সিএনএমঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে ৯ কিলোমিটার পূর্বে কালীগঞ্জ-আড়পাড়া পাকা সড়কের পাশে সুইতলা মল্লিকপুর গ্রামে অবস্থিত। বট গাছটির আনুমানিক বয়স ৪০০ বছর। ১১ একর জায়গা জুড়ে তার শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে রেখেছে প্রাচীন এই বটগাছটি।
এটির উচ্চতা আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট। বর্তমানে গাছটি ৫০টি বটগাছে রূপ নিয়ে ছড়িয়েছে তার ডালপালা। ১৯৮২ সালে বিবিসির জরিপে এটি এশিয়ার বৃহত্তম বটবৃক্ষের স্বীকৃতি পায়। গাছটি সংরক্ষণের বিষয়টি আমলে নিয়ে ২০০৯ সালে তা দেখভালের দায়িত্ব নেয় সামাজিক বন বিভাগ। তবে গাছটি সংরক্ষণে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গাছটির আশপাশে বন-জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। সঙ্গে রয়েছে ময়লা আবর্জনায় স্তুপ। যা দেখে ক্ষোভ ঝাড়ছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিনই বটবৃক্ষটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসছেন এই গ্রামে।অবাক চোখে দেখছেন প্রকৃতির এ বিস্ময়কে।
গাছটির শুরু একটি মূল থেকে, আর এখন মূলের সংখ্যা কয়েকশ। ছড়িয়ে পড়া ডালপালা আর পত্রপল্লবে কয়েকশ বছরের পুরোনো গাছটির ব্যপ্তি বর্তমানে ১১ একর জায়গা জুড়ে। বটের ডালপালা ও শিকড় নেমে পুরো এলাকাটি দৃশ্যত পৃথক গাছে পরিণত হয়েছে। মূলগাছ কোনটি তা আর এখন বোঝার উপায় নেই। তবে অবহেলা অযত্নে আপন সৌন্দর্য আর ঐতিহ্য হারাতে বসেছে বৃহত্তম এই গাছটি। সংরক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এশিয়াবাসীর গর্ব এই গাছটি আর কতদিন টিকে থাকবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
গাছটির জন্ম কত সালে তার কোন সঠিক ইতিহাসও কারো জানা নেই। তবে বয়ঃবৃদ্ধদের মূখে শোনা যায়, গাছটির বয়স ৪০০ বছরের বেশি হবে। বাংলা ১৩৬০ সালে এই গাছটিকে কেন্দ্র করে মল্লিকপুর বেথুলীতে প্রথম বাজার বসে। বাজারটি এখন অনেক বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। গাছের সঙ্গে অনেক বড় হয়ে উঠেছে বাজারটি। দোকানের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বর্তমানে ৫৫ থেকে ৬০ টি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ওই বাজারে।
গাছটির ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, ৪০০ বছরে বেশি সময় পূর্বে গাছটি ছোট থাকা অবস্থায় তার নিচে একটি কুয়া ছিল। কুয়ার পানি ছিল স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ। কম জনবসতি এলাকাটিতে দুর-দুরান্তের লোক এই কুয়ার পানি পান করার উদ্দেশে নিয়ে যেত। কুয়ার উপরের বটগাছটির ডালপালা প্রচুর হওয়ায় গাছের নিচে গরমের সময় ঠান্ডা আর ঠান্ডার সময় গরম অনুভূত হতো। ধীরে ধীরে জনসাধারণের মধ্যে গাছটি পূণ্য স্থানে পরিণত হয়।
বিভিন্ন রোগের জন্য আগত লোকজন গাছের গোড়ায় মানত করতে শুরু করে। সাধারণের মাঝে বিশ্বাস জাগতে শুরু করে যে গাছটির ডাল কাটলে বা ক্ষতি করলে নিজেদের ক্ষতি হতে পারে। তাই গাছটিকে সবাই পরিচর্যা করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে গাছটির ডালপালা থেকে বোয়া নামতে নামতে বৃহৎ আকার ধারণ করে। কিন্তু মানুষ আজ আর কোন নিয়ম মানে না, ভয়ও পাই না।