ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনে রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৮

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১২:০০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।

বুধবার (৭ অক্টোবর) চালানো এসব হামলায় ইউক্রেনে কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে।

চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘুমন্ত অবস্থায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়। শক্তিশালী বিস্ফোরণের ধাক্কায় ভবনটির জানালার কাচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। পাঁচতলা ভবনটির অর্ধেক অংশ পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব কাঠামোর স্তূপে পরিণত হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র ১২ মাস এবং আরেকজনের বয়স আট বছর। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের পৃথক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রিলুকির ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রুশ হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে সাতজন শিশুও রয়েছে।

রুশ বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক শহর ও মানুষের জীবনকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের অব্যাহত ব্যবহার সন্ত্রাস সৃষ্টির একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।

হামলার প্রত্যক্ষদর্শী প্রিলুকির ৪০ বছর বয়সী নাগরিক ও ম্যাসাজ থেরাপিস্ট ওলেনা সায়ুন এএফপিকে বলেন, তারা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। বিস্ফোরণে তাদের ঘরের জানালার কাচ উড়ে যায়। তিনি ও তার স্বামী শরীর দিয়ে সন্তানকে আগলে রাখেন। বিস্ফোরণে তার স্বামীর পিঠ ও তার শরীরেও কাটা-ছেঁড়া লাগে।

তিনি জানান, হামলার সময় তাদের সন্তান প্রচণ্ড ভয় পেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা দ্রুত বাথরুমে আশ্রয় নেন এবং ওই সময় অ্যাপার্টমেন্টের বিভিন্ন জিনিস তছনছ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকিতে হামলা শুরু হয়। এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি রাশিয়ার পক্ষ থেকে একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ওই সতর্কবার্তায় জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছিল।

শীতকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার মাত্রা বেড়েছে। প্রায় অবিরাম বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বেজে চলেছে। আতঙ্কিত বাসিন্দারা ব্যাগ, শোয়ার মাদুর ও কম্বল নিয়ে রাত কাটাতে সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো এএফপিকে বলেন, তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সাবওয়ে স্টেশনে চলে এসেছেন। তার ভাষায়, পুরো কিয়েভ শহর এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। কর্মস্থলেও সবাইকে সতর্ক থাকার বার্তা পাঠানো হচ্ছিল।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাশিয়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

জেলেনস্কি এ হামলাকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা সংঘাতের অন্যতম ‘ঘৃণ্য হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রিলুকিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছে বসবাসকারী ৩১ বছর বয়সী অনলাইন মার্কেটিংকর্মী ইউলিয়া শামরাই বলেন, এই হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার কী সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

ইউক্রেনে রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৮

আপডেট সময় ১২:০০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ

ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।

বুধবার (৭ অক্টোবর) চালানো এসব হামলায় ইউক্রেনে কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে।

চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘুমন্ত অবস্থায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়। শক্তিশালী বিস্ফোরণের ধাক্কায় ভবনটির জানালার কাচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। পাঁচতলা ভবনটির অর্ধেক অংশ পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব কাঠামোর স্তূপে পরিণত হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র ১২ মাস এবং আরেকজনের বয়স আট বছর। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের পৃথক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রিলুকির ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রুশ হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে সাতজন শিশুও রয়েছে।

রুশ বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক শহর ও মানুষের জীবনকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের অব্যাহত ব্যবহার সন্ত্রাস সৃষ্টির একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।

হামলার প্রত্যক্ষদর্শী প্রিলুকির ৪০ বছর বয়সী নাগরিক ও ম্যাসাজ থেরাপিস্ট ওলেনা সায়ুন এএফপিকে বলেন, তারা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। বিস্ফোরণে তাদের ঘরের জানালার কাচ উড়ে যায়। তিনি ও তার স্বামী শরীর দিয়ে সন্তানকে আগলে রাখেন। বিস্ফোরণে তার স্বামীর পিঠ ও তার শরীরেও কাটা-ছেঁড়া লাগে।

তিনি জানান, হামলার সময় তাদের সন্তান প্রচণ্ড ভয় পেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা দ্রুত বাথরুমে আশ্রয় নেন এবং ওই সময় অ্যাপার্টমেন্টের বিভিন্ন জিনিস তছনছ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকিতে হামলা শুরু হয়। এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি রাশিয়ার পক্ষ থেকে একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ওই সতর্কবার্তায় জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছিল।

শীতকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার মাত্রা বেড়েছে। প্রায় অবিরাম বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বেজে চলেছে। আতঙ্কিত বাসিন্দারা ব্যাগ, শোয়ার মাদুর ও কম্বল নিয়ে রাত কাটাতে সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো এএফপিকে বলেন, তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সাবওয়ে স্টেশনে চলে এসেছেন। তার ভাষায়, পুরো কিয়েভ শহর এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। কর্মস্থলেও সবাইকে সতর্ক থাকার বার্তা পাঠানো হচ্ছিল।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাশিয়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

জেলেনস্কি এ হামলাকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা সংঘাতের অন্যতম ‘ঘৃণ্য হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রিলুকিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছে বসবাসকারী ৩১ বছর বয়সী অনলাইন মার্কেটিংকর্মী ইউলিয়া শামরাই বলেন, এই হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার কী সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।