মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
"ফটো সাংবাদিক আবশ্যক" দেশের প্রতিটি থানা পর্যায়ে "ক্রাইম নিউজ মিডিয়া" সংবাদ সংস্থায় ১জন রিপোর্টার ও ১জন ফটো সাংবাদিক আবশ্যক। আগ্রহী প্রার্থীরা  যোগাযোগ করুন। ইমেইলঃ cnm24bd@gmail.com ০১৯১১৪০০০৯৫

রেলে নৈরাজ্যের দায় নেওয়ার কেউ নেই!

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২২, ১১.০৮ এএম
  • ১৮৫ বার পড়া হয়েছে
রেলের টিকেট বিক্রিতে কালোবাজারি, অনলাইনে সার্ভার ডাউন, জায়গা দখল করে তা টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া, টিকেটপ্রত্যাশীদের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা- এসব চিত্র প্রতিটি ঈদ বা উৎসবেই দেখা যায়। কিন্তু এতকিছুর পরও ট্রেনযাত্রীদের একটু স্বস্তি দিতে নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। মন্ত্রী-রেলের কর্মকর্তা, সবারই যেন দায়সারা ভাব। বুধবার থেকে শুরু হয়েছে অগ্রিম টিকেট নেওয়া যাত্রীদের ঈদযাত্রা।
প্রথম দিনেই শুরু হয়েছে শিডিউল বিপর্যয়:
রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ৬টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে ৬টা ৫৫ মিনিটে। খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়ার সময় ছিল ৮টা ১৫ মিনিটে; কিন্তু ছেড়েছে ৮টা ৫০ মিনিটে। রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন ৯টা ১০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ছাড়ে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে। বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ৫৫ মিনিট দেরি করে ছেড়েছে ২টা ৩০ মিনিটে। রাজশাহীগামী কমিউটার ট্রেন দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা প্রায় ৩ ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে দেখা দেয় তীব্র ক্ষোভ। তাদের ভাষ্য, কষ্ট করে টিকেট কেটে আবার ট্রেনের জন্য অপেক্ষা ঈদের আনন্দকে ফিকে করে দেয়। এদিন মোট ৩৭ জোড়া ট্রেন কমলাপুর ছেড়ে যায়। এ ছাড়া ঈদযাত্রায় প্রতিদিন ৫৩ হাজার যাত্রী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাবে বলে জানা গেছে।
বিলম্বে ট্রেন ছাড়ার কারণ হিসেবে কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে অনেকগুলো ট্রেন ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি দেরিতে গেছে। পশ্চিমাঞ্চলে জয়দেবপুর থেকে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত স্টেশনগুলো একটা থেকে আরেকটার দূরত্ব অনেক বেশি, এ কারণে ক্রসিংয়ে সময় বেশি লাগে। একটা ট্রেন গেলে অন্য আরেকটি আসতে বা যেতে পারে না। অপারেটিং সিস্টেমের কারণেও ট্রেনের কিছুটা বিলম্ব হয়। আমাদের প্রস্তুতি ও চেষ্টা রয়েছে, যেন এবারের ঈদযাত্রায় বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় না হয়। তবে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোর ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্ব ও শিডিউল বিপর্যয় হতে পারে। সেটা আমাদের মেনে নিয়েই চলতে হবে।
রুমে পাওয়া যায় না স্টেশন মাস্টারকে:
কর্তব্যরত রুমে পাওয়া যায় না রেলের কমলাপুরের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ারকে। একই সঙ্গে সরকার থেকে দেওয়া ফোন নম্বারও বন্ধ পাওয়া যায়। ফোন খোলা থাকলেও তিনি রিসিভ করেন না। তবে গত শনিবার তিনি জানিয়েছেন, তার ব্যক্তিগত ও সরকার থেকে প্রাপ্ত মোবাইল ফোন দুটি হারিয়ে গেছে।
