খোদার পাথর ভিটা বা দুধ পাথর”
বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত একটি বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। এটি বগুড়ার মহাস্থানগড়ে শাহ সুলতান বলখী (র.) মাজারের উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত।
এই প্রত্নস্থলটির ধ্বংসাবশেষ আনুমানিক খ্রিস্টীয় অষ্টম দশকের (পাল শাসনামলের প্রথম দিকের) বলে ধারণা করা হয়। মোট কথা, এটি পাল আমলের একটি পূর্বাভিমুখী আয়তাকার বৌদ্ধ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ।
১৯৭০ সালে এ ঢিবি বা ভিটাতে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে এখানে একটি মন্দির এবং তার সাথে ছোটখাটো কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়। এই ঢিবির উপরিভাগে গ্রানাইট পাথরের একটি বিশাল চৌকাঠ পাওয়া যায় এবং এ থেকেই স্থানীয় জনগণ ঢিবির এমন অদ্ভুত নামকরণ করেছে।
এখানে খননকার্যের ফলে প্রাপ্ত খোদাইকৃত প্রস্তর খন্ডগুলির মধ্যে একই সারিতে আসীন অবস্থায় তিনটি বৌদ্ধমূর্তি পাওয়া গিয়েছিলো, যা বর্তমানে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে রক্ষিত আছে। এখনও মাটির নীচে চাপা পড়া অবস্থায় আছে প্রত্নস্থলটির কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ।
এই ঢিবির বা টিলার ওপর গ্রানাইট পাথরের একটি প্রকান্ড ও বিশাল চৌকাঠ (দৈর্ঘ্যে প্রায় ৯ ফুট ৪ ইঞ্চি) পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাথরটির গায়ে সুন্দর নকশা খোদাই করা থাকায় একে স্থানীয়রা “খোদাই পাথর” বলতো, যা কালক্রমে “খোদার পাথর” নামে পরিচিতি পায় এবং স্থানটির নাম হয় “খোদার পাথর ভিটা”।
এটি হিন্দু ধর্ম স্বীকৃত ব্রক্ষার বাহন বলে পরিচিত। এ পাথর বৌদ্ধযুগের হিন্দুদের কোন মন্দিরে পূজোর অর্ঘ রাখার কাজে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হয়।
স্থানীয় জনগণের কাছে এটি ” দুধ পাথর” নামেও বেশ পরিচিত। লোকবিশ্বাস ও প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে আজও হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং অনেক স্থানীয় মানুষ বিভিন্ন মানত পূরণের উদ্দ্যেশ্যে এই পাথরের ওপর ভক্তি ভরে দুধ, তেল কিংবা সিঁদুর ঢেলে থাকেন।
সংগৃহীত
Reporter Name 
























