ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এইউবির সাবেক ভিসি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৪:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুন ২০২২
  • ২২১ বার পড়া হয়েছে

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এইউবি) সাবেক ভিসি আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্র ঐক্য পরিষদ। সার্টিফিকেট বাণিজ্য, অর্থ পাচার, লুটপাট ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালকের কাছে অভিযোগ দেয় সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৬ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউজিসির সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

তিনি বলেন, ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর গত ১৬ বছরে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সরকারি অডিট না হওয়ায় সাবেক ভিসি আবুল হাসান এম সাদেক, ট্রাস্ট চেয়ারম্যান জাফার সাদেক, ট্রাস্ট সদস্য সালেহা খাতুন আয়কর ফাঁকি দিয়ে সীমাহীন দুর্নীতি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার ও নামে বেনামে কয়েক শতাধিক এফডিআর করেছেন। ঢাকাসহ আশপাশে ১০০ বিঘার ওপরে জমি, নামে বেনামে ফ্লাট-বাড়ি কিনে অবৈধ সম্পদের কালো পাহাড় গড়ে তুলেছেন। গত ২৬ বছরে দুর্নীতির মহোৎসবে মেতে ছিলেন তারা।’

ড. এম. আনিছুর রহমান বলেন, ‘সাবেক ভিসি সাদেক ১৯৯৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত মিথ্যা তথ্য দিয়ে ১৬ বছর ভিসির দায়িত্বে ছিলেন। তার ছেলে জাফার সাদেক এইউবি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বিভিন্নভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ নিজ নামে হাতিয়ে নিয়েছেন। ১৯৯৬ সাল থেকে প্রোভিসি ও ট্রেজারার এবং ২০১২ সাল থেকে ভিসি পদে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত কোনো ব্যক্তি না থাকায় সাদেক ও জাফার সাদেক সীমাহীন দুর্নীতি করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সঠিক কোনো অডিট না হওয়ায়, নিজেরা যোগসাজশে অবৈধভাবে প্রোভিসি ও ট্রেজারার নিয়োগ দিয়েছেন। জাফার সাদেক ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হয়েও লাভজনক ৮টি পদ একা দখল করে রেখেছেন। জাফার সাদেক ট্রাস্ট চেয়ারম্যান হয়েও অবৈধভাবে আইকিউএসির ডিরেক্টর হয়ে এইচইকিউপি প্রোজেক্টের সরকারি কোটি টাকা কোনো কাজ ছাড়াই গায়েব করেছেন। তিনি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে মাসে ৭৫ হাজার টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে দীর্ঘ ১০ বছরেরও অধিক সময় ধরে আত্মসাৎ করছেন।’

নিজেদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও জঙ্গি অর্থায়নের বিষয়ে এইউবির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জাফার সাদেক বলেন, ‘যারা অভিযোগ দিচ্ছে তারা নিজে থেকেই আর ভার্সিটিতে আসছেন না। তারা এখন ইউজিসিতে অভিযোগ দিয়ে মানববন্ধন করছে। তবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জঙ্গি অর্থায়নের বিষয়টি মিথ্যা বলেই ফোন কেটে দেন।’

পরে এই প্রতিবেদক চেয়ারম্যান জাফার সাদেককে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালক মো. ওমর ফারুখ বলেন, ‘এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসির বিরুদ্ধে তদন্ত করতে কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটি তাদের সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

এইউবির সাবেক ভিসি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুন ২০২২

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এইউবি) সাবেক ভিসি আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্র ঐক্য পরিষদ। সার্টিফিকেট বাণিজ্য, অর্থ পাচার, লুটপাট ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালকের কাছে অভিযোগ দেয় সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৬ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউজিসির সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

তিনি বলেন, ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর গত ১৬ বছরে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সরকারি অডিট না হওয়ায় সাবেক ভিসি আবুল হাসান এম সাদেক, ট্রাস্ট চেয়ারম্যান জাফার সাদেক, ট্রাস্ট সদস্য সালেহা খাতুন আয়কর ফাঁকি দিয়ে সীমাহীন দুর্নীতি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার ও নামে বেনামে কয়েক শতাধিক এফডিআর করেছেন। ঢাকাসহ আশপাশে ১০০ বিঘার ওপরে জমি, নামে বেনামে ফ্লাট-বাড়ি কিনে অবৈধ সম্পদের কালো পাহাড় গড়ে তুলেছেন। গত ২৬ বছরে দুর্নীতির মহোৎসবে মেতে ছিলেন তারা।’

ড. এম. আনিছুর রহমান বলেন, ‘সাবেক ভিসি সাদেক ১৯৯৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত মিথ্যা তথ্য দিয়ে ১৬ বছর ভিসির দায়িত্বে ছিলেন। তার ছেলে জাফার সাদেক এইউবি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বিভিন্নভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ নিজ নামে হাতিয়ে নিয়েছেন। ১৯৯৬ সাল থেকে প্রোভিসি ও ট্রেজারার এবং ২০১২ সাল থেকে ভিসি পদে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত কোনো ব্যক্তি না থাকায় সাদেক ও জাফার সাদেক সীমাহীন দুর্নীতি করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সঠিক কোনো অডিট না হওয়ায়, নিজেরা যোগসাজশে অবৈধভাবে প্রোভিসি ও ট্রেজারার নিয়োগ দিয়েছেন। জাফার সাদেক ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হয়েও লাভজনক ৮টি পদ একা দখল করে রেখেছেন। জাফার সাদেক ট্রাস্ট চেয়ারম্যান হয়েও অবৈধভাবে আইকিউএসির ডিরেক্টর হয়ে এইচইকিউপি প্রোজেক্টের সরকারি কোটি টাকা কোনো কাজ ছাড়াই গায়েব করেছেন। তিনি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে মাসে ৭৫ হাজার টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে দীর্ঘ ১০ বছরেরও অধিক সময় ধরে আত্মসাৎ করছেন।’

নিজেদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও জঙ্গি অর্থায়নের বিষয়ে এইউবির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জাফার সাদেক বলেন, ‘যারা অভিযোগ দিচ্ছে তারা নিজে থেকেই আর ভার্সিটিতে আসছেন না। তারা এখন ইউজিসিতে অভিযোগ দিয়ে মানববন্ধন করছে। তবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জঙ্গি অর্থায়নের বিষয়টি মিথ্যা বলেই ফোন কেটে দেন।’

পরে এই প্রতিবেদক চেয়ারম্যান জাফার সাদেককে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালক মো. ওমর ফারুখ বলেন, ‘এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসির বিরুদ্ধে তদন্ত করতে কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটি তাদের সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’