ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার জার্সিতে ‘ভোজিনহা’ নামেই খেলবেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ৬ হাজার ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার এক বছরেই ৩০ পারা মুখস্থ, হাফেজ হলো ৮ বছরের আব্দুর রহমান লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে টোল নেবে না হুথিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ র‍্যাবের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম চারদিক বন্যার পানিতে ডুবলেও ডুবে না ক্লাস্টার বসতভিটা

মাচায় করেই হাসপাতালে প্রসূতি নারী

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:৩৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

রাঙামাটির বরকল উপজেলার আইমাছড়া ইউনিয়নের ভরতপাড়া এলাকায় দুর্গম পাহাড়ি পথে বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরি মাচায় করে এক প্রসূতি নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই নারী হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ১০ জন গ্রামবাসী মাচায় করে প্রসববেদনায় কাতর এক নারীকে পাহাড়ি পথে বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে তাদের সময় লাগে আড়াই ঘণ্টার বেশি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে জেসিকা চাকমা (১৯) নামের ওই নারীর প্রসবব্যথা শুরু হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সকাল ৭টার দিকে গ্রামবাসীর সহায়তায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছু সময় পরই তিনি স্বাভাবিকভাবে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মা ও নবজাতক দুজনই বর্তমানে সুস্থ আছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামবাসীরা বাঁশের তৈরি অস্থায়ী মাচায় করে পাহাড়ি ঢাল ও দুর্গম পথ পাড়ি দিচ্ছেন। ভিডিও ধারণকারীদের একজন সুমন জ্যোতি চাকমা বলেন, এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহন করতে হয়।

তিনি আরও জানান, এই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, কোনো পাকা সড়কও নেই। ফলে জরুরি রোগী, বিশেষ করে প্রসূতিদের ক্ষেত্রে স্থানীয়দেরই মাচা বা দোলার ওপর ভরসা করতে হয়।

আইমাছড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য শুভ মালা চাকমা বলেন, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের ভোগান্তি হয়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে আনা সম্ভব হওয়ায় স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

মাচায় করেই হাসপাতালে প্রসূতি নারী

আপডেট সময় ০৯:৩৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সিএনএমঃ

রাঙামাটির বরকল উপজেলার আইমাছড়া ইউনিয়নের ভরতপাড়া এলাকায় দুর্গম পাহাড়ি পথে বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরি মাচায় করে এক প্রসূতি নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই নারী হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ১০ জন গ্রামবাসী মাচায় করে প্রসববেদনায় কাতর এক নারীকে পাহাড়ি পথে বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে তাদের সময় লাগে আড়াই ঘণ্টার বেশি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে জেসিকা চাকমা (১৯) নামের ওই নারীর প্রসবব্যথা শুরু হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সকাল ৭টার দিকে গ্রামবাসীর সহায়তায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছু সময় পরই তিনি স্বাভাবিকভাবে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মা ও নবজাতক দুজনই বর্তমানে সুস্থ আছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামবাসীরা বাঁশের তৈরি অস্থায়ী মাচায় করে পাহাড়ি ঢাল ও দুর্গম পথ পাড়ি দিচ্ছেন। ভিডিও ধারণকারীদের একজন সুমন জ্যোতি চাকমা বলেন, এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহন করতে হয়।

তিনি আরও জানান, এই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, কোনো পাকা সড়কও নেই। ফলে জরুরি রোগী, বিশেষ করে প্রসূতিদের ক্ষেত্রে স্থানীয়দেরই মাচা বা দোলার ওপর ভরসা করতে হয়।

আইমাছড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য শুভ মালা চাকমা বলেন, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের ভোগান্তি হয়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে আনা সম্ভব হওয়ায় স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে।