ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার জার্সিতে ‘ভোজিনহা’ নামেই খেলবেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ৬ হাজার ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার এক বছরেই ৩০ পারা মুখস্থ, হাফেজ হলো ৮ বছরের আব্দুর রহমান লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে টোল নেবে না হুথিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ র‍্যাবের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম চারদিক বন্যার পানিতে ডুবলেও ডুবে না ক্লাস্টার বসতভিটা

চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক জোরদারে বৈঠকের সিদ্ধান্ত

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৪:২৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১৭ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে উদীয়মান পরাশক্তি চীন। এর ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সুং-লাক শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এটি হবে শি ও লির দ্বিতীয় বৈঠক। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পরবর্তী শীর্ষ বৈঠকের আগে সম্পর্ক শক্তিশালী করতেই বেইজিংয়ের আগ্রহের প্রতিফলন এটি।
উই সুং-লাকের ভাষ্য মতে, আগামী সোমবার (৫ জানুয়ারি) শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠক করবেন লি জে মিয়ং। এ বৈঠকের পর লি সাংহাই সফর করবেন। সেখানে জাপানের ৩৫ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ কোরিয়ার অস্থায়ী সরকারের ঐতিহাসিক স্থাপনাটি পরিদর্শন করবেন লি।
ইয়নহাপ সংবাদ সংস্থার বরাতে উই জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে বৈঠকে সরবরাহ শৃঙ্খলভিত্তিক বিনিয়োগ, পর্যটন এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাবহারিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি কোরীয় উপদ্বীপের সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি আনতে চীনকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে অনুরোধ জানাবেন প্রেসিডেন্ট লি।
চীন ও জাপানের সম্পর্ক বর্তমানে টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। গত নভেম্বর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেছিলেন, তাইওয়ানে চীনের সম্ভাব্য হামলা টোকিওকে সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করতে পারে। এমন মন্তব্যের জেরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে উই সুং-লাক শুক্রবার (২ জানুয়ারি) তাইওয়ান বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘সিউল এক চীন নীতিকে সম্মান করে এবং সেই নীতির সঙ্গেই কার্যক্রম পরিচালনা করে।’ এই নীতির আওতায় বেইজিং তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
লি প্রশাসন জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। তাই চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ‘পুনরুদ্ধার’ করাই তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে ‘ব্যাবহারিক কূটনীতি’র অংশ হিসেবে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেছে সিউল।
লি’র সফরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সবুজ শিল্পে সহযোগিতাও আলোচনায় আসবে বলে জানিয়েছে তার কার্যালয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য অপরিহার্য বিরল খনিজের প্রায় অর্ধেকই আসে চীন থেকে। দেশটির বার্ষিক চিপ রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশ যায় চীনে যা সিউলের সবচেয়ে বড় বাজার।
গত মাসে দুই দেশ বিরল খনিজের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উন্নত প্রযুক্তিতেও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের আমলে দক্ষিণ কোরিয়া ওয়াশিংটন ও টোকিওর সমর্থিত ছিল এবং তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থানের সমালোচনা করেছিল। তবে ইওলের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে লি বলেছেন, চীন ও জাপানের বিরোধে তিনি কোনো পক্ষ নেবেন না। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রেসিডেন্ট লি।

বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এসব বাহিনীকে তাইওয়ানসহ অন্যান্য আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও নমনীয়ভাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে দেশটি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক জোরদারে বৈঠকের সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় ০৪:২৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ

আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে উদীয়মান পরাশক্তি চীন। এর ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সুং-লাক শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এটি হবে শি ও লির দ্বিতীয় বৈঠক। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পরবর্তী শীর্ষ বৈঠকের আগে সম্পর্ক শক্তিশালী করতেই বেইজিংয়ের আগ্রহের প্রতিফলন এটি।
উই সুং-লাকের ভাষ্য মতে, আগামী সোমবার (৫ জানুয়ারি) শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠক করবেন লি জে মিয়ং। এ বৈঠকের পর লি সাংহাই সফর করবেন। সেখানে জাপানের ৩৫ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ কোরিয়ার অস্থায়ী সরকারের ঐতিহাসিক স্থাপনাটি পরিদর্শন করবেন লি।
ইয়নহাপ সংবাদ সংস্থার বরাতে উই জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে বৈঠকে সরবরাহ শৃঙ্খলভিত্তিক বিনিয়োগ, পর্যটন এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাবহারিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি কোরীয় উপদ্বীপের সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি আনতে চীনকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে অনুরোধ জানাবেন প্রেসিডেন্ট লি।
চীন ও জাপানের সম্পর্ক বর্তমানে টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। গত নভেম্বর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেছিলেন, তাইওয়ানে চীনের সম্ভাব্য হামলা টোকিওকে সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করতে পারে। এমন মন্তব্যের জেরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে উই সুং-লাক শুক্রবার (২ জানুয়ারি) তাইওয়ান বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘সিউল এক চীন নীতিকে সম্মান করে এবং সেই নীতির সঙ্গেই কার্যক্রম পরিচালনা করে।’ এই নীতির আওতায় বেইজিং তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
লি প্রশাসন জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। তাই চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ‘পুনরুদ্ধার’ করাই তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে ‘ব্যাবহারিক কূটনীতি’র অংশ হিসেবে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেছে সিউল।
লি’র সফরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সবুজ শিল্পে সহযোগিতাও আলোচনায় আসবে বলে জানিয়েছে তার কার্যালয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য অপরিহার্য বিরল খনিজের প্রায় অর্ধেকই আসে চীন থেকে। দেশটির বার্ষিক চিপ রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশ যায় চীনে যা সিউলের সবচেয়ে বড় বাজার।
গত মাসে দুই দেশ বিরল খনিজের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উন্নত প্রযুক্তিতেও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের আমলে দক্ষিণ কোরিয়া ওয়াশিংটন ও টোকিওর সমর্থিত ছিল এবং তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থানের সমালোচনা করেছিল। তবে ইওলের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে লি বলেছেন, চীন ও জাপানের বিরোধে তিনি কোনো পক্ষ নেবেন না। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রেসিডেন্ট লি।

বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এসব বাহিনীকে তাইওয়ানসহ অন্যান্য আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও নমনীয়ভাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে দেশটি।