ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার জার্সিতে ‘ভোজিনহা’ নামেই খেলবেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ৬ হাজার ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার এক বছরেই ৩০ পারা মুখস্থ, হাফেজ হলো ৮ বছরের আব্দুর রহমান লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে টোল নেবে না হুথিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ র‍্যাবের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম চারদিক বন্যার পানিতে ডুবলেও ডুবে না ক্লাস্টার বসতভিটা

হাজারীবাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১২:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

হাজারীবাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ

সিএনএমঃ
রাজধানীর হাজারীবাগ থানার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি,ভাগোপুর লেন, মনেশ্বর প্রথম লেন এবং বাড্ডানগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। দেখার কেউ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কেউ নেই। ফলে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ না মেনেই জনসম্মুখে চলছে মাদকের বেচাকেনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন লাকী নামে এক নারী, যাকে অনেকেই “মাদক সম্রাজ্ঞী” হিসেবে উল্লেখ করেন। লাকীর মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্কে তার আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যরাও জড়িত। তার আপন ভাই নাসিম ও জসীম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পরিচিত নাম। এছাড়া মাদক ব্যবসার পাশাপাশি সুদের ব্যবসার সঙ্গেও লাকীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। কম্পানিঘাট বাজারের বিভিন্ন দোকানে তার অর্থ বিনিয়োগ করা আছে।
সূত্র জানায়, একসময় লাকী কম্পানিঘাট এলাকায় হারুনদের বাসায় বসবাস করতেন। ৬৩/১ বাড্ডানগর লেনের একটি বাড়ি দখল করে সেখানে নতুন করে মাদক ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন। ওই বাড়িতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লাকী নিজে আড়ালে থাকলেও তার সহযোগীদের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালিত হয়। তার সঙ্গে জড়িত বলে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন— জসীম, নাসিম, সাইদ ওরফে গোদা বাবু, শাহিন, আখি, জুমুর, রুবি এবং মনির। সাইদ ওরফে গোদা বাবু পূর্বে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অবস্থান করতেন এবং একটি মাদক মামলার পলাতক আসামি। বর্তমানে তিনি লাকীর নেটওয়ার্কে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুকুলিকা স্কুল সংলগ্ন গলি এবং স্কুলের গেটের আশপাশে নিয়মিত মাদক বিক্রি হয়। সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আনাগোনা বেড়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাড়ির মালিক বলেন, মাদকের কারণে এলাকার পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে। প্রশাসনের তৎপরতাও তাদের চোখে খুব একটা দৃশ্যমান নয়।
রনি (পিতা-আমান) ও ইমরান (পিতা-ফরকান) নামের আরও কয়েকজন ব্যক্তি মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত।
কথিত মাদকসেবীর সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের ভয় খুব একটা করেন না। তার দাবি, গ্রেপ্তার হলেও সহজেই জামিনে বের হয়ে আসা যায়।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ওই এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে কয়েকজন আটক হলেও মূল অভিযুক্ত লাকীকে পাওয়া যায়নি। আটক ব্যক্তিরাও মুক্তি পেয়ে যায়।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকায় মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

হাজারীবাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

হাজারীবাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ

সিএনএমঃ
রাজধানীর হাজারীবাগ থানার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি,ভাগোপুর লেন, মনেশ্বর প্রথম লেন এবং বাড্ডানগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। দেখার কেউ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কেউ নেই। ফলে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ না মেনেই জনসম্মুখে চলছে মাদকের বেচাকেনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন লাকী নামে এক নারী, যাকে অনেকেই “মাদক সম্রাজ্ঞী” হিসেবে উল্লেখ করেন। লাকীর মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্কে তার আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যরাও জড়িত। তার আপন ভাই নাসিম ও জসীম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পরিচিত নাম। এছাড়া মাদক ব্যবসার পাশাপাশি সুদের ব্যবসার সঙ্গেও লাকীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। কম্পানিঘাট বাজারের বিভিন্ন দোকানে তার অর্থ বিনিয়োগ করা আছে।
সূত্র জানায়, একসময় লাকী কম্পানিঘাট এলাকায় হারুনদের বাসায় বসবাস করতেন। ৬৩/১ বাড্ডানগর লেনের একটি বাড়ি দখল করে সেখানে নতুন করে মাদক ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন। ওই বাড়িতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লাকী নিজে আড়ালে থাকলেও তার সহযোগীদের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালিত হয়। তার সঙ্গে জড়িত বলে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন— জসীম, নাসিম, সাইদ ওরফে গোদা বাবু, শাহিন, আখি, জুমুর, রুবি এবং মনির। সাইদ ওরফে গোদা বাবু পূর্বে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অবস্থান করতেন এবং একটি মাদক মামলার পলাতক আসামি। বর্তমানে তিনি লাকীর নেটওয়ার্কে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুকুলিকা স্কুল সংলগ্ন গলি এবং স্কুলের গেটের আশপাশে নিয়মিত মাদক বিক্রি হয়। সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আনাগোনা বেড়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাড়ির মালিক বলেন, মাদকের কারণে এলাকার পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে। প্রশাসনের তৎপরতাও তাদের চোখে খুব একটা দৃশ্যমান নয়।
রনি (পিতা-আমান) ও ইমরান (পিতা-ফরকান) নামের আরও কয়েকজন ব্যক্তি মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত।
কথিত মাদকসেবীর সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের ভয় খুব একটা করেন না। তার দাবি, গ্রেপ্তার হলেও সহজেই জামিনে বের হয়ে আসা যায়।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ওই এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে কয়েকজন আটক হলেও মূল অভিযুক্ত লাকীকে পাওয়া যায়নি। আটক ব্যক্তিরাও মুক্তি পেয়ে যায়।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকায় মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা।