ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিতাসে জামিনে এসে বাদীর পরিবারে হামলা, মামলা তুলে নিতে হত্যার হুমকি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৫:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৪
  • ২৭৩ বার পড়া হয়েছে
সাকিব হোসেইনঃ
কুমিল্লার তিতাসে একটি হত্যাচেষ্টা মামলার অভিযুক্তরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে বাদীর পরিবারে হামলা করে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা তুলে না নিলে বাদীকে হত্যা করে তার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দিয়েছে বলেও দাবী করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের বারকাউনিয়া গ্রামে।
অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের বারকাউনিয়া গ্রামের মরহুম আব্দুল জলিলের ছেলে মো. লিটনের সাথে একই গ্রামের বাসিন্দা মরহুম আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. মনির হোসেনের পূর্ব থেকে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মো. লিটনের বাড়ীতে প্রবেশ করে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায় আ’লীগ কর্মী মনির হোসেন গ্রুপ।
এতে লিটন ও তার মাসহ ৪জন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় লিটন বাদী হয়ে তিতাস থানায় ৯জনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত আরো ৩/৪জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলার ৯আসামীর মধ্যে ৪আসামী উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে মনির তার সহযোগীদের নিয়ে লিটনের বাড়িতে গিয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি প্রদান করে। মামলা তুলে না নেয়ায় ফেসবুকে হত্যার হুমকি দিয়ে একাধিক আইডিতে পোষ্ট দেয়। পোষ্টে লিখেন, “এক হাতের বিনিময়ে দশটি হাত, এক সুমনের জীবনের বিনিময়ে পাচটার, বেশি কিছু লিখলাম না”।
তারই জের ধরে গত ১৫ নভেম্বর মামলার বাদী লিটনের চাচাতো ভাই সাকিব আহাম্মেদ ওরফে মোহাম্মদ আলী বাড়িতে ফিরার পথে বারকাউনিয়া পূর্ব পাড়া ব্রিজের উপর মনির ও তার লোকজন মিলে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। এখানে দু’পক্ষে দীর্ঘক্ষণ সংঘাত চলে। এতে বাদী লিটনের পক্ষের মোহাম্মদ আলী ও মনিরের পক্ষে মনির গুরুতর আহত হয়। এসময় মোহাম্মাদ আলীর সঙ্গে থাকা বাইক বিক্রির ২লাখ ১৫হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে জানান। এঘটনায় সেদিনই তিতাস থানায় ৯জনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫জনকে আসামী করে মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী লিটন ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ তুলে আরও জানান, এদিকে এমন ঘটনার পরও ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে নানাভাবে হয়রানীসহ চাঁদাদাবী করে আ’লীগ কর্মী মো. মনির, তার ভাই রাকিবুল হাসান, মুকবুল, জাহাঙ্গীর, ও সাইদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এছাড়াও মনিরের ভাই রাকিবুল হাসান বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা হওয়ার সুবাধে এলাকায় মনির ও তার চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর এলাকায় নানা ভাবে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। তারা পূর্বে আ’লীগের শীর্ষ নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে নানা সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। একের পর এক হামলা ও হত্যার হুমকির ভয়ে লিটন ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। এবিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন।
 অভিযুক্ত মো. মনির বলেন, গত ১৫ তারিখ শুক্রবার আমার এক ফ্রেন্ডের বাবার জানাযা দিতে গ্রামে যাই সেখান থেকে ফিরার পথে আমার উপর লিটন ও তার ভাইয়েরা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মারধর করে হাত পা ভেঙ্গে দেয়। তারা সন্ত্রাসী, খুনি এলাকায় এসে আপনারা খোঁজ নিন। আমার পরিবারের সবাই ঢাকাতে থাকে, চাকরির সুবাদে আমি বাতাকান্দি থাকি। বাড়িতে যাওয়ার সময়ই তো আমরা পাই না, তারা নিজেদের অপরাধ গুলো ঢাকতে আমাদের বিরুদ্ধে এসকল মিথ্যা অভিযোগ গুলো তুলেছেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিতাসে জামিনে এসে বাদীর পরিবারে হামলা, মামলা তুলে নিতে হত্যার হুমকি

