ঢাকা ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক স্তরে বড় স্বীকৃতি পেল ‘আজলি-কাজলি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ
স্বর্ণায়ু মৈত্রর ‘আজলি-কাজলি’ গ্রামবাংলার মাটির গন্ধ, দুই শিশুর জীবনসংগ্রাম এবং শিক্ষার রূপান্তরমূলক শক্তির বার্তা—এই তিনকে এক সুতোয় বেঁধে নির্মিত হয়েছে পরিচালক স্বর্ণায়ু মৈত্রর স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘আজলি-কাজলি’।

আন্তর্জাতিক স্তরে আরও এক বড় স্বীকৃতি পেল এই ছবি। নিউ ইয়র্ক গ্লোবাল শর্ট ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬-এ অফিসিয়াল সিলেকশন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘আজলি-কাজলি’। আগামী ৮ আগস্ট, ২০২৬, বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
এই স্বীকৃতি শুধু একটি চলচ্চিত্রের সাফল্য নয়, বরং বাংলা থেকে উঠে আসা মানবিক ও সামাজিক গল্পের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতারও প্রমাণ। স্থানীয় বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে নির্মিত একটি গল্প যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকের মন ছুঁয়ে যেতে পারে, ‘আজলি-কাজলি’ তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।
ছবিতে অভিনয় করেছেন শ্রেয়া ভট্টাচার্য, প্রতিভাবান শিশু শিল্পী অর্ণভী চক্রবর্তী, ঈশান পাল এবং আউশি চক্রবর্তী। ছবির আবহকে আরও গভীর ও আবেগঘন করে তুলেছে মেঘ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সুর।
‘আজলি-কাজলি’ মূলত দুই ভাইবোনের সংগ্রামের গল্প। গ্রামবাংলার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী এই দুই শিশু সংসারের দায় কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হয়। তারা রাস্তায় ঐতিহ্যবাহী ‘আজলি-কাজলি’ লোকনৃত্য পরিবেশন করে জীবিকা নির্বাহ করে। একদিকে মদ্যপ পিতা, অন্যদিকে চরম আর্থিক সংকটে জর্জরিত পরিবার—শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ তাদের জীবনে প্রায় অনুপস্থিত। এমন সময় স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তাদের মনে শিক্ষার প্রতি নতুন স্বপ্ন জাগিয়ে তোলে। কিন্তু দারিদ্র্য সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও শিক্ষার প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষাই মায়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। সেখান থেকেই জন্ম নেয় এক নতুন আশার আলো।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে পরিচালক স্বর্ণায়ু মৈত্র বলেন, “‘আজলি-কাজলি’ সেই সব শিশুদের প্রতি আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য, যাদের স্বপ্ন প্রতিনিয়ত কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে। গল্পটি গ্রামবাংলার প্রেক্ষাপটে নির্মিত হলেও এর অনুভূতি সর্বজনীন। নিউ ইয়র্ক গ্লোবাল শর্ট ফিল্ম ফেস্টে আমাদের কাজ স্বীকৃতি পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় সম্মানের। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শক ছবিটির আশা, সংগ্রাম এবং শিক্ষার রূপান্তরমূলক শক্তির বার্তার সঙ্গে নিজেদের খুঁজে পাবেন।”
‘আজলি-কাজলি’-র এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি স্বাধীন বাংলা চলচ্চিত্রের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ছবিটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, আন্তরিক গল্প, সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা এবং মানবিক আবেগের শক্তি ভাষা কিংবা ভৌগোলিক সীমারেখায় আটকে থাকে না। শিক্ষা যে দারিদ্র্যের চক্র ভেঙে একটি নতুন ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিতে পারে, ‘আজলি-কাজলি’ সেই বিশ্বাসকেই সংবেদনশীল ও শক্তিশালী চলচ্চিত্রভাষায় তুলে ধরেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

আন্তর্জাতিক স্তরে বড় স্বীকৃতি পেল ‘আজলি-কাজলি

আপডেট সময় ০৭:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ
স্বর্ণায়ু মৈত্রর ‘আজলি-কাজলি’ গ্রামবাংলার মাটির গন্ধ, দুই শিশুর জীবনসংগ্রাম এবং শিক্ষার রূপান্তরমূলক শক্তির বার্তা—এই তিনকে এক সুতোয় বেঁধে নির্মিত হয়েছে পরিচালক স্বর্ণায়ু মৈত্রর স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘আজলি-কাজলি’।

আন্তর্জাতিক স্তরে আরও এক বড় স্বীকৃতি পেল এই ছবি। নিউ ইয়র্ক গ্লোবাল শর্ট ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬-এ অফিসিয়াল সিলেকশন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘আজলি-কাজলি’। আগামী ৮ আগস্ট, ২০২৬, বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
এই স্বীকৃতি শুধু একটি চলচ্চিত্রের সাফল্য নয়, বরং বাংলা থেকে উঠে আসা মানবিক ও সামাজিক গল্পের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতারও প্রমাণ। স্থানীয় বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে নির্মিত একটি গল্প যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকের মন ছুঁয়ে যেতে পারে, ‘আজলি-কাজলি’ তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।
ছবিতে অভিনয় করেছেন শ্রেয়া ভট্টাচার্য, প্রতিভাবান শিশু শিল্পী অর্ণভী চক্রবর্তী, ঈশান পাল এবং আউশি চক্রবর্তী। ছবির আবহকে আরও গভীর ও আবেগঘন করে তুলেছে মেঘ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সুর।
‘আজলি-কাজলি’ মূলত দুই ভাইবোনের সংগ্রামের গল্প। গ্রামবাংলার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী এই দুই শিশু সংসারের দায় কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হয়। তারা রাস্তায় ঐতিহ্যবাহী ‘আজলি-কাজলি’ লোকনৃত্য পরিবেশন করে জীবিকা নির্বাহ করে। একদিকে মদ্যপ পিতা, অন্যদিকে চরম আর্থিক সংকটে জর্জরিত পরিবার—শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ তাদের জীবনে প্রায় অনুপস্থিত। এমন সময় স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তাদের মনে শিক্ষার প্রতি নতুন স্বপ্ন জাগিয়ে তোলে। কিন্তু দারিদ্র্য সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও শিক্ষার প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষাই মায়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। সেখান থেকেই জন্ম নেয় এক নতুন আশার আলো।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে পরিচালক স্বর্ণায়ু মৈত্র বলেন, “‘আজলি-কাজলি’ সেই সব শিশুদের প্রতি আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য, যাদের স্বপ্ন প্রতিনিয়ত কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে। গল্পটি গ্রামবাংলার প্রেক্ষাপটে নির্মিত হলেও এর অনুভূতি সর্বজনীন। নিউ ইয়র্ক গ্লোবাল শর্ট ফিল্ম ফেস্টে আমাদের কাজ স্বীকৃতি পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় সম্মানের। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শক ছবিটির আশা, সংগ্রাম এবং শিক্ষার রূপান্তরমূলক শক্তির বার্তার সঙ্গে নিজেদের খুঁজে পাবেন।”
‘আজলি-কাজলি’-র এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি স্বাধীন বাংলা চলচ্চিত্রের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ছবিটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, আন্তরিক গল্প, সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা এবং মানবিক আবেগের শক্তি ভাষা কিংবা ভৌগোলিক সীমারেখায় আটকে থাকে না। শিক্ষা যে দারিদ্র্যের চক্র ভেঙে একটি নতুন ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিতে পারে, ‘আজলি-কাজলি’ সেই বিশ্বাসকেই সংবেদনশীল ও শক্তিশালী চলচ্চিত্রভাষায় তুলে ধরেছে।