ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার জার্সিতে ‘ভোজিনহা’ নামেই খেলবেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ৬ হাজার ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার এক বছরেই ৩০ পারা মুখস্থ, হাফেজ হলো ৮ বছরের আব্দুর রহমান লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে টোল নেবে না হুথিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ র‍্যাবের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম চারদিক বন্যার পানিতে ডুবলেও ডুবে না ক্লাস্টার বসতভিটা

অস্বাস্থ্যকর ও নোংড়া পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারির পণ্য, দেখার নেই কেউ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:৪১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • ৫৬৭ বার পড়া হয়েছে

পাবনা প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পৌর সদরের চৌবাড়িয়ার ভদ্রপাড়ার রুনা বেকারীতে মানুষের খাবার এমন পরিবেশে তৈরি হচ্ছে । চারিদিকে অস্বাস্থ্যকর ও নোংড়া পরিবেশ, পাতিলে কালো পোড়া তেল, কেমিক্যালের রং ও কৃত্তিম ফ্লেবার ব্যবহার করে দীর্ঘ দিন ধরে তৈরি হচ্ছে বেকারীর বিভিন্ন পণ্য । বিক্রি হচ্ছে ভাঙ্গুড়া বাজার ও এর আশে পাশের দোকান গুলিতে। কিন্তু এমন অবস্থা হলেও দেখার যেন নেই কেউ ।
স্থানীয়রা এব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
জানা গেছে, বেশিরভাগ শিশুদের পছন্দের খাবারের তালিকায় বিস্কুট, কেক, পাউরুটিসহ নানা জাতীয় বেকারির পণ্য রয়েছে। আবার অনেক সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এই জাতীয় খাবার বাজার থেকে ক্রয় করে খেয়ে থাকে। প্রতিদিন এর চাহিদাও কম নয়। এছাড়া বাসাবাড়ীতে কিংবা আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে গেলেও বেকারি পণ্য দিয়ে অনেকেই অতিথিদের আপ্যায়ন করে থাকেন।
পৌর শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে হরহামেশাই প্রতিদিন পৌঁছে যায় এসব খাদ্যসামগ্রী। ফলে মানুষ নিরাপদ বা স্বাস্থ্যসম্মত মনে করেই এসব খেয়ে থাকেন। কিন্তু এসব বানিজ্যিকভাবে তৈরি ও বিপণণ করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মনীতি রয়েছে। যা পালন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া রোড সংলগ্ন ‘রুনা বেকারি’ নামক একটি কারখানায় অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে এসব পণ্য।
সরেজমিন পৌরসদরের ৮ নং ওয়ার্ডের চৌবাড়িয়ার ভদ্রপাড়া প্রধান সড়কের পাশে রুনা বেকারীতে গিয়ে দেখা যায়। ওই ফ্যাক্টারির অভ্যন্তরে দেখা মেলে বিভিন্ন জায়গায় ময়লার স্তুপ। স্যাঁতসেঁতে পাকা মেঝে কিন্তু নোংড়া পরিবেশ। ঢেউটিনের একটি ঘরে বড় আকারে চুলা বসিয়ে এসব পণ্য দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করা হচ্ছে। ঘরগুলিতে মাকড়াশা জাল বিস্তার করেছে। ভিতরে আরও দেখা যায়, শ্রমিকরা অপরিছন্ন গ্লোভস বিহীন হাতে ও স্যন্ডো গেঞ্জি পড়ে দাঁড়িয়ে অপরিছন্ন শরীরে এসব পণ্য তৈরিতে ব্যস্ত আছেন। পাশে ময়লা স্তুপ ও কেমিক্যাল রং , কৃত্তিম ফ্লেভার ও কালো ময়লাযুক্ত তেল পাশের পাত্রে রাখা আছে। এসময় শ্রমিকরা জানান পাউরুটি ,কেক ও বিস্কুটের কালার , গন্ধা আনতে ওই কেমিক্যাল রং ও ফ্লেভারের গুঁড়া ব্যবহার করা হয়।
বেকারির মালিক মোঃ আব্দুর রহিম ভবানিপুর পশ্চিম পাড়ার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। সে দীর্ঘদিন বছর যাবৎ, এভাবেই তৈরী ও বাজারজাত করছেন কেক, পাউরুটি, বিস্কুটসহ নানা বেকারি পণ্য।
অস্বাস্থ্যকর, নোংড়া পরিবেশ , কেমিক্যাল রং ও ফ্লেভার ব্যবহার সর্ম্পকে তিনি বলেন সরব ঠিকঠাক মতোই আছে। তবে ময়লা ও নেংড়া জিনিস গুলি ফেলে দেওয়া হবে বলে জানান।
তবে তিনি বিএসটিআই এর অনুমোদন আছে বলে দাবি করেন। কিন্তু তার স্বপক্ষে কোনো ধরণের কাগজ দেখাতে পারেনি।
একটি জনবহুল স্থানে নাকের ডগায় এমন মানহীন প্রতিষ্ঠানে কিভাবে এসব পণ্য তৈরি করে তা দীর্ঘদিন বাজারজাত করে আসছে? এ প্রশ্ন অনেকের। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী প্রশাসনের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ আশরফুজ্জামান বলেন, ভাঙ্গুড়াতে যে এমন ধরণের বেকারীর ফ্যাক্টরি আছে তা তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছেই প্রথম শোনলেন। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

অস্বাস্থ্যকর ও নোংড়া পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারির পণ্য, দেখার নেই কেউ

আপডেট সময় ১০:৪১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১

পাবনা প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পৌর সদরের চৌবাড়িয়ার ভদ্রপাড়ার রুনা বেকারীতে মানুষের খাবার এমন পরিবেশে তৈরি হচ্ছে । চারিদিকে অস্বাস্থ্যকর ও নোংড়া পরিবেশ, পাতিলে কালো পোড়া তেল, কেমিক্যালের রং ও কৃত্তিম ফ্লেবার ব্যবহার করে দীর্ঘ দিন ধরে তৈরি হচ্ছে বেকারীর বিভিন্ন পণ্য । বিক্রি হচ্ছে ভাঙ্গুড়া বাজার ও এর আশে পাশের দোকান গুলিতে। কিন্তু এমন অবস্থা হলেও দেখার যেন নেই কেউ ।
স্থানীয়রা এব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
জানা গেছে, বেশিরভাগ শিশুদের পছন্দের খাবারের তালিকায় বিস্কুট, কেক, পাউরুটিসহ নানা জাতীয় বেকারির পণ্য রয়েছে। আবার অনেক সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এই জাতীয় খাবার বাজার থেকে ক্রয় করে খেয়ে থাকে। প্রতিদিন এর চাহিদাও কম নয়। এছাড়া বাসাবাড়ীতে কিংবা আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে গেলেও বেকারি পণ্য দিয়ে অনেকেই অতিথিদের আপ্যায়ন করে থাকেন।
পৌর শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে হরহামেশাই প্রতিদিন পৌঁছে যায় এসব খাদ্যসামগ্রী। ফলে মানুষ নিরাপদ বা স্বাস্থ্যসম্মত মনে করেই এসব খেয়ে থাকেন। কিন্তু এসব বানিজ্যিকভাবে তৈরি ও বিপণণ করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মনীতি রয়েছে। যা পালন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া রোড সংলগ্ন ‘রুনা বেকারি’ নামক একটি কারখানায় অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে এসব পণ্য।
সরেজমিন পৌরসদরের ৮ নং ওয়ার্ডের চৌবাড়িয়ার ভদ্রপাড়া প্রধান সড়কের পাশে রুনা বেকারীতে গিয়ে দেখা যায়। ওই ফ্যাক্টারির অভ্যন্তরে দেখা মেলে বিভিন্ন জায়গায় ময়লার স্তুপ। স্যাঁতসেঁতে পাকা মেঝে কিন্তু নোংড়া পরিবেশ। ঢেউটিনের একটি ঘরে বড় আকারে চুলা বসিয়ে এসব পণ্য দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করা হচ্ছে। ঘরগুলিতে মাকড়াশা জাল বিস্তার করেছে। ভিতরে আরও দেখা যায়, শ্রমিকরা অপরিছন্ন গ্লোভস বিহীন হাতে ও স্যন্ডো গেঞ্জি পড়ে দাঁড়িয়ে অপরিছন্ন শরীরে এসব পণ্য তৈরিতে ব্যস্ত আছেন। পাশে ময়লা স্তুপ ও কেমিক্যাল রং , কৃত্তিম ফ্লেভার ও কালো ময়লাযুক্ত তেল পাশের পাত্রে রাখা আছে। এসময় শ্রমিকরা জানান পাউরুটি ,কেক ও বিস্কুটের কালার , গন্ধা আনতে ওই কেমিক্যাল রং ও ফ্লেভারের গুঁড়া ব্যবহার করা হয়।
বেকারির মালিক মোঃ আব্দুর রহিম ভবানিপুর পশ্চিম পাড়ার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। সে দীর্ঘদিন বছর যাবৎ, এভাবেই তৈরী ও বাজারজাত করছেন কেক, পাউরুটি, বিস্কুটসহ নানা বেকারি পণ্য।
অস্বাস্থ্যকর, নোংড়া পরিবেশ , কেমিক্যাল রং ও ফ্লেভার ব্যবহার সর্ম্পকে তিনি বলেন সরব ঠিকঠাক মতোই আছে। তবে ময়লা ও নেংড়া জিনিস গুলি ফেলে দেওয়া হবে বলে জানান।
তবে তিনি বিএসটিআই এর অনুমোদন আছে বলে দাবি করেন। কিন্তু তার স্বপক্ষে কোনো ধরণের কাগজ দেখাতে পারেনি।
একটি জনবহুল স্থানে নাকের ডগায় এমন মানহীন প্রতিষ্ঠানে কিভাবে এসব পণ্য তৈরি করে তা দীর্ঘদিন বাজারজাত করে আসছে? এ প্রশ্ন অনেকের। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী প্রশাসনের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ আশরফুজ্জামান বলেন, ভাঙ্গুড়াতে যে এমন ধরণের বেকারীর ফ্যাক্টরি আছে তা তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছেই প্রথম শোনলেন। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।