শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
"ফটো সাংবাদিক আবশ্যক" দেশের প্রতিটি থানা পর্যায়ে "ক্রাইম নিউজ মিডিয়া" সংবাদ সংস্থায় ১জন রিপোর্টার ও ১জন ফটো সাংবাদিক আবশ্যক। আগ্রহী প্রার্থীরা  যোগাযোগ করুন। ইমেইলঃ cnm24bd@gmail.com ০১৯১১৪০০০৯৫

অন্ধকার জীবন হতে মুক্তি পেতে চায় ওরা

  • আপডেট সময় সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২.০০ পিএম
  • ১৮৭ বার পড়া হয়েছে
অন্ধকার জীবন হতে মুক্তি পেতে চায় ওরা
মানবাধিকার লংঘন, অপরাধ অনুসন্ধান-২৩
সিএনএম প্রতিবেদনঃ

হিউম্যান রিসোর্স এন্ড হেল্থ ফাউন্ডেশন নামক মানবাধিকার সংস্থার অনুসন্ধানে খোঁজ মিলল আবাসিক হোটেলের অর্ন্তরালে মিনি পতিতালয়। সেখানে নারীদের জিম্মি করে করানো হয় দেহ ব্যবসা। মানবাধিকার সংস্থার কর্মীগণ অনুসন্ধান শেষে পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ আকারে একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। সংগঠনের কর্মীগণ পত্রে উল্লেখ করেন গত ১৭/১০/২০২৫ইং তারিখ আনুমানিক ২.০০ ঘটিকার সময় মতিঝিল থানাধীন ফকিরাপুল এলাকায় রাস্তায় পরে থাকা আবাসিক হোটেলের ভিজিটিং কার্ড তুলে ঐ কার্ডে লেখা ১) রহমান ভাই মোবাইল: ০১৬২৪৯৮৯১৩০, ২) আদিল ভাই মোবাইল: ০১৮৯৭৪৫৭৫৮১, ৩) মিঠু ভাই মোবাইল: ০১৩৩৯০৮৫১১৮, ৪) শাকিব ভাই মোবাইল: ০১৩৪১৬৩০৭০৭,৫) রিয়াদ ভাই, মোবাইল: ০১৯১৪-৭৫০০২৯, ৬) পলাশ ভাই, মোবাইল: ০১৭১২-১৩৫৯১১, পৃথকভাবে তাদেরকে ফোন করা হলে তারা আবাসিক হোটেল এর স্টাফ পরিচয় দিয়ে আমাদের সম্মুখে আসে। এক পর্যায় আমাদেরকে খদ্দের ভেবে হোল্ডিং নং-১১৯/৪, নিউ শুভেচ্ছা আবাসিক হোটেল, ফকিরাপুল পানির ট্যাংকি সংলগ্ন, মতিঝিল, ঢাকায় নিয়ে যায়। উক্ত হোটেলে যাওয়ার পর আমাদের বিভিন্ন রুমে নিয়ে রুমের তালা খুলে ৬-৭ জন মেয়েকে দেখায়। যাদের বয়স ১২-১৫ এর মধ্যে। ঐ সকল অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের দেখিয়ে আমাদের বলে, এরা নতুন আসছে তাই এদের তালা মেরে রেখেছি যাতে পালাতে না পারে এরপর আরেকটি রুমে নিয়ে পেশাদার ৮-১০ মেয়েকে দেখায়।

এক পর্যায়ে আমরা নতুন মেয়েদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলার অনুমতি নেই স্টাফ পরিচয়দানকারী নারী পাচারকারী দালালদের কাছ থেকে সেখানে আটক ৭ জন মেয়ের মধ্যে বিজলী, স্বর্ণালী সহ অজ্ঞাতনামাদের কাছ থেকে জানতে পারি তাদেরকে বিভিন্ন কাজ দেওয়ার কথা বলে এই হোটেলে এনে প্রায় ৩ দিন যাবত তাদের আটক রেখে মাঝে মধ্যে দরজা খুলে খদ্দের দেখিয়ে আশেপাশের রুম গুলোতে নিয়ে ঐ সকল খদ্দেরের সাথে অসামাজিক কার্যকলাপ করিয়ে আবার রুমে এনে তালা বদ্ধ করে রাখে।

