ঢাকা ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বাজেয়াপ্ত সম্পদের ৫০ শতাংশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং শহীদদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তাঁরা সবাই পলাতক রয়েছেন।

রায়ে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অধীনে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নির্ধারিত ৫০ শতাংশ সম্পদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং শহীদদের পরিবারের মধ্যে বণ্টন করা হবে। জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা এ ধরনের কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব সম্পদ বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ছাড়া অন্য পাঁচ আসামির সম্পদের ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারের মধ্যে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটসে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। এবারই প্রথম ট্রাইব্যুনাল আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।’
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় প্রধান কৌঁসুলি বলেন, ‘আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট এবং মনে করি, এটি একটি প্রত্যাশিত রায় হয়েছে।’

রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা হলে সরকারের পক্ষে রায় বাস্তবায়নে কোনো বাধা থাকবে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৩:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিএনএমঃ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বাজেয়াপ্ত সম্পদের ৫০ শতাংশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং শহীদদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তাঁরা সবাই পলাতক রয়েছেন।

রায়ে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অধীনে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নির্ধারিত ৫০ শতাংশ সম্পদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং শহীদদের পরিবারের মধ্যে বণ্টন করা হবে। জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা এ ধরনের কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব সম্পদ বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ছাড়া অন্য পাঁচ আসামির সম্পদের ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারের মধ্যে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটসে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। এবারই প্রথম ট্রাইব্যুনাল আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।’
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় প্রধান কৌঁসুলি বলেন, ‘আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট এবং মনে করি, এটি একটি প্রত্যাশিত রায় হয়েছে।’

রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা হলে সরকারের পক্ষে রায় বাস্তবায়নে কোনো বাধা থাকবে না।