যাত্রাবাড়ি থানা এলাকার সায়েদাবাদে আবাসিক হোটেল গুলোতে জমে উঠেছে নারী ও মাদক কারবার। “হিউম্যান রিসোর্স এন্ড হেলথ ফাউন্ডেশন” নামক সংগঠণের কর্মীগণ তাদের ধারাবাহিক অনুসন্ধানকালে তারা জানতে পারে সায়েদাবাদের বেশ কিছু আবাসিক হোটেলের অর্ন্তরালে পতিতালয় স্থাপন করিয়া অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক কারবার করছে এক শ্রেণির নারী পাচারকারী ও নারী ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে উক্ত সংগঠনের কর্মীগণ দুটি অভিযোগ দায়ের করেছেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে।
১) জোসনা ববি (০১৭৩০-৮৯৪২৫৫,০১৯৭৯-৩২০১২৫) ২) আরিফ, মেবাইলঃ ০১৯১৬০১৩৭৬১ ৩) মিজান- ০১৯১৪৭৫০০২৯,০১৩৩৯৫২০৭৭৩,
৪) রকি ভাই – ০১৪০১০০৪৫৫১,০১৪০১০০৪৫৫১ ৫) ফারুক ভাই (০১৩৩৭৯৯০৫১৭) ৬) বীর ভাই (০১৯৭৬১২৮২৫৯), ৭) বরকত ভাই (০১৮১২২৪২৪৩৮) ৮) মোঃ মানিক( ০১৯১৮৩০৩৫০৪), ০১৭২৪২৯২৩৪৪ ৯) বিজয় ভাই (০১৮৩৭৫০১১০০) ১০) মজনু ভাই (০১৭১২৭৬২১২৯) ১১) কামাল ভাই (০১৬২২৮২১৩৯৭), ১২) ইমন ভাই (০১৩৩৮৬২৪১৮২) ১৩) হীরা ভাই (০১৮৩৬১৩২০৩৫), ১৪) রাজ ভাই (০১৭৯৯৩৪২৯৭০) ১৫) সাদিক ভাই (০১৩১৪৬২৬২৬৩) ১৬) গোল্ডেন (০১৭০৪২২১৩২৫) (০১৭১৫১৩৯৪২৫) ১৭) শাহাদাত ভাই ( ০১৮২০২৩৮৪০৬) ১৮) কাজল ভাই ( ০১৮৪৫৫৩৯৫৭৫), ১৯) পাখি ভাই (০১৩০৬২০৩৩৮৫), ২০) ইমন ভাই (০১৯২৫৩৩৫৬৮১), ২১) দাদন ভাই (০১৯২৮১০৩৮৭৭), ২২) মোঃ আব্দুল হাই, মোবাইলঃ ০১৮১০-১২৭২৮৫, ২৩) মোঃ রুবেল ২৪) মোঃ রাসেল, মোবাইলঃ ০১৩৩১-২৯২৬৭১, ২৫) শান্ত, মোবাইলঃ ০১৮৩৩-৭৫০১৫২, ২৬) মনসুর, মোবাইলঃ ০১৭৫৮-৩৮৯৫৩১।
যাদের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করা যায় নি। এরা হলো ঃ
১। ইদ্রিস, ২। মোঃ তোয়েব ৩। মোঃ মজিবর, ৪। মোঃ বোরহান ৫। মোঃ আলহাজ ৬। মোঃ রাসেল এদের গড ফাদার হিসাবে চিহ্নিত রয়েছে সায়েদাবাদ জাকির টাওয়ারের মালিক মোঃ জাকির। সায়েদাবাদ রেল লাইনে, মিজান আবাসিক হোটেলের মালিক মোঃ মিজান।ডাক ঢোল পিটিয়ে উল্লেখিত হোটেলগুলোকে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক ব্যবসা সহ নানা অপকর্মের আস্তানা বানালেও হোল্ডিং মালিক, হোটেল ভাড়াটিয়া মালিকদের বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা না হওয়ায় ঐ সকল হোটেলের অপকর্ম দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পরেও অদ্য পর্যন্ত হোল্ডিং মালিক বা ভাড়াটিয়া বা কর্মচারী পরিচয়ে পাঁচারকারী দালালদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন মানবাধিকার কর্মীরা। উল্লেখিত বিষয় পুনরায় ডিএমডি, সানমুন, ছায়ানীড়, গোল্ডেন,মিজান, হোটেল রোজ ভিউ এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে তাদের অপকর্ম বন্ধ সহ উল্লেখিত পাঁচারকারীদের গ্রেফতার করার জন্য জনস্বার্থে ন্যায় বিচারের প্রার্থনা করেন।
মানবাধিকার কর্মীরা যে সুপারিশ করেছেন পুলিশের উর্ধ্বতন মহলে
১। ডিএমডি, সানমুন, ছায়ানীড়, গোল্ডেন,মিজান, রোজভিউ আবাসিক হোটেলের নারী ঘটিত অপরাধ কর্ম বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ২। থানা এলাকায় খদ্দের সংগ্রহকারী দালালদের প্রকাশ্যে পথে ঘাটে ভিজিটিং কার্ড বিলিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। ৩। নারী পাচারকারীদের জিম্মি দশায় থাকা নারীদের উপর নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের উদ্ধার পূর্বক পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৪। ডিএমডি, সানমুন, ছায়ানীড়, গোল্ডেন,মিজান, রোজভিউ আবাসিক হোটেলের ভাড়াটিয়া মালিক, বাড়ির মালিক ও কেয়ার টেকার সহ সেখানে অপরাধ কর্মে প্রকাশ্যে ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে আইনের আওতায় আনার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৫। ডিএমডি, সানমুন, ছায়ানীড়, গোল্ডেন,মিজান, রোজভিউ আবাসিক হোটেল ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের পর ঐ হোটেলে লাইসেন্স বিরোধী কোন কার্যক্রম হয় কিনা তাহা দেখভাল কারী সিটি কর্পোরেশন জোনের ইন্সেপেক্টর এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৬। মানব পাচার আইন বিধি মোতাবেক বাড়ির মালিক, আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এছাড়া আবেদনে পরবর্তী পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেছেন
ক) সংস্থার পক্ষে দেশব্যাপী চিহ্নিত নারী পাচারকারীদের আদালতের দারস্থ্য করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
খ) অপরাধীদের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত পূর্বক তালিকা প্রকাশ করা।
গ) ডিএমডি, সানমুন, ছায়ানীড়, গোল্ডেন,মিজান, রোজভিউ আবাসিক হোটেল সহ দেশব্যাপী যে সকল আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট বাসা সহ পতিতালয়ে আটক ও জিম্মি থাকা নারীদের পরিচয় চিহ্নিতপূর্বক উদ্ধার করে তাদের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা।
ঘ) নারীদের কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় জীবিকা নির্বাহে কর্ম ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
ঙ) পথে ঘাটে ভিজিটিং কার্ড বিলি করে খদ্দের সংগ্রহকারী দালালদের চিহ্নিত করে যাবতীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা।
চ) সারাদেশ ব্যাপী নারী পাচারকারী, দালাল, অর্থের যোগানদাতা ও আশ্রয়, প্রশ্রয়দাতাসহ, তাদের সহায়তাকারীদের চিহ্নিত পূর্বক তালিকা প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আদালতের দারস্থ্য হওয়া।
ইতিমধ্যে ইংলিশ মিডিয়ামের দশম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী রোজ ভিউ আবাসিক হোটেলে ধর্ষণের শিকার হয়ে গত ২৪/১০/২০২৫ইং তারিখ গণধর্ষণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
ঐ নারীর মামলা সূত্রে জানা যায়, ঐ নারীর বাড়ি মুন্সিগঞ্জে।
তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন আমি দশম শ্রেণির ছাত্রী। সংসারে অভাব অনটন হওয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি একটি চাকুরীর সন্ধান করিতেছিলাম। এমতাবস্থায় আব্দুল হাই রাজু, ইদ্রিস, মোঃ লিটন বিবাদীগন আমার পরিচিত হওয়ায় তারা আমাকে একটি ক্লিনিকে চাকুরী দেওয়ার আশ^াস দিলে আমি তাদের কথা বিশ^াস করি। এমতাবস্থায় ক্লিনিকের বসের সাথে চাকুরীর কথা বার্তা বলানোর জন্য আমাকে গত ২৩/১০/২০২৫ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার আনুমানিক বেলা ৬ ঘটিকার সময় সায়েদাবাদ জাকির টাওয়ারের ৫ম তলায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমাকে একটি রুমে বসতে দেয় এবং বলে বস আসতেছে আপনি একটু রুমে বসেন। বিবাদীরা একের পর এক রুমে এসে আমার সাথে কথা বার্তা বলে এক পর্যায়ে বিবাদীরা পৃথক ভাবে আমার পাশে খাটের উপরে বসে আমার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাতাহাতি করে। তখন আমি বুঝতে পারি বিবাদীদের উদ্দেশ্য খারাপ। তাই আমি রুম থেকে বের হয়ে যাই। এরি মধ্যে বিবাদীরা আমাকে ঝাপটে ধরে রুমের ভিতরে ঢুকায়। এবং বলে যে তোমাকে আমরা ভালো কাজ দিব। কিন্তু আমাদেরকে একটু সময় দেও। আমি তখন ডাক চিৎকার দিলে বিবাদীরা রুমের দরজার ছিনকানি লাগিয়ে আরিফ, মজিবর, তোয়েব আমাকে ঝাপটে ধরে খাটের উপরে শোয়ায়। অন্যান্য বিবাদীরা টানা হেচড়া করে আমার পরিহিত জামা কাপড় খুলে আমাকে বিভিন্ন ভাবে শারীরিক নির্যাতন পূর্বক আমাকে হত্যা করার ভয়-ভীতি দেখাইয়া বিবাদীরা পৃথকভাবে একের পর এক গণধর্ষণ করে। আর বিবাদীরা তাদের সাথে থাকা মোবাইল ক্যামেরায় আমার ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে এবং তাদের বন্ধু বান্ধবের কাছে পাঠায় বলে আমাকে জানায়। এবং বলে আমি যদি এখানে ডাক চিৎকার করি তাহলে এ ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়ে আমার ও আমার পরিবারের মান সম্মান ক্ষুন্ন করা হবে। এক পর্যায়ে সারারাত আমার উপরে পাশবিক নির্যাতন চলতে থাকা অবস্থায় ভোর বেলা আমি অসুস্থ হয়ে পরলে আনুমানিক ২৪/১০/২০২৫ ইং তারিখ রোজ শুক্রবার সকাল ৮ ঘটিকার সময় আমাকে ঐ ভবন থেকে নামিয়ে দেয়। এক পর্যায় আমার উপর ধর্ষণও নির্যাতনের বিষয়টি আমার আত্মীয় স্বজনকে জানাইয়া থানায় এসে এজাহার দায়ের করি।