এ সকল খারাপ কাজ করতে না চাইলে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন করে বিভিন্ন পুরুষের সাথে অসামাজিক কার্যকলাপ করাতে বাধ্য করা হচ্ছে। এরপর ঐ সকল স্টাফদের বলি আমাদের মেয়ে পছন্দ হয় নাই অন্য কেউ থাকলে দেখান তখন ঐ হোটেল থেকে আমাদের নামিয়ে একই মালিকের পাশে আরো দুটি হোটেল একটি রাকিব আবাসিক হোটেল, অন্যটি নিউ রূপসী বাংলা আবাসিক হোটেল। ঐ দুই হোটেলে
আমাদের নিয়ে গিয়ে একই কায়দায় রুমে তালাবদ্ধ দুই হোটেলে ১০-১২ জন মেয়েকে দেখায়।

এরিমধ্যে শান্তা ও জুমা নামে দুই মেয়ে বলে তাদেরকে দালালরা এনে উক্ত হোটেলের ভাড়াটিয়া মালিক রতন দালালদের কাছ থেকে অনেক টাকা দিয়ে কিনে রেখেছে। তাদেরকে বাহিরে যেতে দেয় না রুমে আটকিয়ে বিভিন্ন পুরুষ দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ দেহ ব্যবসা করায়। দিনের পর দিন তাদেরকে ঐ হোটেলে আটকিয়ে রেখে পতিতা সাজিয়ে ঐ সকল অপকর্ম করায়। তাদের এই তিন হোটেলে প্রায় ১০-১৫ জন অপেশাদার মেয়েকে আটক রেখে তাদের দেহজীবী বানিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ করাচ্ছে। এছাড়া পুরুষ দালালদের পাশাপাশি একাধিক নারী দালাল ও রয়েছে। ঐ সকল নারী দালালরা নতুন মেয়েদের হোটেলে দিয়ে এবং ২-১ দিন তারা হোটেলের ঝাড়–দার বুয়া সেজে রুমগুলোতে নজর দারী করে। যাতে কোন মেয়ে পালিয়ে যেতে না পারে আবার ঐ সকল বুয়া বেশ ধারী নারী পাচারকারীনী নারীরা নিজেরাও দেহজীবী হিসেবে হোটেলে খদ্দেরদের সাথে অসামাজিক কার্যকলাপ করে।

হাটেলগুলোতে পৃথক ভাবে খদ্দের সেজে ঘুরে ঘুরে দেখতে পাই ও বিভিন্ন মেয়েদের কাছ থেকে জানতে পারি প্রেম, বিয়ে, বিভিন্ন চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নানা কৌশলে নারী পাঁচারকারী দালালরা মেয়েদের সংগ্রহ করিয়া রতন সহ অজ্ঞাতনামা হোটেল ভাড়াটিয়া মালিক ৮-১০ জনদের কাছে এনে চড়া দামে বিক্রি করে দেয়। মেয়েরা রতনগণদের কথা মতো দেহজীবী হতে না চাইলে তাদেরকে শারিরীক ভাবে নির্যাতন পূর্বক প্রথমে হোটেল ভাড়াটিয়া রতনগণরা গণধর্ষণ করে পরবর্তীতে নির্যাতন পূর্বক বহিরাগত পুরুষ দ্বারা দেহ ব্যবসা করায়। তিন হোটেলে প্রায় ১৫ জন মেয়ের মুখে একই ধরণের কথা জানা যায়। এবং হোটেলগুলোতে ঘুরে বিভিন্ন রুমে নারী পুরুষকে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দ্রব্য সেবন করতে দেখতে পাই ও ৩টি হোটেলের ৩টি রুমে জুয়ার আসর বসতে  দেখা গেছে। এছাড়া বডার হিসাবে বৈষম্য বিরোধী বিভিন্ন আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের দেখা গেছে। এক পর্যায়ে আমরা সাথে থাকা ক্যামেরায় হোটেলের ছবি তুলি এরিমধ্যে দালালরা আমাদের নিয়ে এক হোটেল থেকে আরেক হোটেলে ঘুরা ঘুরি করায় হঠাৎ রতন সহ আরো ৩-৪ জন হোটেল মালিক পরিচয়ে আমাদের কাছে এসে আমাদের পরিচয় জানতে চায়। আমরা সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দিলে রতন বলে তিনি এক সময় যাত্রাবাড়ি, বলাকা আবাসিক হোটেলে চাকুরী করতেন। সেখানে তার নামে বহু মানব পাঁচার মামলা হয়েছে। তাতেই রতনের কিছু যায় আসে নাই রতন জানায় ৩টি আবাসিক হোটেল প্রায় কোটি টাকা জামানত দিয়ে হোটেল ব্যবসা করছি। মতিঝিল থানার ওসি, এসিকে মাসে মোটা অংকের মাসহারা দিয়ে এই ব্যবসা করি। এখানে মাদক, জুয়া, নারী ব্যবসা, বিকল্প কি থাকতে পারে? আপনারা সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী লেখালেখি করেন দেখেন আমাদের অপকর্ম বন্ধ করতে পারেন কিনা দেখেন?

