ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালদ্বীপে ময়লার স্তূপে মিললো বাংলাদেশির মরদেহ, রিমান্ডে এক শ্রীলঙ্কান

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:৫০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

মালদ্বীপের থিলাফুশিতে নিখোঁজের দুই দিন পর আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার হয়েছে আমিন মিয়া (২৪) নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ। এ ঘটনায় এক শ্রীলঙ্কান নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে, যা যথাযথ সতর্কতা ছাড়াই পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি আমিন মিয়া নিখোঁজ হন। দুই দিন পর ২৮ জানুয়ারি থিলাফুশির একটি কর্মস্থলের আবর্জনার স্তূপের ভেতর থেকে ওই প্রবাসী

মালদ্বীপের স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান নাগরিক হেশান মাদুরাঙ্গা দিশানায়ক মেনিকা একটি খননকারী যন্ত্র পরিচালনা করছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, যন্ত্রটির আঘাত লাগার ফলেই আমিন মিয়ার মৃত্যু ঘটে।

অভিযুক্ত মেনিকাকে ফৌজদারি আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঘটনার লিখিত প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজ

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক আঘাতের পর আমিন মিয়া আবর্জনার স্তূপের মধ্যে পড়ে যান এবং এরপরও ঘটনাস্থলে কাজ অব্যাহত রাখা হয়। খননকারী যন্ত্রের অপারেটর ঘটনাটি ঘটার সময় বিষয়টি অবগত ছিলেন কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশের ভাষ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার আহত হওয়ার মুহূর্তটি ধরা পড়েছে, যা তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে ঘটনাটি ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, এ ঘটনার সর্বশেষ অগ্রগতি ও তদন্ত কার্যক্রম তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

মালদ্বীপে ময়লার স্তূপে মিললো বাংলাদেশির মরদেহ, রিমান্ডে এক শ্রীলঙ্কান

আপডেট সময় ১০:৫০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ

মালদ্বীপের থিলাফুশিতে নিখোঁজের দুই দিন পর আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার হয়েছে আমিন মিয়া (২৪) নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ। এ ঘটনায় এক শ্রীলঙ্কান নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে, যা যথাযথ সতর্কতা ছাড়াই পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি আমিন মিয়া নিখোঁজ হন। দুই দিন পর ২৮ জানুয়ারি থিলাফুশির একটি কর্মস্থলের আবর্জনার স্তূপের ভেতর থেকে ওই প্রবাসী

মালদ্বীপের স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান নাগরিক হেশান মাদুরাঙ্গা দিশানায়ক মেনিকা একটি খননকারী যন্ত্র পরিচালনা করছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, যন্ত্রটির আঘাত লাগার ফলেই আমিন মিয়ার মৃত্যু ঘটে।

অভিযুক্ত মেনিকাকে ফৌজদারি আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঘটনার লিখিত প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজ

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক আঘাতের পর আমিন মিয়া আবর্জনার স্তূপের মধ্যে পড়ে যান এবং এরপরও ঘটনাস্থলে কাজ অব্যাহত রাখা হয়। খননকারী যন্ত্রের অপারেটর ঘটনাটি ঘটার সময় বিষয়টি অবগত ছিলেন কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশের ভাষ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার আহত হওয়ার মুহূর্তটি ধরা পড়েছে, যা তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে ঘটনাটি ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, এ ঘটনার সর্বশেষ অগ্রগতি ও তদন্ত কার্যক্রম তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।