতিটি সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ১৫ জন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৬ জন করে সার্বক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। ভোটের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ, আনসার ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে মোট ২৭টি মোবাইল টিম এবং ৯টি স্ট্রাইকিং টিম রয়েছে। এছাড়া রিজার্ভ টিম আছে দুটি। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ২৭টি মোবাইল টিম এবং ১২ প্লাটুন বিজিবি নিয়োজিত থাকছে এ সিটিতে।

ভোটের এলাকায় প্রচার শুরুর আগে থেকেই বিজিবির একটি অংশ অবস্থান নিয়েছে।

কুমিল্লা সিটিতে মেয়র পদে ছয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত আরফানুল হক রিফাত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাশেদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র হিসেবে কামরুল আহসান বাবুল, মো. মনিরুল হক সাক্কু (বিএনপি নেতা ও দুইবারের মেয়র), মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ও মাসুদ পারভেজ খান। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। অর্থাৎ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে পাঁচ প্রার্থী। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর মিলে ১৪০ জনের মতো প্রার্থী আছে ভোটের মাঠে। এ নির্বাচনে ৫ নম্বর ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন কাউন্সিলর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

কুমিল্লা সিটিতে ভোটগ্রহণ হবে সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি ভোটকক্ষে। কুসিকের ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার রয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এদের মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন নারী ভোটার এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে দুজন।

আইন অনুযায়ী, প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর হয় নির্বাচিত কর্পোরেশনের মেয়াদ। কুমিল্লা সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২২ সালের ১৬ মে। আর ভোটগ্রহণ করতে হয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে। এ হিসেবে গত বছরের ১৬ নভেম্বর থেকে এ সিটি নির্বাচনের সময় গণনা শুরু হয়। সর্বশেষ কুমিল্লা সিটি ভোট হয়েছিল ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ। নির্বাচিত কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওই বছরের ১৭ মে। এক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ ১৬ মের মধ্যে করার কথা থাকলেও নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু বিগত কমিশন বিদায়ের সময় ঘনিয়ে আসায় আর তফসিল দেয়নি। ফলে অতি অল্প সময়ের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এই সিটি পরিচালনায় দায়িত্ব দিতে হয়েছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে। নির্বাচনের পর নতুন মেয়র দায়িত্ব গ্রহণ করা পর্যন্ত তিনি কর্পোরেশন পরিচালনা করবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

কুসিক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

আপডেট সময় ১০:২২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুন ২০২২

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক), উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ মোট ১৮৯টি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হচ্ছে।

বুধবার (১৫ জুন) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান মঙ্গলবার (১৪ জুন) জানান, বুধবার সকাল ৮টা থেকে ভোট চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। একই দিন একটি উপজেলায় সাধারণ নির্বাচন ও তিনটি উপজেলায় বিভিন্ন পদে উপনির্বাচন, পাঁচ পৌরসভায় সাধারণ ও একটি ওয়ার্ডে উপনির্বাচন, ১৩২টি ইউনিয়নে সাধারণ ও ৪৭টি ইউপিতে বিভিন্ন পদে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে কুসিক, ১৩২ ইউপি ও দুটি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)।

কুসিক নির্বাচনে পুরো ভোটকেন্দ্রই থাকছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এতে ১০৫টি ভোটকেন্দ্রে লাগানো হয়েছে ৮৫০টি সিসি ক্যামেরা।

এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান জানান, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে মোট ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি ভোটকক্ষের প্রতিটিতে বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। এতে মোট ৮৫০টি সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করবে ভোটারসহ সবার গতিবিধি। এক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের প্রবেশ পথ ও ভোটকক্ষের প্রবেশ পথে থাকবে সিসি ক্যামেরা।

এদিকে কুমিল্লা সিটির ভোটে প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনের প্রতিটি সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ১৫ জন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৬ জন করে সার্বক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। ভোটের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ, আনসার ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে মোট ২৭টি মোবাইল টিম এবং ৯টি স্ট্রাইকিং টিম রয়েছে। এছাড়া রিজার্ভ টিম আছে দুটি। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ২৭টি মোবাইল টিম এবং ১২ প্লাটুন বিজিবি নিয়োজিত থাকছে এ সিটিতে।

ভোটের এলাকায় প্রচার শুরুর আগে থেকেই বিজিবির একটি অংশ অবস্থান নিয়েছে।

কুমিল্লা সিটিতে মেয়র পদে ছয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত আরফানুল হক রিফাত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাশেদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র হিসেবে কামরুল আহসান বাবুল, মো. মনিরুল হক সাক্কু (বিএনপি নেতা ও দুইবারের মেয়র), মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ও মাসুদ পারভেজ খান। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। অর্থাৎ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে পাঁচ প্রার্থী। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর মিলে ১৪০ জনের মতো প্রার্থী আছে ভোটের মাঠে। এ নির্বাচনে ৫ নম্বর ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন কাউন্সিলর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

কুমিল্লা সিটিতে ভোটগ্রহণ হবে সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি ভোটকক্ষে। কুসিকের ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার রয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এদের মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন নারী ভোটার এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে দুজন।

আইন অনুযায়ী, প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর হয় নির্বাচিত কর্পোরেশনের মেয়াদ। কুমিল্লা সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২২ সালের ১৬ মে। আর ভোটগ্রহণ করতে হয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে। এ হিসেবে গত বছরের ১৬ নভেম্বর থেকে এ সিটি নির্বাচনের সময় গণনা শুরু হয়। সর্বশেষ কুমিল্লা সিটি ভোট হয়েছিল ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ। নির্বাচিত কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওই বছরের ১৭ মে। এক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ ১৬ মের মধ্যে করার কথা থাকলেও নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু বিগত কমিশন বিদায়ের সময় ঘনিয়ে আসায় আর তফসিল দেয়নি। ফলে অতি অল্প সময়ের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এই সিটি পরিচালনায় দায়িত্ব দিতে হয়েছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে। নির্বাচনের পর নতুন মেয়র দায়িত্ব গ্রহণ করা পর্যন্ত তিনি কর্পোরেশন পরিচালনা করবেন।