রতনগণরা আমাদের নানা ধরনের হুমকি ধমকি দিয়ে বলে যে, আপনারা এখান থেকে চলে যান নয়ত বিপদে পরবেন। মতিঝিল থানার ওসি সাহেব আমাদেরকে বলেছে আমাদের ব্যবসা নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করলে তাদেরকে আটকিয়ে থানায় খবর দিতে এবং পুুলিশ আসলে চাঁদাবাজির অভিযোগ দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে। তাই আমরা সেটি করলাম না। আমাদের নিয়ে লেখালেখি করলে আমরা ও আপনাদের বিরুদ্ধে সাজানো  মামলা দিবো।
্এক পর্যায় আমরা সেখান থেকে চলে এসে আইনগত ব্যবস্থা নিতে মহোদয়ের কাছে অভিযোগ দায়ের করিলাম।

আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আবেদনকারী সুপারিশ করেন

১১৯/৪,  মতিঝিল থানা এলাকারহোটেল নিউ শুভেচ্ছা, রাকিব ও নিউ রূপসী বাংলা আবাসিক হোটেলের নারী ঘটিত অপরাধ কর্ম বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। থানা এলাকায় খদ্দের সংগ্রহকারী দালালদের প্রকাশ্যে পথে ঘাটে ভিজিটিং কার্ড বিলিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। নারী পাচারকারীদের জিম্মি দশায় থাকা নারীদের উপর নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের উদ্ধার পূর্বক পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। হোটেল নিউ শুভেচ্ছা, রাকিব ও নিউ রূপসী বাংলা আবাসিক হোটেলের ভাড়াটিয়া মালিক, বাড়ির মালিক ও কেয়ার টেকার সহ সেখানে অপরাধ কর্মে প্রকাশ্যে ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে আইনের আওতায় আনার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। হোটেল নিউ শুভেচ্ছা, রাকিব ও নিউ রূপসী বাংলা আবাসিক হোটেল ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের পর ঐ হোটেলে লাইসেন্স বিরোধী কোন কার্যক্রম হয় কিনা তাহা দেখভাল কারী সিটি কর্পোরেশন জোনের ইন্সেপেক্টর এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।  মানব পাচার আইন বিধি মোতাবেক বাড়ির মালিক, আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সংগঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ জানিয়ে বলেন
ক) সংস্থার পক্ষে দেশব্যাপী চিহ্নিত নারী পাচারকারীদের আদালতের দারস্থ্য করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। খ) অপরাধীদের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত পূর্বক তালিকা প্রকাশ করা। গ) হোটেল নিউ শুভেচ্ছা, রাকিব ও নিউ রূপসী বাংলা আবাসিক হোটেল সহ দেশব্যাপী যে সকল আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট বাসা সহ পতিতালয়ে আটক ও জিম্মি থাকা নারীদের পরিচয় চিহ্নিতপূর্বক উদ্ধার করে তাদের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা। ঘ) নারীদের কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় জীবিকা নির্বাহে কর্ম ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ঙ) পথে ঘাটে ভিজিটিং কার্ড বিলি করে খদ্দের সংগ্রহকারী দালালদের চিহ্নিত করে যাবতীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা।  চ) সারাদেশ ব্যাপী নারী পাচারকারী, দালাল, অর্থের যোগানদাতা ও আশ্রয়, প্রশ্রয়দাতাসহ, তাদের সহায়তাকারীদের চিহ্নিত পূর্বক তালিকা প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আদালতের দারস্থ্য হওয়া।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2025
Theme Developed BY ThemesBazar.Com