ঢাকা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮ বছর পর আলোচিত বিচারক মোতাহারের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৪:৩৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুন ২০২২
  • ২৩৭ বার পড়া হয়েছে

মুদ্রা পাচার মামলায় তারেক রহমানকে বেকসুর খালাসের রায় দেওয়া বিচারক মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় পালিয়ে থাকা বিচারক মোতাহারের বিরুদ্ধে অনুমোদিত মামলায় প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘুষ হিসাবে ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন বিচারক মোতাহার হোসেন। সে সময় তিনি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, বিচারক মো. মোতাহার হোসেনের তার নিজ নামে ও স্ত্রী তাসলিমা বেগম ওরফে আরজুমান্দ আরার (মৃত) নামে অর্জিত জমি বা স্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ৯.৩২৯৯ একর বা ৯৩৪ শতক। যার দালিলিক মূল্য ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৯৪ টাকা। স্থাবর সম্পদ ছাড়া মো. মোতাহার হোসেনের নিজ নামে ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৭৬১ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তার ৩৯ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫৫ টাকা সম্পদসহ মোট ৫৩ লাখ ৮৩ হাজার ৫৫ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে দুদকের অনুসন্ধানে। যার বিপরীতে ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯০ টাকার সম্পদের উৎসের প্রমাণ পাওয়া গেলেও ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬৫ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বলে অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে। তাই কমিশন থেকে দুদক ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় মামলাটি অনুমোদন দিয়েছে।

যদিও সাবেক বিচারক মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমলে নিয়ে ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। সেই সময় তার বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞাও জারি করে কমিশন। তবে কমিশন অনুসন্ধান শুরু করার আগেই তিনি মালয়েশিয়া চলে যান। দীর্ঘ ৮ বছরের অনুসন্ধান শেষে তার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিদেশের সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পেতে মালয়েশিয়া ও লন্ডন সরকারের কাছে মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিন্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠিয়েছিল দুদক। কিন্তু এতোদিনেও কাঙ্ক্ষিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় আইনজীবী অ্যাডভোকেট পবিত্র সরকার, দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর পেশকার আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৩ এর পেশকার আরিফুল ইসলাম, বিশেষ জজ আদালত -৩ এর স্টেনোগ্রাফার মো. নুরুল ইসলাম ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর স্টেনোগ্রাফার মো. আবু হাসানসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

৮ বছর পর আলোচিত বিচারক মোতাহারের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

আপডেট সময় ০৪:৩৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুন ২০২২

মুদ্রা পাচার মামলায় তারেক রহমানকে বেকসুর খালাসের রায় দেওয়া বিচারক মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় পালিয়ে থাকা বিচারক মোতাহারের বিরুদ্ধে অনুমোদিত মামলায় প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘুষ হিসাবে ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন বিচারক মোতাহার হোসেন। সে সময় তিনি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, বিচারক মো. মোতাহার হোসেনের তার নিজ নামে ও স্ত্রী তাসলিমা বেগম ওরফে আরজুমান্দ আরার (মৃত) নামে অর্জিত জমি বা স্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ৯.৩২৯৯ একর বা ৯৩৪ শতক। যার দালিলিক মূল্য ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৯৪ টাকা। স্থাবর সম্পদ ছাড়া মো. মোতাহার হোসেনের নিজ নামে ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৭৬১ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তার ৩৯ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫৫ টাকা সম্পদসহ মোট ৫৩ লাখ ৮৩ হাজার ৫৫ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে দুদকের অনুসন্ধানে। যার বিপরীতে ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯০ টাকার সম্পদের উৎসের প্রমাণ পাওয়া গেলেও ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬৫ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বলে অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে। তাই কমিশন থেকে দুদক ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় মামলাটি অনুমোদন দিয়েছে।

যদিও সাবেক বিচারক মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমলে নিয়ে ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। সেই সময় তার বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞাও জারি করে কমিশন। তবে কমিশন অনুসন্ধান শুরু করার আগেই তিনি মালয়েশিয়া চলে যান। দীর্ঘ ৮ বছরের অনুসন্ধান শেষে তার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিদেশের সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পেতে মালয়েশিয়া ও লন্ডন সরকারের কাছে মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিন্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠিয়েছিল দুদক। কিন্তু এতোদিনেও কাঙ্ক্ষিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় আইনজীবী অ্যাডভোকেট পবিত্র সরকার, দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর পেশকার আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৩ এর পেশকার আরিফুল ইসলাম, বিশেষ জজ আদালত -৩ এর স্টেনোগ্রাফার মো. নুরুল ইসলাম ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর স্টেনোগ্রাফার মো. আবু হাসানসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।