কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আসমানিয়া বাজার সংলগ্ন গোমতী নদী এলাকায় অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে।
প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় পরিচালিত এই অবৈধ বাণিজ্যের কারণে নদীর তীরবর্তী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা বর্তমানে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
বিশেষ করে বালু লোড-আনলোড ও পরিবহনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সরকারি প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসে পড়ার উপক্রম হলেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
হুমকির মুখে কোটি টাকার জিও ব্যাগ প্রকল্প
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসমানিয়া বাজার এলাকায় গোমতী নদীর পাড় ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড বিপুল অর্থ ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলে একটি প্রতিরক্ষা প্রকল্প সম্পন্ন করেছিল। তবে বালু সিন্ডিকেটের সদস্যরা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নদীর তীরে ড্রেজার ও কার্গো বসিয়ে বালু লোড-আনলোড করছে।
এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের ফলে বালুর চাপে ও যান্ত্রিক কম্পনে কোটি টাকার সেই সরকারি প্রতিরক্ষা কাজ এখন ধসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সরকারি সম্পদ নষ্ট করে সিন্ডিকেটের এই ‘মহোৎসব’ চললেও দেখার কেউ নেই।
জনমনে আতঙ্ক ও সামাজিক অবক্ষয়
সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকায় ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলমান থাকার সুযোগ নিয়ে সিন্ডিকেটটি নদীর দুপাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু ব্যবসার বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। ড্রেজারের বিকট শব্দ এবং নদীপাড় সংলগ্ন স্থাপনা ধসের হুমকিতে জনজীবন অতিষ্ঠ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান: বালু সিন্ডিকেটের সদস্যরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তাদের কারণে একদিকে যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে এই ব্যবসার সাথে জড়িয়ে এলাকার যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে।”
অভিযোগ রয়েছে, এই বালু বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক মহল চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এই অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে এলাকায় গ্রুপিং ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে, যা সরাসরি সামাজিক পরিবেশকে কলুষিত করছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
দীর্ঘদিন ধরে আসমানিয়া বাজার এলাকায় এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা সিন্ডিকেট সদস্যদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
কয়েক হাজার বাসিন্দা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের ভূমিকা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আসমানিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দারা। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং এই অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।