এই প্রতিবেদক অন্তত তিন দিন দুপুরের দিকে তার কামরায় গিয়ে তাকে উপস্থিত থাকতে দেখেননি। ফলে যাত্রী ও সাংবাদিকরা ট্রেন ও টিকেট সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার মতো কাউকে পান না। তবে টিকেট বিক্রির শুরু থেকে প্রতিদিন তিনি সকাল ১০-১১টার দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এরপর আর তাকে রুমে পাওয়া যায় না। বুধবার দুপুর ১২টার দিক থেকে ২টা পর্যন্ত ট্রেন ও টিকেট সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্যের জন্য সাংবাদিকরা তার রুমে অপেক্ষা করার পরও তার দেখা পাওয়া যায়নি। এই প্রতিবেদন লেখার পর রাত ৮টা ৩৩ মিনিটেও তার মোবাইল ফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
টিকেট কালোবাজারি:
রেলের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’-এর  সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার মো. রেজাউল করিম (রেজা) কে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনে দায়িত্ব পালন করতেন। সকালে টিকেট বিক্রি শুরু হওয়ার পরই তিনি সার্ভার ডাউন করে দিতেন এবং কালোবাজারির মাধ্যমে ঈদের অগ্রিম টিকেট তিনগুণ বেশি মূল্য বিক্রি করতেন। এছাড়া টিকেট বিক্রির কয়েকদিন দেখা গেছে, নারী ও পুরুষ টিকেট বিক্রির আগের দিন থেকে পর দিন টিকেট ছাড়ার সময় পর্যন্ত কাউন্টারের জায়গা দখল করে রাখা হয়। পরে তার জায়গা টিকেটপ্রত্যাশীকে দিয়ে টাকা নিত, যা ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ বিষয়েও রেলওয়ের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
অবশ্য দীর্ঘ সময়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছিলেন, ‘কালকের জন্য যদি আজকে কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, আমাদের কী করার আছে বলেন? মানুষের চাহিদার তুলনায় আমাদের ট্রেনের সংখ্যা কম।’
মেগা প্রকল্পের দিকে মনোযোগ:
ট্রেনের গতি না বাড়িয়ে ডাবল লাইনের করার প্রকল্পের দিকে মনোযোগ রেলওয়ে কর্মকর্তাদের। তারা মনে করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রধান লাইনগুলো ডাবল করলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং রেলের গতি বাড়বে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান লাইনেই গতি ও বেশিসংখ্যক যাত্রী বহন করা সম্ভব।
অন্যদিকে রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা এসএম সলিমুল্লাহ বাহার সময়ের আলোকে জানিয়েছেন, ‘দেশের প্রধান সিঙ্গেল লাইনগুলো ডাবল করার জন্য চেষ্টা করছেন। ডাবল লাইন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে যাত্রী বহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।’
এক্ষেত্রে অর্থের অপচয় ও দুর্নীতি হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয় বলে মনে করেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, স্বল্পমেয়াদের পরিকল্পনায় বর্তমান লাইনেই গতি ও বেশি যাত্রী বহন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ডাবল ডেকার ট্রেন চালু করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমরা অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে যত দরদ, খরচ, সময় দেই, সেগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো প্রজেক্টই নেইনি। আমাদের ট্রেন যদি এখনকার চেয়ে ডাবল গতিতে চালাতে পারতাম তা হলে প্রোডাক্টিভিটিও বাড়ত, লোকোমাস্টারের সংখ্যাও কম লাগত, রোলিং স্টকও কম কেনা লাগত। দ্রুতগতি মানেই বেশি প্রোডাক্টিভিটি দেওয়া (বেশি যাত্রী বহন করা) ট্র্যাক বাড়ানো নয়। পাশের দেশ কলকাতায় ডাবল ডেকার অর্থাৎ দ্বিতল ট্রেনের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু আমাদের দেশে তা নেই। বর্তমান লাইনেই ডাবল ডেকার ট্রেন চালানো সম্ভব।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
প্রকাশনায় : ২৪ ক্রাইম নিউজ মিডিয়া লিমিটেড
Theme Developed BY ThemesBazar.Com