ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাষ্টমীবিহিত পূজা, ব্রতোপবাস ও পুষ্পাঞ্জলি, কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

দেবী দুর্গার ধরাধামে আগমনের পর আজ মহাঅষ্টমী। দুর্গাপূজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ আকর্ষণের এ দিনে মহাষ্টমীবিহিত পূজা, ব্রতোপবাস ও পুষ্পাঞ্জলির পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হচ্ছে কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শত শত ভক্তের উপস্থিতিতে দেবীর মহাঅষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরে ভক্তদের মাঝে মহা প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শাস্ত্রমতে, অষ্টমী ও নবমী তিথির সংযোগস্থলে অসুর বধের বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণ করে সন্ধিপূজা আয়োজন করা হয়, যা দুর্গাপূজার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ।

হিন্দুশাস্ত্রে সাধারণত শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমীর দিনে কুমারী পূজার বিধান রয়েছে। তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী, অনধিক ষোলো বছরের অরজঃস্বলা (অপ্রাপ্তবয়স্ক) কন্যাকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। এই পূজার প্রচলন নিয়ে পৌরাণিক গল্পে রয়েছে বানাসুর বধের ঘটনা। স্বর্গ-মর্ত্য দখলকারী অত্যাচারী বানাসুরের হাত থেকে মুক্তি পেতে দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হলে, দেবী পুনর্জন্মে কুমারীরূপে আবির্ভূত হয়ে বানাসুরকে বধ করেন। সেই থেকে মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন।

কুমারী পূজার জন্য নির্বাচিত কন্যাকে মহাষ্টমীর ভোরে স্নান করিয়ে নতুন বস্ত্র পরিধান করানো হয়। এরপর তাকে সাজিয়ে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দিয়ে আসন গ্রহণ করানো হয়। ষোড়শোপাচারে (ষোলো উপাদানে) দেবীজ্ঞানে তাকে পূজা করা হয়। এ সময় চারদিক শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি ও দেবীর স্তুতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

রাজধানীর পাশাপাশি ঢাকার বাইরেও নানা আয়োজনে মহাঅষ্টমী উদযাপিত হচ্ছে। হবিগঞ্জের রামকৃষ্ণ মিশনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল সোয়া ৯টায় আয়োজিত এ পূজায় দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে ১০ বছর বয়সী কন্যা কৃত্তিকা চক্রবর্তীকে কুমারী রূপে সাজিয়ে আসন গ্রহণ করানো হয়। সকাল থেকেই সেখানে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

মহাষ্টমীবিহিত পূজা, ব্রতোপবাস ও পুষ্পাঞ্জলি, কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজা

আপডেট সময় ০৩:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সিএনএমঃ

দেবী দুর্গার ধরাধামে আগমনের পর আজ মহাঅষ্টমী। দুর্গাপূজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ আকর্ষণের এ দিনে মহাষ্টমীবিহিত পূজা, ব্রতোপবাস ও পুষ্পাঞ্জলির পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হচ্ছে কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শত শত ভক্তের উপস্থিতিতে দেবীর মহাঅষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরে ভক্তদের মাঝে মহা প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শাস্ত্রমতে, অষ্টমী ও নবমী তিথির সংযোগস্থলে অসুর বধের বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণ করে সন্ধিপূজা আয়োজন করা হয়, যা দুর্গাপূজার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ।

হিন্দুশাস্ত্রে সাধারণত শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমীর দিনে কুমারী পূজার বিধান রয়েছে। তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী, অনধিক ষোলো বছরের অরজঃস্বলা (অপ্রাপ্তবয়স্ক) কন্যাকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। এই পূজার প্রচলন নিয়ে পৌরাণিক গল্পে রয়েছে বানাসুর বধের ঘটনা। স্বর্গ-মর্ত্য দখলকারী অত্যাচারী বানাসুরের হাত থেকে মুক্তি পেতে দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হলে, দেবী পুনর্জন্মে কুমারীরূপে আবির্ভূত হয়ে বানাসুরকে বধ করেন। সেই থেকে মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন।

কুমারী পূজার জন্য নির্বাচিত কন্যাকে মহাষ্টমীর ভোরে স্নান করিয়ে নতুন বস্ত্র পরিধান করানো হয়। এরপর তাকে সাজিয়ে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দিয়ে আসন গ্রহণ করানো হয়। ষোড়শোপাচারে (ষোলো উপাদানে) দেবীজ্ঞানে তাকে পূজা করা হয়। এ সময় চারদিক শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি ও দেবীর স্তুতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

রাজধানীর পাশাপাশি ঢাকার বাইরেও নানা আয়োজনে মহাঅষ্টমী উদযাপিত হচ্ছে। হবিগঞ্জের রামকৃষ্ণ মিশনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল সোয়া ৯টায় আয়োজিত এ পূজায় দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে ১০ বছর বয়সী কন্যা কৃত্তিকা চক্রবর্তীকে কুমারী রূপে সাজিয়ে আসন গ্রহণ করানো হয়। সকাল থেকেই সেখানে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা গেছে।