ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার জার্সিতে ‘ভোজিনহা’ নামেই খেলবেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ৬ হাজার ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার এক বছরেই ৩০ পারা মুখস্থ, হাফেজ হলো ৮ বছরের আব্দুর রহমান লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে টোল নেবে না হুথিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ র‍্যাবের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম চারদিক বন্যার পানিতে ডুবলেও ডুবে না ক্লাস্টার বসতভিটা

হাজারীবাগে মাদকের ‘হটস্পট জোন’ গণকটুলি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:৩৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯৮ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ সজীবঃ

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে মাদক ব্যবসা। প্রকাশ্যেই গড়ে উঠেছে একাধিক মাদক বিক্রির স্পট, যেখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবাধে চলছে বেচাকেনা। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বড় মাদক ব্যবসায়ীদের পরিবর্তে অধিকাংশ সময় ধরা পড়ছে খুচরা ক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাজারীবাগের পুরাতন মাদক স্পট গণকটুলিতে দিন-রাত সমানতালে চলছে মাদক বেচাকেনা। এর পাশাপাশি নতুন করে গড়ে উঠেছে একাধিক ‘হটস্পট জোন’। যার মধ্যে অন্যতম নিমতলা বস্তি, মন্দিরের গলি, কালুনগর, বউবাজার, ঝাউচর বালুর মাঠসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে মাদকের বিস্তার।, এসব স্থানে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হলেও পুলিশের কার্যকর কোন ভুমিকা নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাঁজা, ইয়াবা ও হেরোইনের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে পাশের মোহাম্মদপুর এলাকা। বিশেষ করে রায়ের বাজার থেকে নিয়মিত মাদকের চালান হাজারীবাগে প্রবেশ করছে বলে জানা যায়। নিমতলা বস্তি, মুক্তি সিনেমা হলের গলি এবং কালি মন্দিরসংলগ্ন এলাকাগুলো বর্তমানে সক্রিয় মাদক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “প্রতিদিনই আমরা দেখি নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় বসে মাদক বিক্রি হচ্ছে। পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তারা মূল হোতাদের ধরতে পারে না। বরং সাধারণ পথচারী বা খুচরা ক্রেতাদের তল্লাশি করে ধরে নিয়ে যায়।”

আরেকজন রিকশা চালক অভিযোগ করে বলেন, বিডিআর ৫ নাম্বার গেটের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত তল্লাশি করে তার একটু সামনেই ডেকে ডেকে বিক্রি হচ্ছে মাদক, পুলিশ জেনেও তাদের ধরছে না, তারা সাধারন মানুষদের ধরে হয়রানি করছে৷

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনেক সময় মাদক বিক্রির স্পট থেকে অল্প দূরেই পুলিশের চেকপোস্ট থাকলেও ব্যবসা বন্ধ হয় না। বরং মাদক লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট চক্র। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে এবং এলাকার কিশোর-তরুণরা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা প্রতিদিনই মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছি। গত কালকেও ৩০ জন তার আগের দিন ৩২ জন আটক করেছি, তিনি বলেন আরও, এই মাসে আমরা ৪ জন তালিকাভুক্ত আসামি ধরেছি যাদের মধ্যে একেকজনের ১৭ থেকে ১৮ টি মামলা রয়েছে। পুলিশের নজরদারি বাড়ানো বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, থানায় পুলিশের ৮টি টহল টিম কাজ করে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র খুচরা পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। পুরো নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে হাজারীবাগ অদূর ভবিষ্যতে রাজধানীর অন্যতম বড় মাদককেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তারা অবিলম্বে দৃশ্যমান ও কঠোর অভিযানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে করে এ ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

হাজারীবাগে মাদকের ‘হটস্পট জোন’ গণকটুলি

আপডেট সময় ০৯:৩৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

মোহাম্মদ সজীবঃ

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে মাদক ব্যবসা। প্রকাশ্যেই গড়ে উঠেছে একাধিক মাদক বিক্রির স্পট, যেখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবাধে চলছে বেচাকেনা। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বড় মাদক ব্যবসায়ীদের পরিবর্তে অধিকাংশ সময় ধরা পড়ছে খুচরা ক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাজারীবাগের পুরাতন মাদক স্পট গণকটুলিতে দিন-রাত সমানতালে চলছে মাদক বেচাকেনা। এর পাশাপাশি নতুন করে গড়ে উঠেছে একাধিক ‘হটস্পট জোন’। যার মধ্যে অন্যতম নিমতলা বস্তি, মন্দিরের গলি, কালুনগর, বউবাজার, ঝাউচর বালুর মাঠসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে মাদকের বিস্তার।, এসব স্থানে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হলেও পুলিশের কার্যকর কোন ভুমিকা নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাঁজা, ইয়াবা ও হেরোইনের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে পাশের মোহাম্মদপুর এলাকা। বিশেষ করে রায়ের বাজার থেকে নিয়মিত মাদকের চালান হাজারীবাগে প্রবেশ করছে বলে জানা যায়। নিমতলা বস্তি, মুক্তি সিনেমা হলের গলি এবং কালি মন্দিরসংলগ্ন এলাকাগুলো বর্তমানে সক্রিয় মাদক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “প্রতিদিনই আমরা দেখি নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় বসে মাদক বিক্রি হচ্ছে। পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তারা মূল হোতাদের ধরতে পারে না। বরং সাধারণ পথচারী বা খুচরা ক্রেতাদের তল্লাশি করে ধরে নিয়ে যায়।”

আরেকজন রিকশা চালক অভিযোগ করে বলেন, বিডিআর ৫ নাম্বার গেটের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত তল্লাশি করে তার একটু সামনেই ডেকে ডেকে বিক্রি হচ্ছে মাদক, পুলিশ জেনেও তাদের ধরছে না, তারা সাধারন মানুষদের ধরে হয়রানি করছে৷

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনেক সময় মাদক বিক্রির স্পট থেকে অল্প দূরেই পুলিশের চেকপোস্ট থাকলেও ব্যবসা বন্ধ হয় না। বরং মাদক লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট চক্র। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে এবং এলাকার কিশোর-তরুণরা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা প্রতিদিনই মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছি। গত কালকেও ৩০ জন তার আগের দিন ৩২ জন আটক করেছি, তিনি বলেন আরও, এই মাসে আমরা ৪ জন তালিকাভুক্ত আসামি ধরেছি যাদের মধ্যে একেকজনের ১৭ থেকে ১৮ টি মামলা রয়েছে। পুলিশের নজরদারি বাড়ানো বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, থানায় পুলিশের ৮টি টহল টিম কাজ করে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র খুচরা পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। পুরো নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে হাজারীবাগ অদূর ভবিষ্যতে রাজধানীর অন্যতম বড় মাদককেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তারা অবিলম্বে দৃশ্যমান ও কঠোর অভিযানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে করে এ ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।