ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

এআই পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করল উত্তর কোরিয়া

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৮:৫৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার রকেটের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উন-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই পরীক্ষায় কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার বহু নলবিশিষ্ট রকেট ব্যবস্থা এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে বিশেষ যুদ্ধমাথাযুক্ত কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা, দূরপাল্লার রকেট ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যভেদের নির্ভুলতা যাচাই করা হয়েছে।

কিম জং উন বলেন, এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে অস্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা আধুনিক যুদ্ধের উপযোগী করে সফলভাবে উন্নত করা হয়েছে, যা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

কেসিএনএ জানায়, বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তসংলগ্ন গোলন্দাজ ইউনিটে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত করা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর যুদ্ধ প্রস্তুতি যাচাই করা হয়েছে। নির্ভুল নেভিগেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসম্পন্ন এসব ক্ষেপণাস্ত্র ১০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চলের সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত। উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে এবং দুই কোরিয়ার একীকরণ নীতিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কথা এবারই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে উল্লেখ করল উত্তর কোরিয়া। এই প্রযুক্তি বাস্তবসময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে লক্ষ্য শনাক্ত ও ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় সহায়তা করে।

আসান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের সামরিক বিশ্লেষক ইয়াং উক বলেন, ‘এখানে মূল বিষয় হলো লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার।’

এর আগে ড্রোন প্রযুক্তিতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের দাবি করেছিল উত্তর কোরিয়া।

কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের গবেষক হং মিন বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী এটি সম্ভবত বিদ্যমান ডিজিটাল নির্দেশনা ব্যবস্থার উন্নত সংস্করণ, যার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্য শনাক্ত প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রযুক্তিটি কতটা উন্নত, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।’

২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলন্দাজ রকেট সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কো এসব অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলেও ধারণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মূল্যবান তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

আগামী সপ্তাহে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন লতিফ সিদ্দিকী

এআই পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করল উত্তর কোরিয়া

আপডেট সময় ০৮:৫৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার রকেটের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উন-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই পরীক্ষায় কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার বহু নলবিশিষ্ট রকেট ব্যবস্থা এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে বিশেষ যুদ্ধমাথাযুক্ত কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা, দূরপাল্লার রকেট ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যভেদের নির্ভুলতা যাচাই করা হয়েছে।

কিম জং উন বলেন, এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে অস্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা আধুনিক যুদ্ধের উপযোগী করে সফলভাবে উন্নত করা হয়েছে, যা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

কেসিএনএ জানায়, বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তসংলগ্ন গোলন্দাজ ইউনিটে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত করা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর যুদ্ধ প্রস্তুতি যাচাই করা হয়েছে। নির্ভুল নেভিগেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসম্পন্ন এসব ক্ষেপণাস্ত্র ১০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চলের সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত। উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে এবং দুই কোরিয়ার একীকরণ নীতিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কথা এবারই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে উল্লেখ করল উত্তর কোরিয়া। এই প্রযুক্তি বাস্তবসময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে লক্ষ্য শনাক্ত ও ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় সহায়তা করে।

আসান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের সামরিক বিশ্লেষক ইয়াং উক বলেন, ‘এখানে মূল বিষয় হলো লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার।’

এর আগে ড্রোন প্রযুক্তিতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের দাবি করেছিল উত্তর কোরিয়া।

কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের গবেষক হং মিন বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী এটি সম্ভবত বিদ্যমান ডিজিটাল নির্দেশনা ব্যবস্থার উন্নত সংস্করণ, যার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্য শনাক্ত প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রযুক্তিটি কতটা উন্নত, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।’

২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলন্দাজ রকেট সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কো এসব অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলেও ধারণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মূল্যবান তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল।