রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
"ফটো সাংবাদিক আবশ্যক" দেশের প্রতিটি থানা পর্যায়ে "ক্রাইম নিউজ মিডিয়া" সংবাদ সংস্থায় ১জন রিপোর্টার ও ১জন ফটো সাংবাদিক আবশ্যক। আগ্রহী প্রার্থীরা  যোগাযোগ করুন। ইমেইলঃ cnm24bd@gmail.com ০১৯১১৪০০০৯৫

যাত্রাবাড়িতে দশম শ্রেণির স্কুল পড়ুয়া কিশোরী ধর্ষণের শিকার

  • আপডেট সময় শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৭.১৮ পিএম
  • ২৫৭ বার পড়া হয়েছে

যাত্রাবাড়িতে দশম শ্রেণির স্কুল পড়ুয়া কিশোরী ধর্ষণের শিকার

মোঃ আলমগীর সেলিমঃ

গত ২৪/১০/২০২৫ইং যাত্রাবাড়ি থানায় দশম শ্রেণির স্কুল পড়–য়া এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে ঐ কিশোরী বলেন, আমি দশম শ্রেণির ছাত্রী। সংসারে অভাব অনটন হওয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি একটি চাকুরীর সন্ধান করিতেছিলাম। এমতাবস্থায় মোঃ আব্দুল হাই,মোঃ ইদ্রিস হাওলাদার,মোঃ লিটন এরা আমার পূর্ব পরিচিত হওয়ায় তারা আমাকে একটি ক্লিনিকে চাকুরী দেওয়ার আশ^স দিলে আমি তাদের কথা বিশ্বাস করি।

এমতাবস্থায় ক্লিনিকের বসের সাথে চাকুরীর কথা বার্তা বলানোর জন্য আমাকে গত ২৩/১০/২০২৫ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার আনুমানিক বেলা ৬ ঘটিকার সময় সায়েদাবাদ জাকির টাওয়ারের ৫ম তলায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমাকে একটি রুমে বসতে দেয় এবং বলে বস আসতেছে আপনি একটু রুমে বসেন। এক পর্যায়ে মোঃ আব্দুল হাই, মোঃ ইদ্রিস হাওলাদার,মোঃ লিটন,মোঃ তোয়েব রহমান,মোঃ মজিবর রহমান,মোঃ রুবেল, মোঃ বোরহান, মোঃ আলহাজ
মোঃ রুবেল,মোঃ রাসেল,মোঃ শান্ত,মোঃ আরিফ,মোঃ মনসুর,মোঃ জাকির একের পর এক রুমে এসে আমার সাথে কথা বার্তা বলে এক পর্যায়ে বিবাদীরা পৃথক ভাবে আমার পাশে খাটের উপরে বসে আমার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাতাহাতি করে।

এক পর্যায়ে আমি বুঝতে পারি বিবাদীদের উদ্দেশ্য খারাপ। তাই আমি রুম থেকে বের হয়ে যাই। এরি মধ্যে বিবাদীরা আমাকে ঝাপটে ধরে রুমের ভিতরে ঢুকায়। এবং বলে যে তোমাকে আমরা ভালো কাজ দিব। কিন্তু আমাদেরকে একটু সময় দেও। আমি তখন ডাক চিৎকার দিলে বিবাদীরা রুমের দরজার ছিনকানি লাগিয়ে আরিফ, মজিবর, তোয়েব আমাকে ঝাপটে ধরে খাটের উপরে শোয়ায়।

অন্যান্য বিবাদীরা টানা হেচড়া করে আমার পরিহিত জামা কাপড় খুলে আমাকে বিভিন্ন ভাবে শারীরিক নির্যাতন পূর্বক আমাকে হত্যা করার ভয়-ভীতি দেখাইয়া বিবাদীরা পৃথকভাবে একের পর এক সবাই মিলে গণধর্ষণ করে। আর বিবাদীরা তাদের সাথে থাকা মোবাইল ক্যামেরায় আমার ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে এবং তাদের বন্ধু বান্ধবের কাছে পাঠায় বলে আমাকে জানায়। এবং বলে আমি যদি এখানে ডাক চিৎকার করি তাহলে এ ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়ে আমার ও আমার পরিবারের মান সম্মান ক্ষুন্ন করা হবে।

এক পর্যায়ে সারারাত আমার উপরে পাশবিক নির্যাতন চলতে থাকা অবস্থায় ভোর বেলা আমি অসুস্থ হয়ে পরলে আনুমানিক ২৪/১০/২০২৫ ইং তারিখ রোজ শুক্রবার সকাল ৮ ঘটিকার সময় আমাকে ঐ ভবন থেকে নামিয়ে দেয়। এক পর্যায় আমার উপর ধর্ষণও নির্যাতনের বিষয়টি আমার আত্মীয় স্বজনকে জানাইয়া এবং বিবাদীদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করিয়া থানায় এসে এজাহার দায়ের করিলাম। ধর্ষিতা ভিকটিম ছদ্দনাম (জারা)।

ভিকটিম ক্রাইম নিউজ মিডিয়াকে জানায় ধর্ষণের ঘটনায় আমি যাত্রাবাড়ি থানায় এসে সকাল ১১ ঘটিকার সময় এজাহার লিখে থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের দিলে প্রায় ১০-১২ ঘন্টা চলে গেলেও আমার এজাহারের বিষয় এখনও পর্যন্ত পুলিশ কোন রকম আইনানুগ ব্যবস্থা নেয় নি। আমি অসুস্থ হয়ে থানার চেয়ারে বসে আছি প্রায় ২ দিন যাবত। আমি ২ দিন যাবত আমি অনাহার পুলিশ আমাকে এক গøাস পানি পর্যন্ত দেয় নি।

থানার পুলিশ কর্মকর্তারা আমার জন্ম নিবন্ধন নাম্বার: ২০০৭৫৯১৯৪৭১০১৬৫৫৬, দেখে বলেন, আমাকে বলেন, যে আমার নাকি ১৮ বছর হতে আরো ১ মাস বাকি। তাই আমার এজহার গ্রহণ না করে পুলিশ কর্মকর্তারা নানা তাল বাহানা করছে।

আমি থানায় এজাহার দিতে এসে এখন আমি নিজেই আসামীর মতো বিভিন্ন ভাবে জবাব দিহির শিকার হচ্ছি। আমি পুলিশকে আমার অসুস্থতার চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য বললে প্রায় ১২ ঘন্টা চলে গেলেও আমার চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা করছেন না। পুলিশ উল্টো আমাকে নানা ধরণের হুমকি ধমকি দিয়ে বলে আসামীরা অনেক প্রভাবশালী আমি যেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা না করি।

এমতাবস্থায় এ ভিকটিমকে চিকিৎসা সেবার জন্য ঢাকা মেডিকেল ওসিসি বিভাগে যাত্রাবাড়ি থানার পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করলেও ঘটনার ২৯ ঘন্টা পার হলেও ঘটনাস্থল ৯/এ/৬, সায়েদাবাদ জাকির টাওয়ার, রোজ ভিউ আবাসিক হোটেলে কোন রকম অভিযান চালায় নাই।

ক্রাইম নিউজ মিডিয়ার অনুসন্ধানে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় রোজ ভিউ আবাসিক হোটেলের অর্ন্তরালে ঐ প্রতিষ্ঠানটি একটি মিনি পতিতালয় সেখানে বিভিন্ন মেয়েদের প্রেম ভালোবাসা চাকুরীর প্রলোভনে এনে প্রথমে হোটেল মালিক জাকির হোসেন, ভাড়াটিয়া মালিক আরিফ হোসেন সহ হোটেল কর্মকর্তারা মেয়েদের গণধর্ষণ করে ঐ ধর্ষণের ভিডিও চিত্র যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে গণধর্ষণ করে।

