শবেবরাত
মোহাম্মদ মনির হোসেন
শবে বরাত শবে বরাত চালের রুটি গরুর গোস্ত ,তার সাথে হালুয়া মস্ত।খাওয়া নিয়ে বেজায় ব্যস্ত, মনির সাহেব বেজায় কষ্ট মন বসে না খাওয়া দাওয়ায়।মন গেছে তার বমের দিকে খাওয়া কি আর ভালো লাগে।মা ডাকছে মনিরকে ঝাল করে রেধেছি গোস্ত ,তার সাথে চালের রুটি ও আছেযে ,তুই না এটা বেশ খেতিযে, বুটের হালুয়া করেছি সাথে তোর প্রিয় তাই বলে, মন তোমার কোথায় গেল রে, কতবার বায়না করিস, কষ্ট করে রান্না করলাম মুখে তোর সাদ গেল কোথায় রে। বমের কথা মা শুনলে বেজায় ভারী কষ্ট পাবে ,তাই তো মনির আড়াল করে খাওয়া-দাওয়ার নাটক করে, প্রতিবারই শবে বরাতের মাকে বানায় বোকা ভারি। কিছু টাকা মা দিয়েছে তাই না দিয়ে ৩০ হবে, সারারাত ১০ ঘণ্টা যে ৫০০ নাহলে কেমনে চলে। পাঁচখানি বন্ধু নিয়ে মনির চলে বমের ঘরে ,দুইটা কিনে দশটা ভরে এই নিয়ে যে ৩০০ হল রে ,চাচা বলে দোকান ডেকে আর না আছে আমার কাছে তুমি যাও নির্বাসনে। আর এসো না আমার কাছে তোমার জন্য বিক্রি বন্ধ যে ,ত্রিশ খানি র দাম দিলে বম ছিল ৩০০ যে, কোথায় গেল পাই না খুঁজে। আরো ২০০ শর্ট হলো যে, বন্ধু বলে আছে আমার কাছে। মনের সুখে ভ্যান খুঁজরে সারারাত চলতে হবে, ভ্যান মামা যে মনির দেখে মাগনা হবে না ভ্যান পাবাজে, মা দিয়েছে টাকা গুজে বোম কিনে যে শেষ হয়েছে ভ্যান ভাড়া কই পাবো রে বন্ধু বলে কিছু টাকা আছে আমার কাছে মনির বলে সারারাত ঘুরবো বলে টাকা খানি রাখিস গুঁজে, ভ্যান মামাজে বাসায় গেছে গোস্ত দিয়ে রুটি খেতে, মনির বলে ভ্যান ধর তালা শুদ্ধ নামা পুকুরে, ভ্যান মামা খবর পেয়ে রুটি ফেলে দৌড়ে আসে, পায়ে ধরে মামা মনির বাবাকে মাগনা দেব আর ফেলিস না রে। মাগনা ভ্যান লয়ে মনির ,এবার খুব খিদে লেগেছে রে! গোস্ত রুটি যাচ্ছে পেটে তার সাথে হালুয়া আছে যে, মা না দেখে খুব খুশি যে ,আরো কিছু টাকা দিল রে, ঘুমাই এবার পেট পুরে ,সারারাত যে ঘুরতে হবে জায়গায় জায়গায় রে। সন্ধা এলে মারে মোররা ঝিল ঝিলিয়ে আকাশে উড়ে ,তার সাথে চকলেট বোম আছেরে। চলছে ছুটে বন্ধুসহ ভ্যান নিয়ে পুলিশ ও বাদ যায় না শেষে ,গুল বাঘের নাম শুনলে পুলিশ ভাই ও না আসে ,বেজায় দুষ্ট চ্যাংরার দল বোম মেরে দেয় গাড়ির ভিতর। চাংরার দল চলছে উড়ে চোখে মুখে জোনাকি জলে। নামাজ পড়ার কথা বলে পাঞ্জাবি টুপি লাগিয়ে এসেছেরে ,এক রাকাতও পড়েনি