ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৫০ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ৯ জন মানব পাচারকারীকে আটক

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:৩৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে মালয়েশিয়াগামী একটি বোট থেকে ৫০ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ৯ জন মানব পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, সমুদ্রপথে মানব পাচার রোধে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, টেকনাফ উপকূল ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিপুলসংখ্যক মানুষকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড জাহাজ ‘মনসুর আলী’, স্টেশন টেকনাফ, শাহপরীরদ্বীপ আউটপোস্ট ও বাহারছড়া আউটপোস্টের সদস্যরা যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি নির্দেশনা অমান্য করে দ্রুত গভীর সমুদ্রের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
পরে ধাওয়া করে বাহারছড়া উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা থেকে বোটটি আটক করা হয়।
পরবর্তীতে বোটে তল্লাশি চালিয়ে মানব পাচারের শিকার ৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে পাচার কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মানব পাচারকারী চক্র বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের টেকনাফ এলাকায় নিয়ে আসে।
পরে তাদের বিভিন্ন গোপন আস্তানায় আটকে রেখে নির্যাতন ও পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়।
এরপর সাগরপথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এছাড়া কয়েকজন ভুক্তভোগীকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
আটক মানব পাচারকারী, উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগী এবং জব্দকৃত বোটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানব পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সমুদ্রপথে সংঘটিত অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৫০ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ৯ জন মানব পাচারকারীকে আটক

আপডেট সময় ০৭:৩৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

সিএনএমঃ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে মালয়েশিয়াগামী একটি বোট থেকে ৫০ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ৯ জন মানব পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, সমুদ্রপথে মানব পাচার রোধে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, টেকনাফ উপকূল ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিপুলসংখ্যক মানুষকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড জাহাজ ‘মনসুর আলী’, স্টেশন টেকনাফ, শাহপরীরদ্বীপ আউটপোস্ট ও বাহারছড়া আউটপোস্টের সদস্যরা যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি নির্দেশনা অমান্য করে দ্রুত গভীর সমুদ্রের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
পরে ধাওয়া করে বাহারছড়া উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা থেকে বোটটি আটক করা হয়।
পরবর্তীতে বোটে তল্লাশি চালিয়ে মানব পাচারের শিকার ৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে পাচার কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মানব পাচারকারী চক্র বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের টেকনাফ এলাকায় নিয়ে আসে।
পরে তাদের বিভিন্ন গোপন আস্তানায় আটকে রেখে নির্যাতন ও পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়।
এরপর সাগরপথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এছাড়া কয়েকজন ভুক্তভোগীকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
আটক মানব পাচারকারী, উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগী এবং জব্দকৃত বোটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানব পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সমুদ্রপথে সংঘটিত অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।