আপডেট সময় ০৫:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৪
সাকিব হোসেইনঃ
কুমিল্লার তিতাসে একটি হত্যাচেষ্টা মামলার অভিযুক্তরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে বাদীর পরিবারে হামলা করে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা তুলে না নিলে বাদীকে হত্যা করে তার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দিয়েছে বলেও দাবী করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের বারকাউনিয়া গ্রামে।
অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের বারকাউনিয়া গ্রামের মরহুম আব্দুল জলিলের ছেলে মো. লিটনের সাথে একই গ্রামের বাসিন্দা মরহুম আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. মনির হোসেনের পূর্ব থেকে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মো. লিটনের বাড়ীতে প্রবেশ করে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায় আ’লীগ কর্মী মনির হোসেন গ্রুপ।
এতে লিটন ও তার মাসহ ৪জন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় লিটন বাদী হয়ে তিতাস থানায় ৯জনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত আরো ৩/৪জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলার ৯আসামীর মধ্যে ৪আসামী উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে মনির তার সহযোগীদের নিয়ে লিটনের বাড়িতে গিয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি প্রদান করে। মামলা তুলে না নেয়ায় ফেসবুকে হত্যার হুমকি দিয়ে একাধিক আইডিতে পোষ্ট দেয়। পোষ্টে লিখেন, “এক হাতের বিনিময়ে দশটি হাত, এক সুমনের জীবনের বিনিময়ে পাচটার, বেশি কিছু লিখলাম না”।
তারই জের ধরে গত ১৫ নভেম্বর মামলার বাদী লিটনের চাচাতো ভাই সাকিব আহাম্মেদ ওরফে মোহাম্মদ আলী বাড়িতে ফিরার পথে বারকাউনিয়া পূর্ব পাড়া ব্রিজের উপর মনির ও তার লোকজন মিলে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। এখানে দু’পক্ষে দীর্ঘক্ষণ সংঘাত চলে। এতে বাদী লিটনের পক্ষের মোহাম্মদ আলী ও মনিরের পক্ষে মনির গুরুতর আহত হয়। এসময় মোহাম্মাদ আলীর সঙ্গে থাকা বাইক বিক্রির ২লাখ ১৫হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে জানান। এঘটনায় সেদিনই তিতাস থানায় ৯জনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫জনকে আসামী করে মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী লিটন ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ তুলে আরও জানান, এদিকে এমন ঘটনার পরও ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে নানাভাবে হয়রানীসহ চাঁদাদাবী করে আ’লীগ কর্মী মো. মনির, তার ভাই রাকিবুল হাসান, মুকবুল, জাহাঙ্গীর, ও সাইদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এছাড়াও মনিরের ভাই রাকিবুল হাসান বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা হওয়ার সুবাধে এলাকায় মনির ও তার চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর এলাকায় নানা ভাবে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। তারা পূর্বে আ’লীগের শীর্ষ নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে নানা সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। একের পর এক হামলা ও হত্যার হুমকির ভয়ে লিটন ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। এবিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন।
 অভিযুক্ত মো. মনির বলেন, গত ১৫ তারিখ শুক্রবার আমার এক ফ্রেন্ডের বাবার জানাযা দিতে গ্রামে যাই সেখান থেকে ফিরার পথে আমার উপর লিটন ও তার ভাইয়েরা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মারধর করে হাত পা ভেঙ্গে দেয়। তারা সন্ত্রাসী, খুনি এলাকায় এসে আপনারা খোঁজ নিন। আমার পরিবারের সবাই ঢাকাতে থাকে, চাকরির সুবাদে আমি বাতাকান্দি থাকি। বাড়িতে যাওয়ার সময়ই তো আমরা পাই না, তারা নিজেদের অপরাধ গুলো ঢাকতে আমাদের বিরুদ্ধে এসকল মিথ্যা অভিযোগ গুলো তুলেছেন।