শেষে। সারারাত বোম ফাটিয়ে চলছে ওরা বাঘের বেশে, মনির বলে কিছু রাখির শেষে মহল্লায় লাগবে শেষে, আম পেরেছে জাম পেরেছে তাই দিয়ে কি পেট মানে, মসজিদে হচ্ছে রান্না তেহারি হবে শেষ খান না। শেষ বম ফাঠাতে গিয়ে পুলিশ নিলো ধরে ওদের যে, ওসি সাহেব নামাজ পড়ে, দূত এসেছে দৌড়ি দিয়ে, মনির ,পান্না ধরা পড়েছে স্যার এবার কি করবো যে। ঘন্টাখানিক বাকি আছে যে, তবারক দেব বিলিয়ে, দুঃখে আমার মনটা কাঁদে ছেলে গেছে আমার জেলে, ওসি সাহেব ফোন করেছে খাওয়ার জন্য ওদের ছেড়ে দে। পান্না মনির এসেছে ছুটে মসজিদের খাবার খাবে। মনির বলে পান্নারে ডেকে, মোনাজাত কতক্ষণ হবে রে, হাত পারিনা ধরে রাখতে তার সাথে ঘুম এসেছে, আগরবাতি জ্বালা শেষে , তার সাথে বম দে গুঁজে। মনির যায় আস্তে আস্তে হুজুর বলে কি খুঁজিস রে, মনির বলে ঘুমের সুরে তবার ক খুঁজি শেষে, হুজুর বলে তবারক কি আমার পিছে, মনির বলে হুকুম হবে এখান থেকে ,এক মিনিট আছে বাকি যে, হুজুর বলে আর একটু ধৈর্য ধরো বাবারে, মোনাজাত দিব শেষ করে ,আচ্ছা হুজুর আমি যাচ্ছি চলে ,কিছুক্ষণ গেলে শেষে বোম ফেটেছে হুজুর পানে, আমিন আমিন বলে শেষে, মনির বলে হুজুর সাহেব যে আমিন যে একবার বলে ,আজ দেখছি পাঁচবার হয়েছে যে, হুজুর কি গেছেন ভুলে। হুজুর বলে বোম ফেটেছে, মাজার মাঝে ফোড়া আছে, গেছে ফেটে ওটা শেষে আমিন যে বাবা কয়বার বলেছি রে ,মনে আমার কিছুই না আসে ,আজ থেকে বলছি বাবা মোনাজাত তোমার ছাড়া, সবার আগে খাবি তুই, মোনাজাত হবে পড়া। খাবার শেষে ঘুম পেয়েছে রোজা এসে ঘুম ভেঙেছে। প্রথম রোজায় যাচ্ছে মনির জহুরের নামাজ পড়তে, শুভোল জেতার চোখে আসে ,গান গাচ্ছে হামসে বড়া কৌন হ্যায় ,জুতোর কাজ শেষ করে ,ধোপার ঘরে টেবিল আছে তার মাঝে তোষক, পেয়ে খাচ্ছে সুবল গান গেয়ে, মনির গেছে তার আনতে, কাজ করেছে তোষক তলে, তার দিয়েছে জাল বিছিয়ে তার সাথে ২২০ ভোল্টেজ যে, পরের দিন এসেছে সুবল ইলিশ মাছ আর ভাত নিয়ে, গান গাচ্ছে লুঙ্গি গুঁজে, হামসে বড়া কৌন হ্যায়, টিফিন বাটি হাতে নিয়ে লাফ মেরেছে তোষক পানে, ২২০ এর বাড়ি খেয়ে ভাত গেছে তার ড্রেন পানে , শূবল গেছে শোকেস পানে। রক্তমাখা শরীর নিয়ে শূবল বলে ,মনির বাবারে আজ থেকে রোজা রাখবো রে জুতা দেবো তোমায় মাগনা যে ,পায়ে ধরি বাবা আমার যে ,এ কাজ আর করো না যে। মনির গেছে হাসতে হাসতে নামাজ জেতার ভালো লাগছে। ধন্যবাদ।