সায়েদাবাদের একাধিক ব্যক্তিরা নাম গোপন রাখা স্বত্তে ক্রাইম নিউজ মিডিয়াকে জানায় মাঝে মধ্যেই ঐ হোটেলে মেয়েদের কান্নার আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়। আবার কোন কোন সময় কোন মেয়ে সেখান থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় ফাঁক বুঝে পালিয়ে দৌড়ে সিড়ি দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। তবে জাকির এক সময় আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে সাহস করত না।

এছাড়া যাত্রাবাড়ি থানায় যখন যে পুলিশ কর্মকর্তারা কর্মরত থাকেন তারা এই রোজ ভিউ আবাসিক হোটেল ও জাকির বাহিনীর গোপণে সহাযোগীতা করে থাকেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বিগত দিনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এ হোটেল সহ সায়েদাবাদের একাধিক হোটেলের অপকর্মের বিরুদ্ধে লিখিত আবেদন করেছে। যাত্রাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ সব কিছু জানার পরেও এখনও পর্যন্ত উক্ত রোজ ভিউ আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে কোন রকম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। থানায় যোগাযোগ করে ধর্ষিতার এজাহারের বিষয়ে মামলা হয়েছে কিনা ক্রাইম নিউজ মিডিয়াকে অফিসার ইনচার্জ, ইন্সেপেক্টর তদন্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা মামলার কোন তথ্য দেন নি।

যাত্রাবাড়ি থানা এলাকায় ঘুরে রিপন নামে এক ব্যক্তির কাছে জানা যায় বিভিন্ন সময় যাত্রাবাড়ি থানা এলাকায় নারী নির্যাতনের নানা ধরণের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা বেশি ঘটে। থানায় অভিযোগ বা এজাহার নিয়া আসলে বেশিরভাগ ভুক্তভোগীকেই নানা অজুহাতে তাল বাহানা করে থানা হতে বের করে দেয়।

পরিচয় গোপন রাখা স্বত্তে অন্য এক ব্যক্তি জানান, মিশু (ছদ্দনাম) নামে ১৪ বছর বয়স্ক তার শালী যাত্রাবাড়ি থানার ধোলাই পার এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয়। ঐ ঘটনায় শালীকে নিয়ে তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ দিলে দুলাভাইকে তাল বাহানা করে থানা পুলিশ কর্মকর্তারা অভিযোগের কোন আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে থানা হতে বের করে দেন। দুলাভাই তার শালীকে নিয়ে সন্ধ্যা হতে সারা রাত থানায় বসে থেকে সকাল বেলা পুলিশের কোন সহযোগিতা না পেয়ে গ্রামে চলে যান।

ক্রাইম নিউজ মিডিয়ার অনুসন্ধানকালে শাহজাহান, কচি, শহিদুল ইসলাম ও হাজী নুরুল ইসলাম জানান যাত্রাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ  ইন্সেপেক্টর তদন্ত, ডেমরা জোনের এসি মিলে যাত্রাবাড়ি ও ডেমরা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্ম চালু করেছে গোপনে অপরাধীদের কাছ হতে মাসে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্দে কেউ কোন প্রতিবাদ করলে যাত্রাবাড়ি ও ডেমরায় উল্টো প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে নানা ফন্দি ফিকির বিভিন্ন অপরাধীদের দিয়ে হয়রানি করে থাকে। এমনকি প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা পর্যন্ত করে। এছাড়া এই তিন জন মিলে থানার ভিতরে সন্ধ্যার পরে ঘুষ গ্রহণের মিটিং চলে। এই দুই থানায় নারী ব্যবসা,মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর বসানো উন্মোক্ত হয়ে গেছে। এ সব কিছুর বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এছাড়া ওয়ারী বিভাগের ডিসি কাছেও সঠিক তথ্য পৌছায় না। ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটলেও উপ-পুলিশ কমিশনার কাছে তাৎক্ষনিক তথ্য পৌছে দিয়ে ঘটনা স্থলের কোন ব্যবস্থা নেন না।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2025
Theme Developed BY ThemesBazar.Com