সিএনএমঃ
ফেসবুকে সরকারি গাছ চুরির অভিযোগে পোস্ট। তাতেই ক্ষিপ্ত পিচ্চি জাহেদ। বাজারের মিষ্টির দোকানে গিয়ে সবার সামনে দেন ‘থ্রেট’। এতে ক্ষুব্ধ হন সেখানে থাকা মানিক, টিপু, রিদুয়ানসহ অন্যরা। ‘তার এত বড় সাহস কীভাবে এল?’—এই ক্ষোভ থেকেই জাহেদকে ‘শায়েস্তা’ করার পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত গড়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সাতকানিয়া উপজেলায় জাহিদুল ইসলাম প্রকাশ পিচ্চি জাহেদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১২ আসামির জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে এসব জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
তিনি জানায়, ঘটনার দিন নতুনহাট বাজারের একটি মিষ্টির দোকানে মানিকসহ ৮-১০ জন বসে ছিলেন। এর আগে সরকারি গাছ চুরি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন মানিক। ওই গাছটি পিচ্চি জাহেদ কেটেছেন ও লুট করেছেন—এমন অভিযোগ ছিল পোস্টে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহেদ সেখানে গিয়ে মানিকসহ উপস্থিত অন্যদের হুমকি দিয়ে চলে যান।
জাহেদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে দোকানে বসেই তাকে শিক্ষা দেওয়ার আলোচনা করেন মানিক, টিপু, রিদুয়ানসহ অন্যরা। একপর্যায়ে তাকে ‘শায়েস্তা’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী বাজালিয়া সড়কের ভাঙ্গারগুড়া এলাকায় অবস্থান নেয় তারা। জাহিদ ও ওয়াহিদ ওই সড়ক দিয়ে আসার সময় গাছের গুঁড়ি ও ভ্যান দিয়ে তাদের পথ আটকে দেওয়া হয়। এরপর হামলাকারীরা চাপাতি, লাঠি ও রড দিয়ে জাহিদকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জাহিদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় জড়িত ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বেশিরভাগই তরুণ। তাদের কারও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে অল্প কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে মারামারি ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে জড়ানোর তথ্য রয়েছে।
মামলার ১২ আসামির সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে আজাদ নামে এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদেও ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ঘটনাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত ছিল না। ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পরে বাজারে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাৎক্ষণিকভাবে জাহেদকে ‘শায়েস্তা’ করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এরপরই ঘটে নৃশংস হত্যাকাণ্ড।
উল্লেখ্য, গত ৩০ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাজালিয়া থেকে বন্ধু মোহাম্মদ ওয়াহিদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন জাহিদ। পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ পুরানগড় গ্রামের ফরিদ সওদাগরের দোকানের সামনে পৌঁছালে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের গতিরোধ করে হামলাকারীরা।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই জাহিদুলকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। বন্ধুকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ওয়াহিদও হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাহিদুলকে উদ্ধার করে কেরানিহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পাঁচ দিন পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সংবাদ শিরোনাম ::
চায়ের দোকানে বসেই পরিকল্পনা; ১৩ আসামির ১২ জন গ্রেফতার
-
Reporter Name - আপডেট সময় ০৭:৩২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ১৫ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

























