রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ এবং তাদেরকে জরিমানা করায় ট্রেনের টিটিইকে সাময়িক বরখাস্তে করে রেল কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় দুই কার্যদিবসের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়া একদিনে মধ্যে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে ট্রেনের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলামকে কাজে যোগদানসহ তদন্তের সময় আরো দুইদনি বৃদ্ধি করে আগামী ১১ মে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (৮ মে) দুপুর ১২টর দিকে নিজ ক্ষমতাবলে টিটিই’র বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদে বহাল করেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক শাহিদুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য বিষয়টি আরো তদন্ত করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেন।
গত ৫ মে রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ ও নিয়ম অনুসারে টিটিই কাছ থেকে টিকিট কাটার পরে সেই টিটিইর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়দানকারী একজন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মো. শফিকুল ইসলাম টিটিইসহ অভিযোগকারী ইমরুল কায়েস প্রান্ত ও তদন্ত কমিটির সকল সদস্যদের জিজ্ঞাসা বাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয় পাকশী বিভাগীয় অফিসে। এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহরে জন্য স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা সেখানে হাজির হন। সকাল ১০টায় জিজ্ঞাসা বাদের সময় দেয়া হলেও সেখানে দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। একটি কক্ষে দেখা মেলে টিটিই শফিকুল ইসামের সাথে। তিনি সেখানে ঘোটে যাওয়া ঘটনার লিখিত বিবরণ লিখছিলেন কর্তৃপক্ষকে দেয়া জন্য। এর কিছু সময় পরে ঘটনাস্থলে হাজির হন অভিযোগকারী মন্ত্রীয় স্ত্রীর আত্মীয় প্রান্ত। তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক শাহিদুল ইসলাম জানান, কোনো রকম আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য নেয়া হয়নি শফিকুল ইসলামের। ফলে বরখাস্তের আদেশ অসঙ্গতি মনে হওয়ায় তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটির কার্যক্রম আরও দুইদিন বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার (৭ মে) ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে সহকারী পরিবহণ কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলামকে প্রধান এবং সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) শিপন আলী ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী কমান্ডেন্ট (এসিআরএনবি) আবু হেনা মোস্তফা কামালকে সদস্য করা হয়েছে।
এদিকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে দায়িত্বশীল কর্মীকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মন্ত্রীর স্ত্রীর আত্মীয় হওয়ার কারণে টিটিই মো. শফিকুল ইসলামকে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি সেদিনের সেই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে তাদের শাস্তি প্রদান করা হক। তাদের দেয়া তথ্যমতে টিটিই শফিকুল এক ভালো কর্মচারী। তা বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে সেটি মিথ্যা।
তবে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে ইমরুল কায়েস প্রান্ত লিখিত অভিযোগের বিষয় সত্য বলে দাবি করেন। তিনি মন্ত্রীর কি ধরনের আত্মীয় জানতে চাইলে তিনি কৌশলে সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, তাকে জড়িয়ে যে সকল সংবাদ প্রকাশ হয়েছে এটা ঠিক না। দেশের সকল গণমাধ্যম কর্মীদের সংবাদ পরিবেশ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এদিকে জিজ্ঞাবাদের জন্য হাজির হওয়া টিটিই মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, গত শুক্রবার রাতে পাবনার ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে বিনা টিকিটে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি কেবিনে বসে ছিলো। তাদের নিকট টিটিক চাইলে তারা মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিলে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নাছির উদ্দিন ডিসিও স্যারের সাথে কথা বলে তার নির্দেশনা অনুসারে তাদের সুলভ শ্রেণির এক হাজার পঞ্চাশ টাকা নিয়ে তিনটি টিকিট করে দিয়েছি। তাদের সাথে আমার কোন বাড়তি কথা বা বাজে আচরণ হয়নি। তবে কেন তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে সেটি আমি জানি না। আমি শুধু দায়িত্ব পালন করছি। আমি কোন অন্যায় কাজ করিনি।